pointed gourd for health : এটি একটি মরশুমি সবজি । খেলেই ফল পাবেন ।

আমাদের অনেক সুপরিচিত সবজি হল পটল । সাধারনত এই সবজি গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায় । এছাড়া প্রায় সারা বছরই বাজারে কম বেশি পটল পেয়ে থাকি । পটলকে ইংরেজিতে pointed gourd বা parwal বলা হয় । জনপ্রিয় সবজির মধ্যে পটল অন্যতম । আমাদের দেশের রান্নাঘরে প্রায়ই দেখা যায় পটল । গরমের দিনে পটলের হালকা তেল ঝাল অনেকেরই পছন্দ । পাঁচ মিশালি তরকারিতে গরমে পটল দেওয়া হয় । আবার অনেক বাড়িতে পটল সামান্য পেকে গেলে , পটল পোড়া করে কাসুন্দি দিয়ে মেখে খাওয়ার রীতি রয়েছে । এই সবজি অনেকেই খেতে চান না । তবে এই সবজি কিন্তু সুপারফুড । আবার অনেকেই আছেন , যারা ভাজা হোক বা ভর্তা পটল খেতে ভালোবাসেন । যারা নিয়মিত খাদ্যতালিকায় পটলের তৈরি পদ রাখেন , তারা অজান্তেই শরীরের অনেক বড় উপকার করছেন ।

পটল দিয়ে বানানো অনেক সবজি আমরা খেয়ে থাকি, যা খেতে অনেক সুস্বাদু । যেমন – পটল ইলিশ , পটল পোস্ত , পটলের ভর্তা , পটল ভাজা , পটলের দোরমা । এই সবজিটি শুধু সুস্বাদুই নয় , এতে প্রচুর পুষ্টিগুণও রয়েছে । এটা একটি পুষ্টিকর খাদ্য । এতে রয়েছে ভিটামিন এ , ভিটামিন বি১ , ভিটামিন বি২ , ভিটামিন সি , ক্যালসিয়াম , ফাইবার , ম্যাগনেসিয়াম , প্রোটিন , শর্করা , ফসফরাস , পটাসিয়াম । এছাড়া পটলে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং ক্যালোরির পরিমাণ কম থাকে । বেশির ভাগ মানুষের কাছে এই পটল অনেক অপছন্দের একটা সবজি । কিন্তু এই সবজি নিয়মিত খেলে এমন এমন কিছু উপকার পেতে পারি যার জন্য আমরা লাখ টাকা খরচ করতেও রাজি থাকি । যে ভাবেই হোক পটল খেলে বিভিন্ন রোগ সারবে ।

এবার জেনে নিন পটলে কি কি স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে —-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ পটলে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ , বি১ ,বি২ , সি , পটাসিয়াম , ম্যাগনেসিয়ামের মতো উপাদান । যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ।

রক্ত পরিস্কার রাখে ঃ রক্ত পরিস্কার রাখতে পটলের জুড়ি মেলা ভার । পটল রক্তকে বিষাক্ত পদার্থ থেকে পরিষ্কার করে এবং রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রাখে ।

হজমের উন্নতি ঘটায় ঃ পাচনতন্ত্রের জন্য পটল উপকারী । খিদে ও হজম প্রক্রিয়ার উন্নতিতে সাহায্য করে পটল । এই সবজিতে ভালো পরিমানে ফাইবার থাকে , যা খাদ্য হজমে সাহায্য করে । এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা সমাধানে এবং লিভারের সাথে সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানেও সাহায্য করে । এছাড়া , পটলের মধ্যে রয়েছে আলসার প্রতিরোধী প্রভাব , যা পাকস্থলীতে আলসার থেকে দূরে রাখতে সাহাজ্য করে ।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় ঃ পটলে থাকা ফাইবার অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । এছাড়া , কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে পটলের বীজ অন্যন্ত কার্যকরী । যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত পটলের তরকারি খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মিলতে পারে ।

ওজন নিয়ন্ত্রনে থাকে ঃ ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য পটল একটি আদর্শ বিকল্প । এই সবজির মধ্যে ক্যালোরি নেই বললেই চলে এবং ফাইবারের পরিমান বেশি । যা আমাদের অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে পটল । স্থুলতা এবং ওজন বৃদ্ধির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে পটল । তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছেন , তার পটল খেতে পারেন ।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে ঃ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে করতে সাহায্য করে পটল । রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়লে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে । এই কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে পটল । পাশাপাশি ভালো কোলেস্টেরলেরও মাত্রাও বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে পটল । এতে সহজেই এড়ানো যায় হার্টের সমস্যাও ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে ঃ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পটল খাওয়া খুবই উপকারী । পটলের মধ্যে উচ্চ পরিমানে ফাইবার রয়েছে । আর এই ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে । এছাড়া পটলের মধ্যে আছে হাইপারগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্য । যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top