শাক আলু , অন্যান্য আলুর থেকে আলাদা তার সোনালি রঙ এবং মিষ্টি স্বাদের জন্য খুব জনপ্রিয় । এটি প্রাকৃতিক ভাবে গাঢ় সোনালি বা হ্লুদ রঙ ধারন করে , যা একে আলাদা এবং আকর্ষণীয় করে তোলে । শাক আলু সাধারণত আলু গাছেরই এক বিশেষ প্রকারভেদ , যা প্রচুর পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী । শাক আলু একটি মূল জাতীয় ফল যা রসালো , কচকচে এবং মিষ্টি । মাটির নীচে হওয়া এই সাদা ফলটি অনেকেই খেতে ভালোবাসেন । বিভিন্ন অঞ্চলে শাক আলু চাষ করা হয় । আমরা অনেকেই এই আলুর সাথে পরিচিত হলেও এর উপকারিতা ও পুস্তীগুণ সম্পর্কে জানা নেই ।
শাক আলু খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর । এতে হাজারও পুষ্টিগুণ ও ভিটামিন রয়েছে , যা নিমিশেই শরীরে সমস্ত রোগ দূর করতে সক্ষম । শাক আলু অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাদ্য । এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি , এ , ভিটামিন বি৬ , পটাসিয়াম , ক্যালসিয়াম , আয়রন, প্রোটিন , ম্যাঙ্গানিজ , ফাইবার , ফসফরাস এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট থাকে । তাই এখন থেকে নিয়মিত একটা করে শাক আলু খাওয়ার অভ্যাস করুন । শাক আলু ডায়াবেটিসের রোগীরা কিন্তু নির্ভয়ে খেতে পারেন । এছাড়া শাক আলু শারীরিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ওষুধের মতো কাজ করে । শাক আলু সুস্বাদু হওয়ার পাশাপাশি এটি ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । তাই নিয়মিত একটি করে শাক আলু খেলে তা ত্বক সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে ।
এবার জানা যাক শাক আলু খেলে কি কি স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায় ——————–
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ শাক আলুতে উপস্থিত ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে , যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এটি সর্দি – কাশি এবং ভাইরাস সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । নিয়মিত শাক আলু খাওয়ার অভ্যাস করুন , এতে করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে । ফলে শরীর থেকে বিভিন্ন প্রকার রোগ দূর হবে ।
অ্যানিমিয়ার সমস্যা দূর করে ঃ এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন , যা শরীরে প্রয়োজনীয় হিমোগ্লোবিনের জোগান দেয় এবং অ্যানিমিয়ার মতো সমস্যা থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে । তাই শরীরে রক্তের পরিমাণ ঠিক রাখতে শাক আলু খাওয়া খুব উপকারী ।
হজমের সমস্যা দূর করে ঃ শাক আলু হজমের সমস্যা দূর করতে বেশ উপকারী । শাক আলু একটি উচ্চ ফাইবার যুক্ত খাবার , যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে । শাক আলুতে থাকা ফাইবার শরীর থেকে বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে । অনেক সময় পেট ব্যথা কমাতে সাহায্য করে । এছাড়া পেট সংক্রান্ত যে কোন সমস্যাকে দূর করতে সক্ষম । দীর্ঘদিন থেকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে থাকলে পরবর্তী সময়ে আলসারের মতো রোগ দেখা দিতে পারে । তাই আলসারের সমস্যা দূর করতে নিয়মিত শাক আলু খেতে হবে ।
এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে ঃ শাক আলু এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে । এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে । সেই সঙ্গে অক্সিজেনকে শরীরের সব দিকে ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে । প্রতিদিন সকালে একটি অথবা দুটি করে শাক আলু খাওয়ার ফলে সারাদিন কাজে প্রচুর এনার্জি পাবেন ।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন রাখে ঃ এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে । এর মধ্যে থাকা পটাসিয়াম এবং ফাইবার রক্তে শর্করার স্তর নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । শাক আলু শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে । এছাড়া শাক আলুতে যথেষ্ট পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে । এটি ব্লাড সুগার লেভেলকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে । তাই দায়াবেতিস রগিদের জন্য শাক আলু খুবই উপকারী ।
ওজন কমাতে সাহায্য ঃ শাক আলু ওজন কমাতে ভীষণ ভাবে সাহায্য করে । এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার , যা অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরিয়ে রাখে । ফলে বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায় । এটি সাধারণত ওজন কমাতে বা শরীরের ভর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে । যারা ওজন কমাতে চান তারা খাদ্যতালিকায় এটি রাখতে পারেন ।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে ঃ শাক আলুতে প্রচুর পরিমানে রয়েছে পটাসিয়াম । এই উপাদানটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর । ফলে হার্টও সুস্থ থাকে । উচ্চ রক্তচাপ হার্টের জন্য একদম ভালো নয় । তাই হার্টকে সুস্থ রাখতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন ।
ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করে ঃ শাক আলু রয়েছে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট উপাদান , যা ত্বক ও চুলের জন্য উপকারী । শাক আলু নিয়মিত খেলে ত্বক উজ্জ্বল হতে পারে এবং চুল পড়া কমাতে সাহায্য করতে পারে । এটি ত্বককে সুরক্ষিত রাখে এবং চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করে ।
হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে ঃ শাক আলুতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস হাড়ের শক্তি এবং ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে । এটি অষ্টিওপোরোসিস বা হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য ।