খেজুর আমাদের কাছে অতি পরিচিত খাবার । স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ফল খেতে হয় । শরীরের ভালো কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় ফলের মধ্যে । তেমনই একটি বিস্ময়কর ফল হল খেজুর । খেজুর এমন একটি খাবার , যার ওপর সারা বছর ভরসা রাখা যায় শরীরের যত্ন নিতে । প্রতিদিন খেজুর খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ভালো । প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেজুর খেলেই মিলবে নানা রোগ থেকে পরিত্রাণ । খেজুরের পুষ্টিগুণ নারী – পুরুষ উভয়ের জন্যই উপকারী ।

খেজুরে অনেক ধরনের পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় । তাই খেজুর সবার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী । শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও ভিটামিনের জোগান দিতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার । খেজুরে রয়েছে ভিটামিন এ , বি , সি , প্রোটিন , পটাসিয়াম , ফসফরাস , ক্যালসিয়াম , সেলেনিয়াম , ফাইবার , আয়রন , সালফার , ম্যাঙ্গানিজ , ম্যাগনেসিয়াম । এছাড়া , খেজুরে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ও মিনারেল । বিস্ময়কর এই ফলটিতে রয়েছে অনেক গুন । সারা রাত খেজুর জলে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন সকালে খালি পেটে খেলে মিলবে বেশি উপকার । ক্লান্তি দূর করার জন্যও খেজুরের গুরুত্ব অপরিসীম ।
সকালে খালি পেটে খেজুর খেলে যে সব উপকার গুলো হয় সেগুলোর সম্পর্কে আমরা একটু জানবো ——–
মস্তিস্ক সতেজ থাকে ঃ মস্তিস্ক ভালো রেখে স্মৃতিশক্তি বাড়াতে প্রতিদিন খেজুর খেতে হবে । খেজুরে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট রয়েছে । এটি খেলে অ্যালঝাইমার রোগের ঝুঁকি কমবে ।
কর্মশক্তি বাড়ায় ঃ খেজুরে প্রচুর পরিমানে প্রাকৃতিক চিনি থাকার কারনে খেজুর খুব দ্রুত শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে । এছাড়া , শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য খেজুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ঃ খেজুরে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে , যা খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে । অনেক সময় ডায়রিয়া দূর করতেও এটা অনেক উপকারী । এছাড়া , মুখের লালাকে ভালো ভাবে খাবারের সঙ্গে মিশতে সাহায্য করে খেজুর । ফলে বদহজম অনেকাংশে দূর হয় ।
রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ করে ঃ খেজুরে প্রচুর পরিমানে মিনারেল , আয়রন রয়েছে , যা রক্তশূন্যতা রোধ করে । এছাড়া , যাঁদের হিমোগ্লোবিনের পরিমান কম আছে তারা নিয়মিত খেজুর ভিজিয়ে খেতে পারেন ।
হাড় মজবুত করে ঃ খেজুরে প্রচুর পরিমানে ফসফরাস , ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ থাকে । যা হাড় মজবুত করতে বেশ কার্যকর । খেজুর শিশুদের মাড়ি শক্ত করতে সাহায্য করে । অষ্টিওপোরোসিসের মতো রোগের ঝুকিও কমবে । বিশেষ করে বাচ্চাদের শরীরে রক্তের পরিমাণ বাড়াতে খেজুর ভিজিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা । এছাড়া , খেজুর হল প্রোটিন সমৃদ্ধ , যা আমাদের পেশী গঠন করতে সাহায্য করে এবং শরীরের জন্য খুব অপরিহার্য প্রোটিন সরবরাহ করে ।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ঃ খেজুরের মধ্যে পটাশিয়াম রয়েছে । যার ফলে খেজুর খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে । এছাড়া , খেজুর খাওয়ার ফলে স্ট্রোক , কোলেস্টেরল এবং হার্টের রোগ থেকে রক্ষা করে । তাই নিয়মিত সকালে খালি পেটে খেজুর ভিজিয়ে খেতে পারেন ।
শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে ঃ খেজুরে প্রাকৃতিক চিনি থাকে , কিন্তু এটি স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না । খেজুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এবং প্রোটিন । ফলে এটি শরীরে ভিটামিন এবং খনিজ গুলোর ঘাটতি দূর করে । তাই দেহে পুষ্টির ঘাটতি দূর করতে নিয়মিত খেজুর ভিজিয়ে খেতে হবে ।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ঃ খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ । খেজুর পেটের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে । এছাড়া , খেজুর abdominal ক্যান্সার রোধে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে । আর যারা নিয়মিত খেজুর খেয়ে থাকেন , তাদের ক্যানসারের ঝুঁকিটাও কম থাকে । আবাক করা বিষয় হচ্ছে , অনেক সময় এটি ওষুধের চেয়েও ভালো কাজ করে ।
চোখের সমস্যা দূর করে ঃ খেজুর ভিটামিন এ সমৃদ্ধ । আর এই ভিটামিন এ চোখের কর্নিয়াকে সতেজ করে এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় । সেই সঙ্গে রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও অত্যন্ত কার্যকর খেজুর । তাই নিয়মিত খেজুর খেলে চোখের সমস্যায় অনেক উপকার পাওয়া যায় । এছাড়া খেজুরে লুটেনিন ও জেক্সান্থিনও রয়েছে , যেগুলো চোখকে সুরক্ষিত রাখে ।
হৃদরোগ প্রতিরোধ করে ঃ খেজুরে রয়েছে পটাসিয়াম , যা বিভিন্ন ধরণের হৃদরোগ প্রতিরোধ করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় । এছাড়া , খেজুর শরীরের খারাপ ধরনের কোলেস্টেরল কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরলের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ।
হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায় ঃ খেজুরে প্রচুর আয়রন রয়েছে । আর এই উপাদানটি মানব দেহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । ফলে এটা হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায় । তাই যাঁদের হৃৎপিণ্ড দুর্বল , তাদের জন্য এটি সবচেয়ে নিরাপদ ওষুধ হতে পারে ।