শীতকাল এখন শেষের মুখে তাও বহু বাড়িতে বাগান জুড়ে ছেয়ে রয়েছে গাঁদা ফুল । এই ফুল যেমন বাড়ির বাগানের শোভা বাড়ায় তেমনই আবার পুজোতেও কাজে লাগে । কেবল বাগানের শোভা বাড়াতেই নয় বরং বহু থেকেই হ্লুদের কনে সাজাতে এই ফুলের ব্যবহার দেখা যায় । এছাড়া স্টেজ সাজাতে কিংবা অথিতিকে বরণ করতে গাঁদা ফুলের পাপড়ি ছড়ানোর অলিখিত নিয়ম বেশ পুরনো । গাঁদা ফুলের বিভিন্ন জাত এবং রঙ থাকলেও আমাদের দেশে উজ্জ্বল হলুদ আর গাঢ় কমলা রঙ বেশি লক্ষ্য করা যায় । এটি সাধারণত গাঁদা নামে পরিচিত এবং মালা হিসেবে ব্যবহার করা হয় । যদিও এটি কোনও সুগদ্ধি ফুল নয় , তবে পোকামাকড় তাড়াতে পারে বলে এটি মালা হিসেবে পছন্দ করা হয়ে থাকে ।

গাঁদা ফুল হল গুল্মজাতীয় বর্ষজীবী উদ্ভিদ । এর প্রায় ৫৬ টি প্রজাতি আছে । এই ফুল আপনার রূপকে সাজাতেও যথেষ্ট কার্যকরী । শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয় , গাঁদা ফুল ও পাতার মধ্যেও ঔষধি গুনও রয়েছে অনেক , যা আমাদের বাহ্যিক রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে । পাশাপাশি গাঁদা ফুলের অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে । জানেন কি , এই ফুল আমাদের নানা ত্বকের সমসা দূর করতেও একদম ওস্তাদ । গাঁদা ফুল নানা রোগের সাথে লড়াই করে । যাকে এক কথায় বলে মহৌষধ । প্রাচীনকালে যখন কোনও ওষুধের প্রচলন ছিল না তখন ভেষজ ও ফুল -পাতার রস রোগ নিরাময়ের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হত ।

গাঁদা ফুল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ । এই ফুলে থাকা ভিটামিন এ , ভিটামিন বি , মিনারেলস এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট -ধর্মী উপাদান । গাঁদা ফুলের পাতা দিয়ে অনেক ধরনের রোগের চিকিৎসা করা হয় । শুধু তাই নয় , এই ফুল চুল পড়া , খুশকি , মাথার ত্বকে ফাঙ্গাস , দাদ , চুলকানি এবং খোস – পাঁচড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে । গাঁদা ফুল ব্যথা থেকে শুরু করে ক্ষত সারানো সব কিছুতেই দারুণ উপকারী । আবার এটি ত্বকের ঘরোয়া উপায় প্রতিকার হিসেবেও ব্যবহার করা হয় । যেমন – রোদে পোড়া , কোনও পোকার কামড় , আঁচিল এবং ব্রন উপশম করতে এই ফুলে ব্যবহার করা যেতে পারে ।
গাঁদা ফুলের উপকারিতা —-

প্রদাহ কমাতে কার্যকর ঃ গাঁদা ফুলের পাতায় সাইটোটাক্সিক , হেপাটোপ্রোটেকটিভ এবং স্প্যাসমোজেনিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে । এই বৈশিষ্ট্যগুলি ত্বকের প্রদাহ কমাতে কার্যকর । আলসার , গ্যাস্ট্রাইটিস এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের চিকিৎসার জন্য অন্ত্যন্ত উপকারী গাঁদা দিয়ে তৈরি চা । শরীরে কোনও ধরনের ফোলাভাব দেখা দিলে চা বা গাঁদা পাতার রস ব্যবহার করতে পারেন ।
মুক্ত র্যাদিক্যালের ক্ষতি কমায় ঃ এই ফুলে বেশ কিছু সক্রিয় রাসায়নিক থাকে যা র্যাডিক্যাল দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কোষের সংখ্যা কমাতে সহায়ক । একই সাথে গাঁদা ফুল ত্বকের ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে ।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃগাঁদা ফুলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে । শরীরকে টিউমার থেকে রক্ষা করে এটি ।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ঃ এটি অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট সমৃদ্ধ । গাঁদা ফুলে রয়েছে ফ্যাভনয়েড নামক উপাদান । এই উপাদান মানবদেহের ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিহত করতে সক্ষম ।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করে ঃ গাঁদা ফুল মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে খুব কার্যকরী । গাঁদা ফুল শুকিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে নিন । তারপর সেই ছাই দিয়ে নিয়মিত দাঁত মাজলে দাঁতের গোঁরা শক্ত হয় এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করে । মুখের ঘা সারায় ।
রক্তক্ষরণ বন্ধ করা ঃ শরীরে কোনও ধরনের ক্ষত থাকলে ও আঘাত পেলে এবং অবিরত রক্তপাত হতে থাকলে গাঁদা গাছের পাতার রস ক্ষতস্থানে লাগালে , ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে ।

ত্বকের নানা সমস্যা দূর করে ঃ গাঁদা ফুলের রস ত্বকের নানান সমস্যা মেটাতে সাহায্য করে । নিয়মিত গাঁদা ফুলের চা খেলে মুখের ব্রণ দূর হয় এবং ত্বক মসৃণ করতে সাহায্য করে । গাঁদা ফুলের পাতার রস ফোড়া ও ব্রন দূর সাহায্য করে । তার জন্য ময়দার মধ্যে গাঁদা পাতার রস মিশিয়ে ভাল করে মিশিয়ে ফোড়াতে লাগান । সপ্তাহে দু-দিন এটি লাগালেই ফোড়া এবং ব্রণ নিরাময়ে হয়ে যাবে । গাঁদা ফুল প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক হিসাবে কাজ করে । রোদে পোড়া ত্বকে গাঁদা ফুলের রস লাগালে কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্বালাভাব বন্ধ হয়ে যায় ত্বকও ধীরে ধীরে শীতল হয় । এই ফুল ত্বকের ট্যান তুলতে সাহায্য করে এবং ত্বকের শুষ্কতার সমস্যা মেটাতেও সাহায্য করে ।