roti : রুটি খেলে মিলবে অনেক উপকার ।

আমরা খাদ্যতালিকায় ভাতের সাথে যে খাবারটি সব সময়ই প্রায় রাখি তা হলো রুটি । ভাতের পরেই রুটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাবারের মধ্যে অন্যতম পুষ্টিকর খাদ্য । রুটির প্রধান উপাদান আটায় থাকে । রুটি আমাদের খাবারে এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ । সকালের খাবারে হোক , দুপুরের খাবারে হোক বা রাতের খাবারে রুটি খাওয়া হয়েই থাকে । কেউ কেউ সবজির সঙ্গে আবার কেউ ডাল দিয়ে রুটি খেতে পছন্দ করে । এই সব জিনিস থেকে শরীর বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান পায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখে । সাদা ময়দার চেয়ে গমের লাল আটার রুটি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী ।

গমে উপস্থিত গ্লুটেন এক ধরনের প্রোটিন যা সাধারন মানুষের জন্য কোনও ভাবেই ক্ষতিকর নয় । তবে এটি সেই সমস্ত মানুষ এড়িয়ে চলবেন যারা কিছু গুরুতর অসুস্থতার ভুগছেন এবং যাঁদের ডাক্তার গ্লুটেন জাতীয় খাবার খেতে বারণ করেছেন । গম অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর । এতে আছে ভিটামিন বি১ , বি২ , বি৩ , বি৬ এবং ভিটামিন বি৯ , ভিটামিন ই । এছাড়া গমে ক্যালসিয়াম , আয়রন , প্রোটিন , ফাইবার , পটাশিয়াম , জিঙ্ক , ফসফরাস , সোডিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , কার্বোহাইড্রেট , সেলেনিয়ামের মতো একাধিক জরুরি পুষ্টি উপাদান থাকে যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । গমের রুটি খেলে শরীরের জন্য অনেক উপকার হয় , যেমন – হজমে সাহায্য করে , কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় , শরীরে শক্তি যোগায় । তাই ইচ্ছে থাকলে নিয়মিত রুটি খেতেই পারেন । তাতে সুস্থ থাকার পথ প্রশস্ত হবে ।

তবে এক দিন খেলে হবে না , প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রুটি রাখতে হবে । এটি খেলে মিলবে আরও অনেক উপকার । চলুন জেনে নেওয়া যাক ——–

শরীরের ক্লান্তি দূর হয় ঃ সকালের জলখাবারে রুটি খেলে সারাদিন শরীরে এনার্জি পাওয়া যায় ভরপুর । গমের রুটি খেলে শরীরে কার্বোহাইড্রেটের ঘাটতি দূর হয় । এই কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়ার মতো সমস্যা নিমেষে দূরে পালায় । এমনকি মন – মেজাজও চাঙ্গা হয়ে ওঠে । তাই সারাদিন ক্লান্তিহীন থাকতে চাইলে নিয়মিত গমের তৈরি রুটি খেতে পারেন ।

চোখ ভালো রাখে ঃ গমের তৈরি রুটিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ই এবং জিঙ্ক রয়েছে । এই উপাদান গুলো চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে । তাই দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে গমের তৈরি রুটি খেতে পারেন । নিয়মিত গমের রুটি খেলে চোখে ছানি পড়ার ভয় থাকে না । পাশাপাশি দৃষ্টিশক্তি অনেকটাই উন্নত হয় ।

হজম ক্ষমতা বাড়ায় ঃ গমের তৈরি রুটিতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে যা আমাদের শরীরের হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় । ফলে বদহজম , গ্যাস , বুক জ্বালার মতো শারীরিক সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি পাওয়া জায় । এছাড়া নিয়মিত গমের রুটি খেলে শরীরে ফাইবারের মাত্রা বৃদ্ধি পায় । ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য মতো রোগ দূরে থাকে ।

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে ঃ গমের তৈরি রুটিতে প্রচুর ফাইবার থাকে । ফলে এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে । যার কারণে ক্ষিদে কম অনুভুত হয় । ফলে ঘন ঘন খাবার খাওয়ার দরকার হয় না । যেহেতু রুটিতে ফ্যাট থাকে না তাই রুটি খেলে ফ্যাট অর্থাৎ চর্বি হওয়ার সম্ভবনা কমে ও চর্বি কমাতেও সাহায্য করে । ফলে রুটি খেলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি হয় না এবং শরীর ফিট থাকে ।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে ঃ গমের রুটি ম্যাগনেসিয়ামের একটি ভালো উৎস , যা সুস্থ রক্তচাপের মাত্রা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ । এছাড়া গমের রুটিতে থাকা ভিটামিন ই , ফাইবার এবং সেলেনিয়াম শরীরে ক্যান্সারের কোষ জন্ম নিতে দেয় না । সেই সঙ্গে টিউমারের সম্ভাবনা কমায় ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ঃ গমের রুটিতে আছে ম্যাগনেসিয়াম , যা শরীরে প্রবেশ করা মাত্রই ৩০০ রকমের উপকারী এনজাইমের ক্ষরণ বেড়ে যায় , এই কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে । ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি উপকারী , কারণ জটিলতা এড়াতে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিবিড় ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । এছাড়া গমের রুটিতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স নামক উপাদান কম থাকায় রক্তে সুগারের মাত্রা ঠিক থাকে , যা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী ।

ত্বকের উজ্জলতা বৃদ্ধি পায় ঃ গমের রুটিতে থাকা জিঙ্ক ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা রাখে । নিয়মিত গমের তৈরি রুটি খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা দ্রুত বৃদ্ধি পাবে । তাই ত্বক উজ্জ্বল ও সুন্দর রাখার জন্য গমের তৈরি রুটি খেতে পারেন ।

অন্যান্য রোগের আশঙ্কা কমায় ঃ রুটি খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায় । ফলে হার্ট অ্যাটাক , স্ট্রোকের মতো মারাত্মক রোগের আশঙ্কা অনেক কমে যায় ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top