Thyroid control tips : থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণ করবেন কি ভাবে ।

গলার পরের অংশ অবস্থিত থাইরয়েড গ্রন্থিকে বলা হয় নীরব ঘাতক । থাইরয়েড গ্রন্থি বিপাক , শক্তি উতপাদন এবং বিভিন্ন শারীরিক ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । তার আগে জানিয়ে রাখা ভালো , এর বিকারের সময় জানা যায় না ফলে সময় মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে । থাইরয়েড গ্রন্থি সঠিকভাবে কাজ না করলে হরমোনাল গ্রন্থিগুলো এর দ্বারা প্রভাবিত হয় । আর থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ কম বেশি হলে তা আমাদের শরীরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে । যদি অনিয়ম জীবনযাপন এবং খাদ্য পান করেন তাহলে থাইরয়েডের সমস্যার কারণ হতে পারে ।

থাইরয়েড একটি গুরুত্বর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে , বিশেষ করে নারীদের মধ্যে । থাইরয়েড গ্রন্থিটি আমাদের গলার শ্বাসনালির সাম্নের দিকে অবস্থিত । এই গ্রন্থি থেকে দুধরনের হরমোন নিঃসরিত হয় , যেমন – ১, টি থ্রি ২, টি ফোর । আমাদের শরীরের রক্তে একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকে এই হরমোন । থাইরয়েডের সমস্যা প্রধানত দুধরনের হয় । প্রথমটি হল , হাইপারথাইরয়েডিজমে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায় । আর অন্যটি হল হাইপোথাইরয়েডিজমে রক্তে থাইরয়েড নিঃসৃত হরমোনের পরিমাণ কমে জায় । থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত হলে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে থাকে না ওজন । এছাড়া , ত্বক হয়ে ওঠে জৌলুসহীন এবং চুল অকালেই ঝরে পড়ে , । থাইরয়েড জটিলতার কারণ হিসাবে অটোইমিউন বা দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটিকে দায়ী করা হয় ।

কিছু কিছু খাবার থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে । থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা বাড়াতে আয়োডিন , জিঙ্ক , কপার , অ্যালগি , আয়নের মতো কয়েকটি উপকারী উপাদানের মাত্রা শরীরে বেশি হওয়া প্রয়োজন । তেমনি কিছু কিছু খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো । তাহলে আসুন জেনেনি থাইরয়েড বশে রাখতে কোন খাবার গুলি খাওয়া ভালো আর কোন খাওয়া গুলি এড়িয়ে চলা ভালো ।

থাইরয়েড বশে রাখতে যেসব খাবার খাওয়া উচিত —-

আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার ঃ থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য আয়োডিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । তাই খাদ্যতালিকায় আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার যোগ করুন । আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার গুলি হল – সামুদ্রিক মাছ ( যেমন – মাছ , চিংড়ি এবং সামুদ্রিক শৈবাল ) , দুগদ্ধজাত খাবার ( যেমন – দই , পনির এবং দই ) এবং ডিম ।

কপার যুক্ত খবার ঃ থাইরয়েড রোগীদের জন্য কপার যুক্ত খাবার খুব উপকারী । কারণ এর ফলে থাইরয়েড গ্রন্থির ক্রিয়াক্ষমতা বৃদ্ধি পায় । এমন কিছু খাবার রয়েছে যাতে প্রচুর পরিমাণে কপার থাকে । যেমন – কাজু বাদাম , সূর্যমুখীর বীজ এবং বাদাম । বাদাম এবং বীজ হল দস্তা , ম্যাসেসিয়াম এবং সেলেনিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ শান্তির উন্নয়নঘন খাবার , যা সবই থাইরয়েড ফাংশন অংশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।

সবুজ পাতাযুক্ত শাক ঃ থাইরয়েড রোগীদের জন্য সবুজ পাতাযুক্ত শাক সব থেকে ভালো খাবার । যেমন – কালে এবং পালং শাক । এই সবজিতে অমূল্য ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে এবং গনেসিয়াম সহ থাইরয়েড ফাংশনকে সমর্থন করে ।

ডার্ক চকলেট ঃ ডার্ক চকলেট ফাইবার , ক্যালশিয়াম , পটাসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , তামা সমৃদ্ধি । এছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট যা বিষাক্ত এবং স্ট্রেস দ্বারা উৎপাদিত ফ্রি র্যাডিকেল দ্বারা সৃষ্ট সেলুলার ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে ।

আস্ত শস্যদানা ঃ থাইরয়েড রোগীদের জন্য গোটা শস্য বিশেষ প্রয়োজন । গোটা শস্যের মধ্যে রয়েছে কিছু খাদ্য শস্য । যেমন – ওটস , পাস্তা , কুইনো , ব্রাউন রাইস এবং পুরো গমের রুটির মতো গোটা শস্য । এই খাদ্য গুলি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করতে সাহায্য করার সময় ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে ।

আমলকী ঃ আমলকীতে রয়েছে আট গুন বেশি ভিটামিন সি । যা রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়ায় । তাই নিয়মিত আমলকী খাওয়ার অভ্যাস থাইরয়েডজনিত সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ।

মুগ ডাল ঃ মুগ ডালে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এবং খনিজ , প্রোটিন , অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , জটিল কার্বোহাইড্রেট । এছাড়া ডালে ফাইবারের পরিমাণও বেশি । তাই ফাইবারজাতীয় খাবার খেলে থাইরয়েড থেকে সহজেই সমাধান পাওয়া যায় ।

নারকেল ঃ থাইরয়েড রোগীদের জন্য অন্যতম কার্যকর খাবার হল নারকেল বা ডাব । নারকেল বিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করে । যার ফলে খাবার ভালোভাবে হজম হয় । এটি থাইরয়েড নিরাময়ে একটি মহৌষধ ।

থাইরয়েড রোগীদের সেসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত —-

থাইরয়েড রোগীদের উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত উচ্চ প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত । অতিরিক্ত আয়োডিন সমৃদ্ধ লবণ ও অন্যান্য লবণাক্ত খাবার । যেমন – চিপস , চালাচুর । তেমন কিছু সবজি আছে যা এড়িয়ে চলা ভালো । যেমন – শালগম , বাঁধাকপি , ব্রাসেলস স্প্রাউট ইত্যাদি । কিছু পানীয় রয়েছে , যেমন – এলকোহল , কফি , চা । ভাজা খাবার থাইরয়েড রোগীদের জন্য অস্বাস্থ্যকর খাবার কারণ এতে প্রচুর মাখন , মেয়োনিজ , মার্জারিন এবং প্রাণীজ চর্বি থাকে । গ্লুটেন সমৃদ্ধ খাবার যেমন – সাদা আটা -ময়দার সব ধরনের খাবার , সয়া মিল্ক , সয়া সস , সয়াবিন , টফু ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top