ভিটামিন এ একটি চর্বি – দ্রবণীয় ভিটামিন যা একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে । ভিটামিন এ প্রাণীদের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান । তাই ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া আপনার পুষ্টির এবং বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । ভিটামিন এ আমাদের শরীরে নিয়মিত প্রয়োজন । এটি আমাদের শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । ভিটামিন এ অভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে অন্ধত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ । দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখতে , রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের বৃদ্ধিতে সমর্থন করতে সাহায্য করে ভিটামিন এ । ভিটামিন এ -র অভাবে ক্যারটম্যালেসিয়া রোগ দেখা দেয় । শিশুর শরীরে ভিটামিন এ সঠিক মাত্রায় না থাকলে মেসেলস ও ডায়ারিয়া জাতীয় অসুখ দেখা দেয় । আর শিশুর শরীরে ভিটামিন এ থাকলে শিশু সুস্থ্য এবং সবল থাকে ।

ভিটামিন এ -র রাসায়নিক নাম হল ‘ রেটিনাল ‘ মানবদেহে ভিটামিন এ জারিত হয়ে রেটিনোয়িক অ্যাসিড তৈরি করে । ভিটামিন এ খাদ্যের একটি খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান । ভিটামিন এ চোখের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় । শরীরের বিকাশে ভিটামিন এ -এর ভূমিকা রয়েছে । ভিটামিন এ শরীরে থাকলে শরীরে প্রাপ্ত লৌহের স্বাভাবিক ব্যবহারের ঘাটতি হয় না । ফলে রক্ত স্বল্পতা দেখা দেয় না এবং শরীর সুস্থ থাকে । ভিটামিন ‘এ’ নানা রকমের সংক্রামক রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করে থাকে । ভিটামিন এ বার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করে । ভিটামিন এ আমাদের নাকের শ্লেষাঝিল্লিকেও সুস্থ রাখে । শরীরের ভিটামিন এ থাকার ফলে ত্বকের শুস্কতা বা বলিরেখা থাকে না । এর কারণে ত্বক সতেজ থাকে । ভিটামিন এ টিউমার ও ক্যান্সার থেকে রক্ষা করে এবং লিভার বা যকৃৎ ভালো রাখে ।
বিভিন্ন ধরনের খাবার থেকে দৈনন্দিন ভিটামিন এ – এর চাহিদা পূরণ করা যায় । তাহলে জেনে নিন কোন কোন খাবার গুলোতে ভিটামিন এ পাওয়া যায় ।

দুধজাতীয় খাবার — দুধে ভিটামিন এ থাকে । এক কাপ দুধ দৈনন্দিন ১০-১৪ শতাংশ পর্যন্ত ভিটামিন সরবরাহ করতে পারে । আর এক্ষেত্রে পনির ১ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত সরবরাহ করে ।
গাজর — শীর্ষ ভিটামিন এ সমৃদ্ধ সবজি গুলির মধ্যে একটি । গাজরে বিটা ক্যারোটিন রয়েছে এবং একটি বড় গাজরে প্রায় ২৯ ক্যালোরি থাকে । এক কাপ গাজরে যে পরিমাণ ভিটামিন এ থাকে , তা একজন মানুষের গড় চাহিদার ৩৩৪ শতাংশ পর্যন্ত পূরণ করতে পারবে । গাজর খাওয়ার ফলে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো হয় । এটি আপনার শরীরকে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা করে । গাজরে থাকা বিটা ক্যারোটিন আপনাকে বয়স – সম্পর্কিত পেশীর অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারে ।

মিষ্টি আলু — মিষ্টি আলু ত্বকের কোষের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ সরবরাহ করতে এবং ইনফেকশন বা সংক্রমণ ঠেকাতে সাহায্য করে । একটি মিষ্টি আলু মানুষের দৈনন্দিন ভিটামিন এ -এর গড় চাহিদার ৪৩৮ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম । গাজরের মতো মিষ্টি আলুও একটি মূল সবজি যা বিটা ক্যারোটিন দিয়ে লোড করে যা আপনাকে পেশীর অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে । এছাড়া মিষ্টি আলুতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং বি । আবার মিষ্টি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও অনেকটাই কম । তাই ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণেও মিষ্টি আলু কার্যকরী ।
কুমড়ো — কুমড়োতে পাওয়া যায় ভিটামিন এ । প্রতিদিন একশো গ্রাম কুমড়ো খাবারে যোগ করে নিলে তা আপনার চাহিদার ১৭০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে । কুমড়ো খেলে পেশীর অবক্ষয় রোধ করার পাশাপাশি আপনার চোখের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ।

টমেটো — টমেটোতে ক্যালোরি কম থাকলেও এর মিনারেল কনটেন্টে প্রচুর পরিমাণে এ রয়েছে । একটি মাঝারি আকারের টমেটো আপনার দৈনন্দিন চাহিদার ২০ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম । টমেটোর রসেও জেক্সানথিন এবং লুইটেন রয়েছে , এই দুটি যৌগ যা আপনার চোখের স্বাস্থ্যকে বাড়িয়ে তুলতে পারে ।

আম — শীর্ষ স্থানীয় ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ফল গুলির মধ্যে আম হল একটি ফল । আমে রয়েছে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট যা রক্তের গ্লুকজের নিয়ন্ত্রণ করে । একটি আমে রয়েছে ১১২ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন এ ।

পালং শাক — পালং শাক ভিটামিন , খনিজ , অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টের ভাণ্ডার । এটি চোখের খেয়াল রাখার কাজে এর জুড়ি মেলা ভার । পালং শাক হৃদরোগকে উন্নত করে এবং রক্তচাপ কমাতে পারে ।