Health Tips ( sojne pata ) : শরীরের জন্য খুব উপকারি একটি পাতা , যা রাস্তার পাশে অযত্নে বেড়ে ওঠে ।

গ্রাম বাংলার উপকারী গাছ পাতার মধ্যে অন্যতম হল সজনে পাতা । গ্রামে গঞ্জে বাড়ির পাশে রাস্তার ধারে বা পুকুর পাড়ে বেশি দেখা যায় এই গাছ । সজনে গাছের পাতাকে বলা হয় অলৌকিক পাতা । এটি সর্বোচ্চ সরকারীকরণ হার্ব । সজনে আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় সবজি । এর বৈজ্ঞানিক নাম হল Moring oleifera । সজনের পাশাপাশি সজনে পাতারও অনেক উপকারিতা রয়েছে । এই উপকারী পাতা খুব সহজ উপায়ে নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে । সজনে পাতার গুঁড়োকে মরিঙ্গা পাউডার বলা হয়ে থাকে , যা সুপারফুড হিসাবে বেশ জনপ্রিয় । সহজ উপায়ে বা বিনা পয়সায় এই পাতা ব্যবহার করে কম সংখ্যক মানুষ । বর্তমান সময়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় সজনে পাতা ব্যবহারের পরিবর্তে , বাজার থেকে মরিঙ্গা পাউডার চড়া দামে কিনে মানুষ ব্যবহার করছে উপকার পেতে ।

সজনে পাতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ ও ভিটামিন । সজনে পাতায় পটাশিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , আয়রন , ক্যালসিয়াম , ভিটামিন এ , ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে । এছাড়া , এতে কার্বোহাইড্রেট , প্রোটিন এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে । এসব উপাদানে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে । বিশেষ করে সজনে পাতান শরীরের জন্য খুব উপকারী । সজনে পাতায় অনেকগুলো পুষ্টি একসঙ্গে থাকার কারণে এটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে । এই পাতা জ্বর , ডায়াবেটিস , ম্যালেরিয়া , উচ্চ রক্তচাপ-সহ অন্যান্য অনেক রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে ।

তাহলে জেনে নেওয়া যাক , নিয়মিত সজনে পাতা খেলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায় —

১। সজনে পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং আইসোথিয়োকাইনেটস নামের উপাদান রয়েছে । যা রক্তে সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে । বিশেষ করে সজনে পাতার চা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আদর্শ । এই পাতার মধ্যে ফাইটোকেমিক্যাল নামের একটি যৌগ থাকে , যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ।

২। সজনে পাতায় রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি , যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বেশ কার্যকর । বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় বিভিন্ন রোগের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেটে সজনে পাতা , ফুল এবং ফল খাওয়া অত্যন্ত উপকারি । এছাড়া , এতে থাকা ভিটামিন সি শ্বেত রক্তকণিকা উৎপাদনে সাহায্য করে । যা সংক্রমণ ও রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে ।

৩। হাঁপানি শ্বাসনালী সংকোচন এবং শ্বাসনালীতে প্রদাহ প্রতিরোধ করতে পারে এই পাতা । এছাড়া সজনে পাতায় বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ রয়েছে যা ইনসুলিন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে সাহায্য করে । সজনে পাতায় থাকা আয়রন রক্তশূন্যতা দূর করে । শাকের তুলনায় পচিশ গুন বেশি আয়রন র‍য়েছে এই পাতায় । এতে কলা থাকে তিন গুন বেশি পটাশিয়াম রয়েছে । শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতে এই সজনে পাতা দারুণ উপকারী ।

৪। ফ্যাটি লিভার ডিজিজ থেকে লিভারকে রক্ষা করতে সাহায্য করে সজনে পাতা । কিডনিতে খনিজ তৈরি এবং পাথর তৈরি করা বন্ধ করতে সাহায্য করে এই পাতা । এই পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং অ্যান্টি – ইনফ্লেমেটরি উপাদান রয়েছে , যা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য ভালো রাখে । তাছাড়া সজনে পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট বিটা ক্যারোটিন রয়েছে , যা চোখের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং চোখের রোগ প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য ।

৫। এই পাতায় রয়েছে ভিটামিন এ , যা স্বাস্থ্যকর ত্বকের জন্য কার্যকর পুষ্টি উপাদান । এই উদ্ভিদটিতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ব্রন এবং অন্যান্য ত্বকের সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারে । সজনে পাতা পেটের কিছু রোগের চিকিৎসা করতে পারে । এটি নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায় । এই পাতায় এমন যৌগ রয়েছে যা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে , যা হার্টের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য ।

৬। সজনে পাতা ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস । যা হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে । এমনকি অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে । এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে এবং অন্ত্রের জন্য উপকারি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ।এই সজনে পাতায় প্রদাহবিরোধী পদার্থ থাকে । এটি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে । সজনে পাতায় এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে । যেমন আতে রয়েছে নিয়াজিমিসিন । এটি এমন একটি যৌগ যা ক্যানসারের কোষের বিকাশকে দমন করে । এছাড়া , গ্যাস্ট্রিক আলসারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে সজনে পাতে ।

এবার জেনে নেওয়া যাক , সজনে পাতা কিভাবে খাবেন —

এই পাতা শাকের মতো ভেজে খাওয়া যেতে পারে বা সেদ্ধ করে ভর্তা করে খাওয়া যেতে পারে । তবে রান্ন আকরে খেলে অনেকাংশে ভিটামিন সি কমে যায় । ব্লেড করে জুস হিসেবে খাওয়া যেতে পারে । প্রাকৃতিক ভাবে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে খাওয়া যেতে পারে । এছাড়া চায়ের মধ্যে দিয়ে খাওয়া যেতে পারে ।

তবে জেনে রাখা দরকার , কোনো কিছুই অতিরিক্ত খাওয়া শরীরের জন্য ভালো নয় । তাই সজনে পাতা , রস বা গুঁড়া নিয়মিত একদম খাওয়া উচিত নয় । বরং একটু বিরতি দিয়ে খাওয়া ভালো । যেমন -১০-১৫ দিন খাওয়ার পর কিছুদিন বিরতি দিয়ে খেলে ভালো হয় ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top