বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষ ও মহিলাদের কোলেস্টেরলের সমস্যা বাড়তে শুরু করে । সময় মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা ভয়ঙ্কর রোগ সৃষ্টি করতে পারে । খাবার নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বেড়ে যায় কোলেস্টেরল । হাই – কোলেস্টেরল শরীর বহু রোগের কারণ । এর আধিক্যের কারণে স্ট্রোক , হার্ট অ্যাটাক , ডায়াবেটিস এবং রক্তচাপের মতো প্রাণঘাতী রোগের শিকার হতে পারেন । মানবদেহে কোলেস্টেরলকে হরমোন এবং ভিটামিন ডি তৈরির জন্য ব্যবহার করে , সেই সাথে হজমে সাহায্য করে । কোলেস্টেরল লিভার দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং মাংস ,দুগ্ধ এবং হাঁস – মুরগির মতো খাবার থেকে শরীর দ্বারা প্রাপ্ত হয় । যদি একজন ব্যক্তি অতিরিক্ত পরিমাণে এই খাবারগুলি খেয়ে থাকে , তাহলে তাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে ।

কোলেস্টেরল নামক একটি মোমজাতীয় পদার্থ তৈরিতে লিভার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । কোলেস্টেরল তিন ‘ ধরনের হয় , ১। কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন ( LDL কোলেস্টেরল ) , ২। ঊচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন ( HDL কোলেস্টেরল ) , ৩। খুব কম ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন ( VLDL কোলেস্টেরল ) । বিভিন্ন খাবার বিভিন্ন উপায় কোলেস্টেরল কমায় । চলো এবার এমন কিছু খাবারের সম্পর্কে আমরা জেনে নি ।

লাউয়ের রস ঃ লাউঘণ্টা খাননি এমন কোন বাঙালি নেই । লাউয়ের মধ্যে জল থাকে প্রায় ৯৮% । হজম সংক্রান্ত সমস্যা সারাতে লাউ খুবই সহায়ক । লাউয়ের রস খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে । শরীরে কোলেস্টেরলও কমায় । তাই তরকারি তো বটেই লাউ কোলেস্টেরল কমাতেও কার্যকর ।

আমলার জুস ঃ আমলার ফল খাওয়া আপনার ক্ষতিকারক কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে পারে । এই প্রাকৃতিক প্রতিকারটি উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে । আমলা ফল আপনার শরীরের কোষের মেরামত এবং বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে ।

রসুন ঃ গবেষণায় দেখা গেছে যে কাঁচা রসুন খাওয়া হার্টের স্বাস্থ্যকে ভালো ভাবে প্রভাবিত করতে পারে । তবে প্রতিদিন কাঁচা রসুন খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন থাকুন । রসুন এলডিএল কোলেস্টেরল ( যাকে প্রায়ই ”খারাপ” কোলেস্টেরল বলা হয় ) এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করতে পারে । প্রতিদিন প্রায় অর্ধেক থেকে এক কোয়া রসুন খাওয়ার সাথে কোলেস্টেরলের মাত্রা প্রায় ১০% কমানোর সাথে জড়িত ।

রেড ওয়াইন ঃ পরিমিত অ্যালকোহল খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে ইতিবাচক ভাবে প্রভাবিত করতে পারে । বিশেষ করে , লাল ওয়াইনে পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে যা LDL মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে । যারা অ্যালকোহল পছন্দ করেন না তাদের জন্য আঙ্গুরের রস একই রকম হৃদয় -স্বাস্থ্যকর সুবিধা দিতে পারে ।

অ্যাভোকাডো ঃ মনোস্যাচুরেটড ফ্যাট অ্যাভোকাডোতে উপস্থিত থাকে , এক ধরনের চর্বি যা ভাল স্বাস্থ্যের প্রচার করে । অন্যদিকে , স্যাচুরেটেড ফ্যাট কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে এবং একজন ব্যক্তির কার্ডিওভাসকুলার রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায় ।

ডার্ক চকলেট ঃ ডার্ক চকলেট অনেকগুলি স্বাস্থ্য সুবিধা দিতে পারে । যেমন হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিস , রক্ত জমাট বাঁধা , স্মৃতিশক্তি বাড়ায় , কোলেস্টেরল কমায় এবং এমনকি নির্দিষ্ট ধরণের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে ।

ধনে বীজ দিয়ে জল পান করুণ ঃ ধনে বীজের সাথে জল খাওয়া রক্তচাপ হ্রাস করে এবং এইচডিএল ( ভাল) কোলেস্টেরল বৃদ্ধি করার সাথে সাথে এলডিএল ( খারাপ ) কোলেস্টেরল কমিয়ে আপনার হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকার করতে পারে । গবেষণায় দেখা গেছে যে মশলা সমৃদ্ধ খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাসের সাথে যুক্ত হতে পারে ।

বিটের রস ঃ বিট হল গাছের মূল । যা স্যালাড হিসাবে খান অনেকে । এটি ত্বককে উজ্জ্বল করতেও ব্যবহৃত হয় । প্রতিদিন বিটের রস খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে । এই রস খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে না । এতে বিবিধ গুণাগুণ পাওয়া যায় । যেমন – অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , অ্যান্টি – ইনফ্লেমেটরি , ফসফরাস , ভিটামিন বি ইত্যাদি ।

অ্যালোভেরার রস ঃ অ্যালোভেরার রস স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয় । খেতে একটু তেতো মনে হলেও অ্যালোভেরার জুস অনেক রোগ সারাতে সক্ষম । ফেস জেল , ফেস ওয়াস , অ্যালোভেরা প্যাকেজ জুস তৈরি করতে অ্যালোভেরা ব্যবহার করছে বহুজাতিক সংস্থাগুলি । এর ব্যবহারে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যায় । অ্যালোভেরা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে । উচ্চ কোলেস্টেরল কমাতেও কার্যকর ।

চর্বিযুক্ত মাছ ঃ ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ফ্যাটি মাছে প্রচুর পরিমাণে থাকে এবং আপনার স্বাস্থ্যের জন্য বিস্ময়কর কাজ করতে পারে । চর্বিযুক্ত মাছ যেমন স্যামন , ম্যাকেরেল , সার্ডিনস , পিলচার্ড , হেরিং , সার্ডিন ইত্যাদিতে রয়েছে ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা রক্তের প্রবাহে এলডিএল – কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করে এবং অ্যাটিপিকাল হার্টের ঘটনা রোধ করে হার্টকে রক্ষা করতে সাহায্য করে । সপ্তাহে অন্তত দুই বা তিনবার তৈলাক্ত মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো । যদিও তাজা মাছ অত্যন্ত সুপারিশ করা হয় , টিনজাত বা সংরক্ষিত মাছও উদ্দেশ্যটি পূরণ করে ।

করলার রস ঃ করলা অনেকেরই অপছন্দের সবজি । করলায় রয়েছে অনেক পুষ্টিগুন । এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার , ভিটামিন এ , ভিটামিন কে , ভিটামিন ই রয়েছে । ত্বক উজ্জ্বল করার জন্যও অনেকে করলার রস খান । উচ্চ কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলেও অব্যর্থ করলার রস । প্রতিদিন এক গ্লাস করলার জুস খান ।