Health Tips: হাই ব্লাড প্রেসার রোগীদের জন্য কয়েকটি ফল সম্পর্কে কিছু তথ্য ।

হাই ব্লাড প্রেসার হল নীরব ঘাতক বা সাইলেট কিলার । এই রোগকে বশে না রাখলে প্রাথমিক ভাবে হয়তো তেমন কোনও সমস্যার কথা অনুধাবন করাই সম্ভব হবে না । কিন্তু তলে তলে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ থেকে শুরু করে হার্টের অসুখ , স্ট্রোক সহ একাধিক প্রানঘাতী রোগের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা বাড়বে । তাই কোনো প্রকারে হাইপারটেনশনকে বাগে আনতে হবে । আর এই কাজে সাফল্য পেতে চাইলে পাতে রাখুন অত্যন্ত উপকারী কয়েকটি ফল । আজকাল শুধু বয়স্ক মানুষই নয় , যে কোনও বয়সী মানুসের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা দেখা যায় ।

অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যাচ্ছে । উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না রাখলে অনেক বিপদজ্জনক রোগের আশঙ্কা থাকে । যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন , তাদের খাবারের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত । খাবারে সোডিয়ামের কম ব্যবহার করা উচিত । এছাড়া বেশি ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে । উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে কয়েকটি ফলের নাম হল- আপেল , আঙ্গুর , কলা , জাম , পেয়ারা , কমলালেবু , কিউই , বেদানা , তরমুজ ইত্যাদি । উচ্চ ফাইবার , অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং খনিজ উপাদান ( যেমন পটাশিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম ) থাকার কারণে ফলগুলি উচ্চ রক্তচাপ সহ কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । সমস্ত ফলের বেশ কিছু স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ফলগুলি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল ।

কিউই ঃ কিউইতে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম , পটাশিয়াম , ভিটামিন সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় । যা রক্তচাপ কমাতে পারে । উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের খাদ্যতালিকায় এই ফলটি রাখতে পারেন । এটি এই রোগে আরও কার্যকর বলে মনে করা হয় ।

আঙ্গুর ঃ ফল হিসেবে আঙ্গুর অত্যন্ত দারুণ কাজ করে । একে তো এর স্বাদে মজে আট থেকে আশি । ঠিক তেমনই নিয়মিত খেলে বিভিন্ন রোগের সঙ্গে প্রেসার থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে । আঙ্গুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল ,যা প্রেসার কমাতে সাহায্য করে । আঙ্গুরে উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে যা প্রদাহ কমিয়ে রক্তনালীগুলির কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য পারে এবং আপনার হৃদয়কে উচ্চ রক্তচাপ থেকে রক্ষা করতে পারে । এছাড়া , আঙ্গুর হাইড্রেটিং এবং কম – ক্যালোরি স্ন্যাক বিকল্প ।

আপেল ঃ আপেলে দ্রবণীয় ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে যা রক্তনালীর স্বাস্থ্যের উন্নতি করে । নিয়মিত আপেল খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হার্ট অ্যাটাক অন্যান কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে । আপেল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সুবিধাজনক এবং স্বাস্থ্যকর ফল ।

তরমুজ ঃ ব্লাড প্রেশার রোগীদের জন্য এই ফলটি খুবই উপকারী । কারণ , এই ফলে রয়েছে ভিটামিন সি , পটাসিয়াম , ফোলেট এবং ফাইবারের ভাণ্ডার । আর এই সমস্ত উপাদান রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজেই একাই একশো । তাই হাই প্রেসার বশে রাখতে হলে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ফলটি ।

কলা ঃ কলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম পাওয়া যায় , যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য উপকারী । এছাড়া এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার , ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে । যা কিনা ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণের শ্রেষ্ঠ ওষুধ । শুধু তাই নয় , এতে মজুত অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টও রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রন করার কাজে বিশেষ ভূমিকা পালন করে । তাই তো হাই ব্লাড প্রেশার রোগীদের রোজ একটা করে কলা খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা ।

জাম ঃজামজাতীয় ফল খেলেও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে । কারণ , এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট । জাম শুধু উচ্চ রক্তচাপ কমায় তাই নয় , মানসিক চাপও কম রাখে । জামে থাকা খনিজ আরও রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে ।

পেয়ারা ঃ পেয়ারা এমন একটি ফল যা অবিশ্বাস্য ভাবে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ । পেয়ারাতে ক্যারোটিনয়েড এবং পলিফেনল আকারে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে , যা মুক্ত র‍্যাডিক্যাল ক্ষতি থেকে হৃদপিণ্ডকে রক্ষা করতে পারে । উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য পেয়ারার বীজ খুবই উপকারী । কারণ , পেয়ারার বীজে রয়েছে পটাশিয়াম , যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন করতে সহায়তা করে । পেয়ারার বীজ খাওয়ার ফলে রক্ত সঞ্চালনা আরও ভালো হয় এবং উচ্চ রক্তচাপ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায় ।

বেরি ঃ এই ফলের দাম যেমন বেশি , তেমনই এর গুনও অনেক । তাই তো নিয়মিত বেরি জাতীয় ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা । বেরিতে অ্যান্থোসায়ানিন নামক একটি উপাদান পাওয়া যায় , এটি এক ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড । যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ।

কমলালেবু ঃ এই ফল হাই ব্লাড প্রেশারের সেরা ওষুধ । কমলালেবুতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় । উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় এটি কার্যকর । শুধু তাই নয় , এতে মজুত ফাইবার এবং পটাশিয়াম ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার কাজেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।

বেদানা ঃ ব্লাড প্রেসার এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কাজেই একাই একশো হল বেদানা । রক্তনালীর স্বাস্থ্য ফেরাতে এবং রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার কাজেও এই ফলের জুড়ি মেলা ভার । তাই হাইপারটেনশন নিয়ে সুস্থ – সবল জীবনযাপন করার ইচ্ছে থাকলে দ্রুত সম্ভব এই ফলটি ডায়েটে রাখুন । তবে মনে রাখবেন , ব্লাড প্রেসারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এই ফলের রস করে খাওয়া চলবে না । অতএব, বেদানার দানা চিবিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুণ , তাতেই উপকার পাবেন হাতেনাতে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top