Watermelon peels benefits : তরমুজ খেয়ে খোসা ফেলবে না , এতে রয়েছে একাধিক গুনাবলি ।

বাজারে যেসব মৌসুমি ফল পাওয়া যাচ্ছে , তার মধ্যে অন্যতম হল তরমুজ । গ্রীষ্মকালে প্রায় মানুষ তরমুজ খায় । এই মৌসুমি তরমুজই সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল বলা চলে । কারণ এটি খেতে যেমন মিষ্টি , তেমনই উপকারী । আর এই ফলের মধ্যে সচেয়ে বেশি পরিমানে জল থাকে , যা শরীরকে জলশূন্যতা থেকে রক্ষা করে । অনেকেই জানেন না , তরমুজের লাল অংশটি ছাড়াও বাকি অংশও খাওয়া যায় । অর্থাৎ , তরমুজের খোসাও বেশ উপকারী এবং দারুণ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ । অনেকেই তরমুজ খেয়ে তার খোসা ফেলে দেয় । আবার কেউ কেউ তরমুজের খাসা খেয়ে থাকেন । তরমুজের খোসা বেশ পুরু হয় । তাই তরমুজের একটি বড় অংশ বাদ দিতে হয় । আর এই খোসাতেই লুকিয়ে একাধিক গুণাবলি ।

শুধু স্বাদের জন্য নয় , নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর তরমুজ , এটি শরীরকে হাইড্রেটেট রাখতে সাহায্য করে । তরমুজের মতো নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান কিন্তু এই অংশে উপস্থিত থাকে । তরমুজের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমানে জল এবং সামান্য ক্যালরি । এছাড়া অল্প পরিমানে হলেও আছে ভিটামিন সি , ভিটামিন এ , বি৬ , পটাসিয়াম , ফাইবার ও জিঙ্ক । আরও আছে অ্যামাইনো অ্যাসিড , লাইকোপেন , ফেনলিক যৌগ , সিট্রালিন , ফ্ল্যাভোনয়েড – সহ আরও নানা পুষ্টি উপাদান । এসব পুষ্টি উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ।

চলুন তরমুজের খোসার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা জেনে নিন ———————————

প্রশার কমায় ঃ প্রেশারের রোগীরা প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়মিত ওষুধ খান । কিন্তু আজকের পর থেকে তারা তরমুজের খোসা খাওয়ার চেষ্টা করুন । কারণ তরমুজের খোসার নির্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ।

এনার্জির ঘাটতি পূরণ করে ঃ তরমুজের খোসায় রয়েছে সিট্রুলাইন নামের এসেনশিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড । আর এই উপাদান এনার্জির ঘাটতি মেটাতে কাজ করে । সেই সঙ্গে এটি রক্তনালি প্রসারন করতেও সাহায্য করে ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ তরমুজের খোসায় রয়েছে ভিটামিন সি । আর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন সি দারুণ কার্যকর । ভিটামিন সি শ্বেত রক্ত কোষের উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সহায়তা করে । এতে শরীর সংক্রমণ হয় না এবং ফ্রি র‍্যাডিক্যাল- এর থেকেও বাঁচতে পারে । ভাইরাসজনিত রোগের সঙ্গে লড়তে খেতে পারেন তরমুজের খোসার সাদা অংশ ।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ঃ তরমুজের খোসায় উপস্থিত সিট্রালিন নামক একধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড । এটি রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে এবং রক্ত- সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে । ফলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমে । এছাড়া সিট্রালিন পুরুসের যৌন সুস্থতার কার্যকারী ভূমিকা রাখে ।

ঘুম ভালো হতে সাহায্য করে ঃ তরমুজের খোসায় জলীয় অংশের পরিমান বেশি থাকায় , এটি দেহের জলশূন্যতা পূরণ করে এবং দেহকে সতেজ রাখার পাশাপাশি খাদ্য দ্রুত হজমেও সাহায্য করে । এতে ঘুম ভালো হয় ।

ওজন কমাতে সাহায্য করে ; তরমুজের খোসায় ক্যালরির পরিমান কম থাকার কারনে ওজন নিয়ন্ত্রনে বেশ ভূমিকা রাখে । এছাড়া তরমুজের খোসা ফাইবার সমৃদ্ধ একটি খাবার । কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে নিয়মিত তরমুজের খোসা খেতে পারেন । এটি কোলেস্টেরল এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতেও কাজ করে । আবার ফাইবারের ঘাটতি মেটাতেও সক্ষম তরমুজের খোসা । তবে , তরমুজের বাইরের সবুজ অংশ খাবেন না , এতে পেটে সমসা দেখা দিতে পারে । লাল অংশের পরে এবং সবুজ অংশের আগে যে সাদা অংশটুকু , সেটি খাবেন ।

কিভাবে তরমুজের খোসা খাওয়া যায় ?

তরমুজের খোসা স্যালাড বা জুস হিসেবে খাওয়া যায় । আবার কাঁচা বা রান্না করে খেতে পারেন । তরমুজের খোসা দিয়ে আচার কিংবা হালুয়া বানিয়েও খেতে পারেন । আবার লাউয়ের মতো ছোট ছোট টুকরো করে ডালের সঙ্গে রান্না করে বা তরকারি হিসেবে রান্না করে খেতে পারেন । এছাড়া , তরমুজের খোসা দিয়ে ডিটক্স ওয়াটার বানিয়ে খেতে পারেন । এর জন্য প্রথমে বোতল ভর্তি জলে তরমুজের খোসার সাদা অংশ টুকরো করে কেটে দিয়ে দিন । এরপর তার মধ্যে পুদিনা পাতা , লেবু বা শসাও দিয়ে সারারাত এভাবে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে এই পানীয়টি খেতে পারেন ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top