লিভার হল শরীরের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ । যা আমাদের রক্ত পরিশোধন , বর্জ্য পদার্থ অপসারণ এবং পুষ্টি সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে । মানবদেহের বৃহত্তম গ্রন্থি হিসেবে লিভার একজনকে ভালো এবং জীবিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ কার্য সম্পাদন করে । লিভার প্রধান ডিটক্সফাইং অঙ্গ যা ভিটামিন এবং আয়রন সঞ্চয় করতে সাহায্য করে , টক্সিন গুলিকে জলে দ্রবণীয় আকারে রূপান্তর করে এবং শরীর থেকে বের করে দেয় । এই কারণেই মানুস বহু রোগ থেকে বাঁচতে পারে । লিভার একটি স্টোরেজ অঙ্গ হিসাবেও কাজ করে । কারণ এটি গ্লাইকোজেন আকারে গ্লুকোজ সঞ্চয় করতে সাহায্য করে , যা জরুরি সময়ে ব্যবহৃত হয় ।

আমাদের পরিপাকতন্ত্রের স্বাস্থ্য মূলত লিভারের উপর নির্ভর করে । লিভারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল ক্ষতিকারক পদার্থ থেকে মুক্তি পেতে রক্তকে ডিটক্সিফাই করা । অন্ত্র এবং পাকস্থলী থেকে রক্ত আপনার লিভারের মধ্য দিয়ে যায় । আর লিভারের কাজ হল রক্ত প্রক্রিয়াজাত করে পুষ্টি তৈরি করা । লিভার যেমন শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে , তেমনই যে কোনও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে , অতিরিক্ত বিলিরুবিন নিয়ন্ত্রণে রাখা , রক্তে অ্যামাইনো অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা , ব্যাকটেরিয়া পরিস্কার করা , রক্ত জমাট বাঁধতে না দেওয়ার মতো এসব কাজও করে । তাই লিভারের যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজনীয় ।
লিভারের কোনও রকম সমস্যা হলে সেখান থেকে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে । লিভারের কোন সমস্যা হলে সেখান থেকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে । যেমন – কিডনির সমস্যা , মলের সঙ্গে রক্তপাত , মলের রং পরিবর্তন , হজমে সমস্যা হওয়া , বমি বমি ভাব , অনিদ্রার মত গুরুত্বর সমস্যা । আবার কোনও খাবারই হজম হয় না উপরন্ত রক্তে টক্সিনের পরিমাণ রাড়তে থাকে । আর এই ময়লা লিভারের ক্ষতি করে , তাই সব সময় লিভার পরিস্কার রাখতে হবে । এছাড়া অনিয়মিত খাবার , দূষণ এবং লাইফস্টাইলের কারণে লিভারে বিষাক্ত পদার্থ জমে যেতে পারে । এই সমস্যা দূর করতে পারে কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার । ভিটামিন এ , ভিটামিন বি এবং সি -এর সাথে ম্যাগনেসিয়াম , জিঙ্ক , ক্যালশিয়াম এবং সেলেনিয়ামের মতো খনিজ পদার্থের মিশ্রণ ডিটক্সিফিকেশন এবং লিভারকে সমর্থন করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।
আসুন জেনে নেওয়া যাক লিভারের ময়লা পরিস্কার করতে প্রয়োজনীয় খাবার গুলি —

গ্রিন টি ঃ বছরের পর বছর ধরে ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে গ্রিন টি । প্রতিদিন গ্রিন টি খাওয়ার সাথে রক্তে মার্কাররে উন্নতির সম্পর্ক রয়েছে । গ্রিন টিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে জন্য যা লিভার পরিস্কার রাখতে ভূমিকা রাখে । এটি লিভারের ফ্যাট জমতে বাধা দেয় । এছাড়া হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে গ্রিন টি । এটি আপনার শরীরকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং নির্দিষ্ট ধরনের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে ।

লেবু বা লেবুর জল ঃ লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি , যা লিভারকে ডিটক্স করতে সাহায্য করে । সকালে খালি পেটে লেবুর জল খেলে লিভার থেকে টক্সিন বের হতে পারে । এছাড়া লেবুতে এমন অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট থাকে যা লিভারের প্রদাহ কমায় ।
রসুন ঃ রসুনের মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়ানাশক গুন । রসুন সালফার এবং সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ । রসুনে প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন উপাদান রয়েছে , যা লিভারকে কার্যকর ভাবে পরিস্কার করতে সাহায্য করে । রসুন লিভারে এনজাইম উৎপাদন বাড়ায় , যা ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে । রসুন লিভারকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস দ্বারা সৃষ্ট ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে ।

হ্লুদ ঃ হ্লুদের মধ্যে কারকিউমিন নামক একটি উপাদান রয়েছে । আর এই উপাদান লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে । রসুন লিভার থেকে ভারী ধাতুগুলিকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে এবং এতে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে যা লিভারের কোষগুলিকে মেরামত করে ।

আপেল ঃ আপেলে উপস্থিত পলিফেলন , পেকটিন সমৃদ্ধ , লিভারের সিরাম এবং লিপিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে । আপেলে প্রদাহ – বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ফ্যাটি লিভার থেকে রক্ষা করে এবং আপনার লিভার পরিস্কার করতে সাহায্য করে । এছাড়া আপেলে পেকটিন নামক এক প্রকার দ্রবণীয় ফাইবার থাকে , যা লিভারের টক্সিন বের করে দেয় ।

টমেটো ঃ টমেটো লিভারের কার্যকলাপ ভালো রাখার জন্য পাচন এনজাইম এবং লিভার এনজাইমের সক্রিয়করণকে উৎসাহিত করে । নিয়মিত টমেটো খেলে লিভার পরিস্কার করতেও সাহায্য করে ।
সবুজ শাক সবজি ঃ পালং শাক , মুলার শাক বা অন্যান্য সবুজ শাক সবজিতে রয়েছে কিছু গুন যা শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় । এর মধ্যে থাকে ক্লোরোফিল নামক একটি উপাদান । এই উপাদান রক্ত থেকে টক্সিন শুষে নিতে পারে । এই শাক সবজি রক্ত প্রবাহ থেকে পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে এবং লিভারকে বিষমুক্ত করতে সাহায্য করে ।

বিটরুট ও গাজর ঃ বিটরুট এবং গাজর অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ও ভিটামিন এ সমৃদ্ধ , যা লিভারের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে ।