হ্লুদ , এই মশলাটির গুরুত্ব অপরিসীম আমাদের দেশ । হলুদ হলো একটি মহৌষধ যা শরীর সুস্থ রাখার জন্য খাওয়া অত্যন্ত উপকারী । এই মশলাটি শুধু রান্নার কাজে ব্যবহার হয় না বরং সুন্দর ত্বক পেতে এটি ব্যবহার করা হয় । আমাদের সুস্থ থাকার চাবিকাঠি হল কাঁচা হলুদ । একটি ভেষজ উপাদান হল কাঁচা হলুদ । স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী কাঁচা হ্লুদ । কেউ খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ খান , আবার কেউ কেউ গরম জলে হ্লুদের গুঁড়ো মিশিয়ে খান অনেক । প্রতিদিন সকালে এক টুকরো কাঁচা হ্লুদ খাওয়ার ফলে ছোট – বড় অসুখের আশঙ্কা কম । স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর হলুদের জুড়ি মেলা ভার । কাঁচা হলুদ খাওয়ার ফলে রক্ত পরিস্কার রাখে এবং সেই সাথে রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতাও বাড়ায় । কাঁচা হলুদ সকালে ঘুম থেকে উঠে খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং খাবার ঠিক মতো হজম হয় ।

সঠিক ভাবে এই কাঁচা হ্লুদ খেতে পারলে আপনার শরীর থেকে বাত , পিত্ত এবং কফ দূর করতে সাহায্য করে । কাঁচা হ্লুদ কোন বড় ধরনের রোগ শরীরে ঘেসতে পারবে না । কাঁচা হলুদে প্রচুর পরিমানে রয়েছে ভিটামিন সি , ফাইবার , পটাসিয়াম , ভিটামিন বি৬ , ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি । এছাড়া কাঁচা হ্লুদে রয়েছে কারকিউমিন নামক রাসায়নিক , যা বিভিন্ন রোগের হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে । কাঁচা হ্লুদ খেলে আপনার শরীর থেকে বড় বড় সব ধরনের রোগ দূর করা সম্ভব । হলুদে কারকিউমিন অ্যান্টি ইনফ্লোইমেটেরি ও এন্টি অক্সিডেণ্ট উপাদান থাকায় তা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে খাদ্যনালীকে বাঁচায় ।
আমরা প্রতিদিনে যে খাবার খেয়ে থাকি তার মধ্যে অনেক নানা রকমের জীবাণু থেকে যেতে পারে । সেই দিক থেকে খাবারের কাঁচা হলুদ বা গুঁড়ো হলুদ ব্যবহার করলে তা খাদ্যনালীকে ক্ষতিকারক জীবাণু সংক্রমণ থেকে বাঁচায় এবং খাদ্যনালীর প্রদাহের সম্ভাবনা কমায় । বহু প্রাচীনকাল থেকে হাড়ের নানা রকম রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়ে আসছে হলুদের । আবার হাত বা পা মচকে গেলে চুন ও হলুদ একসাথে মিশিয়ে লাগানোর ব্যবহার করা হয় । এছাড়া ভাঙা হাড়ের জায়গায় একটু কাঁচা হলুদ বেটে লাগালে উপকার মিলবে ।

হলুদের সাথে গোলমরিচ খেলে উপকারিতা মেলে কয়েক গুন বেশি । হ্লুদ এবং গোলমরিচ এই দুই উপাদানই শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী । কিন্তু এই দুই উপকারী মশলা আলাদাভাবে না খেয়ে একসাথে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় । কারণ , হ্লুদে থাকা কারকিউমিন উপাদান নিজে থেকে শরীরে ভালোভাবে মিশে যেতে পারে না । যা গোলমরিচের সাথে কারকিউমিন রক্ত শরীরে মিশে যায় । এই দুই উপকারী মশলা একসাথে রান্নার কাজে ব্যবহার করলে অসুখ- বিসুখ মোকাবিলায় কাজ করতে পারে । হলুদ ও গোলমরিচ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে । রোজ সকালে খালি পেটে গরম জলে হলুদ , গোলমরিচ এবং আদা খেলে মেটাবলিজাম বাড়ে । নিয়ম করে এক টুকরো কাঁচা হ্লুদের সাথে গোলমরিচ খেলে ত্বক , ইমিউনিটি থেকে শুরু করে , হার্ট ,স্নায়ু এবং লিভারও ভালো থাকে ।

হ্লুদ এবং গোলমরিচ ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়তে পারে । হ্লুদের মধ্যে থাকা কারকিউমিন ক্যান্সারের ক্ষতি করতে সাহায্য করে । বিশেষ করে স্তন ক্যান্সারের বাধায় হলুদের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ । কোলেস্টেরল কমাতে হ্লুদের ভুমিকা রয়েছে । নিয়মিত কাঁচা হ্লুদ খেলে হার্ট ব্লকেজ দূর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে । সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাঁচা হ্লুদ জুড়ি মেলা ভার । শুধু সুগার নয় , মেদ কমাতে , হার্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত কাঁচা হ্লুদ খেতে পারেন ।
কাঁচা হ্লুদের আয়ুর্বেদিক গুন রয়েছে । যেমন – রোজ সকালে অল্প মধু দিয়ে হ্লুদ খাওয়া , কাঁচা হ্লুদ মুখে লাগানো । এতে মুখের লাবণ্য বজায় থাকে এবং লাবণ্য বাড়েও । ঋতু পরিবর্তনের সময় , বিশেষ করে গরম থেকে শীত বা শীত থেকে গরম পড়ার সময় অল্প মধু বা গুড় দিয়ে কাঁচা হ্লুদ খেলে সেটা আমাদের সর্দি – কাশির অ্যান্টিসেপটিকের কাজ করে । সাধারণ পেটের গোলমাল হলে হালকা করে কাঁচা হ্লুদের ব্যবহার করলে পেটের সমস্যায় উপশম ঘটায় । হ্লুদ পরিপাকতন্ত্রের কর্মক্ষমতা বাড়ায় । এটি ত্বকের বলিরেখা , বয়সের ছাপ দূর করে । মুখের তেলতেলে ভাব নিয়ন্ত্রণ করে এবং ত্বককে ব্রণের হাত থেকে বাঁচায় । কাঁচা হ্লুদ অস্থির স্বাস্থ্য উন্নতি করতে সাহায্য করতে পারে ।

আলঝাইমার একটি জটিল অসুখ । এই রোগে আক্রান্ত রোগীর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে । এই জটিল অসুখ প্রতিরোধের কাজেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কাঁচা হ্লুদ । রোজ সকালে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ খেলে ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় উপকার মিলবে ।