ভারত গ্রীষ্মকাল দেশ । এ দেশে সূর্যালোকের কোনও অভাব নেই । আর সূর্যরশ্মিই থেকেই ভিটামিন ডি আসে । কিন্তু এরপরও দেশের ৭০ শতাংশ বাসিন্দা ভিটামিন ডি -এর অভাবে ভোগেন । ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজগুলোকে আরও ভাল ভাবে শোষণ করতে সাহায্য করে । তাই বিশেষজ্ঞরা বলেন যে এই ভিটামিনের ঘাটতি নিয়ে সতর্ক থাকতে, আট থেকে আশিকে । এতে হাড় মজবুত হয় , মস্তিস্কের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে । এখানে কয়েকটি খাবার রয়েছে যা শরীরে পুষ্টির শোষণ উন্নত করতে এবং প্রাকৃতিক ভাবে ভিটামিন ডি -এর মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে ।

দুধঃ দুধে রয়েছে ক্যালসিয়াম ,ফসফরাস । হাড়ের স্বাস্থ্য বাড়ায় , অন্যান্য পুষ্টির প্রয়োজনও মেটায় । প্রকৃতপক্ষে ,দুধ ভিটামিন ডি-র একটি ভাল উৎস যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে ।

ডিমঃ স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ডিমের উপকারিতা অনেক । প্রচুর পরিমানে প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম থাকায় , প্রতিদিন খাবারের তালিকায় অবশ্যই ডিম রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা । পাশাপাশি ভিটামিন ডি -এর ঘাটতিও পূরণ করে । ডিম খেতে সুস্বাদুও আর রান্না করাও সহজ ।

দইঃ দই অত্যন্ত উপকারী একটি খাবার । এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমানে ভিটামিন ডি । এ ছাড়াও এই খাবারে রয়েছে অনেকটা পরিমাণে ক্যালসিয়াম । তাই তো হাড়ের জোর বাড়াতে চাইলে পাতে দই রাখতেই হবে । তবে , বাড়িতে টকদই বানিয়ে খেলেই মিলবে উপকার । দুধ দিয়ে তৈরি হলেও দই হজম হয় তাড়াতাড়ি । ত্বক ,চুল এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হিসেবে নিয়মিত দই খাওয়া দরকার ।

মাশরুমঃ মাশরুম ভিটামিন ডি -এর অন্যতম বড় এবং সমৃদ্ধ উৎস । ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে আসা মাত্র ভিটামিন ডি২ সংশ্লেষিত করতে পারে । তবে , প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মাশরুমের তুলনায় বানিজ্যিক ভাবে তৈরি মাশরুমে ভিটামিন ডি -এর পরিমাণ কম । এই খাবারে ফ্যাটের পরিমাণ খুব কম থাকে । তার পাশাপাশি ,উচ্চ পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ । তাই মাশরুম থাকুক রোজকার খাবারের তালিকায় ।

পালং শাকঃ এই শাকে ভরপুর মাত্রায় ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম থাকে । তাই রোজের ডায়েটে বিভিন্ন ভাবে পালং শাক রাখতে পারেন । এক কাপ রান্না করা পালং শাক দৈনিক প্রস্তাবিত ভিটামিন ডি গ্রহণের প্রায় ৬ শতাংশ থাকে ।

ওটসঃ যে কোনও দানাশস্যে ভাল মাত্রায় ভিটামিন ডি থাকে । রোজের ডায়েটে ওটস রাখতে পারেন । প্রাতরাশে দুধ – ওটস খেতে পারেন । এতে কাঠবাদাম , খেজুর , আখরোট দিতে পারলে আরও ভাল । শুকনো ফলও ভিটামিন ডি-র উৎস । তা ছাড়া ওটসের খিচুড়ি , পুডিং , কুকিজও খেতে পারেন ।

মাছঃ তেলাপিয়ার মতো তেল যুক্ত মাছ ভিটামিন ডি – এর ভাল উৎস । এই মাছ রোজের ডায়েটে রাখলে ক্যালসিয়াম ও ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি মেটে । হাড়ের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে এই মাছ খাদ্যতালিকায় রাখতেই হবে ।

সোয়াবিনঃ সোয়াবিনকে অনেকেই মাংসের সঙ্গে তুলনা করেন । সোয়াবিন শুধু মাংসের মতো খেতেই সুস্বাদু নয় , উপকারিতাতেও কম যায় না সোয়াবিন । ভিটামিন ডি -এ ঠাসা সোয়াবিন শরীরের জন্য দারুণ উপকারী ।

এই প্রতিবেদনটি কেবল মাত্র সাধারন জ্ঞানের জন্য প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন ।