অপ্রচলিত ছোট একটি জাতীয় ফল নোর বা অড়বড়ই । দেখতে অনেকটা আমলকীর মতো কিন্তু আকারে বেশ ছোট । ফলটির গায়ে খাঁজ কাঁটা থাকে এবং দেখতে অনেকটা তারার মত । তবে এই ফলটি বিভিন্ন নামে পরিচিত । যেমন – লবণী , নইল , নোয়াল , ফলসা , ফরফরি , নলতা । পশ্চিমবঙ্গের কোন কোন স্থানে একে নোর বা শিল্যেও বলা হয় । এর ইংরেজি নাম হল star gooseberry । পৃথিবীর অনেক স্থানে এই গাছ লাগানো হয় সৌন্দর্য – বৃক্ষ হিসেবে । নোর ফল গাছে মার্চ – এপ্রিল মাসে গোলাপি রঙের থোকা থোকা ফুল ফোটে । আর এই ফল আগস্টের শেষ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ফল সংগ্রহণ করা হয় ।

নোর ফল ঝাল – নুন দিয়ে মাখিয়ে খেতে ভীষণ মজা লাগে । এছাড়া এই ফল দিয়ে জুস , জেলি , চাটনি , আচার ইত্যাদি তইরি করা হয় । এটি অপ্রচলিত হলেও এর রয়েছে নানান রকম পুষ্টিগুন । গাছের নীচ থেকে জটলা পাকিয়ে থাকার এই সৌন্দর্য -টুকু কাড়ে । দেশের সব এলাকায় বাড়ির আশেপাশে ও রাস্তার ধারে এই গাছ চোখে পড়ে , অনেকে এটা দিয়ে চমৎকার টক রান্না করে বা ভর্তা তৈরি করে খান । এই ফলটির রয়েছে অনেক ঔষধি গুন । টক স্বাদের ফলের মধ্যে অন্যতম নোর ফল প্রচুর ভিটামিন – সি সমৃদ্ধ একটি ফল ।

এই ফলে প্রচুর জল থাকে । এছাড়া অড়বরইয়ের রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ , ভিটামিন বি , ডি , পটাশিয়াম , আয়রন , ফাইবার , ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , ফসফরাস । নোর ফলের রস ভিনেগার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় । দিন দিন হারিয়ে যাওয়া দেশি ফলের চাহিদা বেড়েই চলেছে । কারণ মানুষ বুঝতে পেরেছে , দেশি এসব ফল দামে যেমন কম তেমনই পুষ্টিগুণে বিদেশী দামি ফলের থেকে কম নয় ।
নোর ফলের উপকারিতা ঃ
১। এই ফলে কোনো ক্যালোরি নেই । তাই টক স্বাদের এই ফলটি ওজন কমাতে বেশ কার্যকর । যারা শরীরের অধিক ওজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা নোয়াল ফলটি খেতে পারেন । অনেকে টক ফল খেতে চান না । ভিটামিন সি সমৃদ্ধ অনেক ফলই কিন্তু টক স্বাদের হয়ে থাকে । আর টক জাতীয় সকল ফল আমাদের খাবার তাড়াতাড়ি হজমে সাহায্য করে । এই ফলটি খাবার হজমে সাহায্য করার পাশাপাশি রক্তের চর্বি কাটে এবং দ্রুত ক্ষুধা বাড়ায় ।

২। এই ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকার ফলে এটি রোগ প্রতিরোধ খমতা বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে রোগ থেকে রক্ষা করে । এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ।
৩। এতে থাকা ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্য উন্নতি করে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নতি ঘটায় । এতে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । এছাড়াএছাড়া , এটি ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ হওয়ায় হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে ।
৪। এতে রয়েছে ভিটামিন সি ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে । এটি ত্বককে উজ্জ্বল করে এবং বলিরেখা কমাতে সাহায্য করে ।
৫। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এই ফলটি খুবই উপকারী । ফলটি সরাসরি বাজুস বানিয়ে খেতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা ।