health tips : কোষ্ঠকাঠিন্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য থাকল কতগুলি সবজি এবং ফল সম্পর্কে । যা খেলে খুব সহজেই সমস্যা সমাধান হবে ।

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ হজম সমস্যা যা অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং দৈনন্দিন জীবনকে উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রভাবিত করতে পারে । ফলে হতাশা , বিরক্তি , ক্লান্ত এবং মনোনিবেশ করতে অসুবিধা সৃষ্টি করে । এটি বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিকে প্রভাবিত করে । এটি কখনও কখনও আর বেদনাদায়ক এবং বেশ বিরক্তিকর বা হতাশাজনক হতে পারে । কোষ্ঠকাঠিন্য শুধু অস্বস্তির সৃষ্টি করে না , সেইসঙ্গে পেটে ব্যথা , পেট ফোলা এবং অন্যান্য সমস্যার কারণ হতে পারে । কোষ্ঠকাঠিন্য প্রত্যেকের স্বাস্থ্য , বিশেষ করে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে । কোষ্ঠকাঠিন্যের হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে যেমন – অপর্যাপ্ত জল পান করা , ঘুমের অভাব , অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করা , জীবনযাত্রার পরিবর্তন , শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং আরও অনেক কিছু । এটি মহিলা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশি দেখা যায় ।

নির্দিষ্ট কিছু খাবার মলের সাথে প্রচুর পরিমাণে যোগ করে , অন্ত্রের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ায় , যা মলকে নরম করে এবং অন্ত্রের ট্রানজিট সময় কমিয়ে দেয় । তাই , কোষ্ঠকাঠিন্য হলে খাওয়াদাওয়ার উপর বাড়তি নজর রাখা খুবই প্রয়োজন । কারণ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে সব খাবার খাওয়া যায় না । তবে নির্দিষ্ট কোনও নিয়ম মেনে না চললে এই সমস্যা আরও দ্বিগুণ হয়ে উঠতে পারে । তাই কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগীদের ঘরোয়া খাবার খাওয়ার বিশেষ প্রয়োজন । কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে থাকতে কয়েকটি খাবার বেশ কাজে দিতে পারে । কোষ্ঠকাঠিন্যের আশঙ্কা কমতে পারে কিছু শাকসবজি খাওয়া বাড়ালে । তেমনই এই সমস্যা এড়াতে কিছু ফল সাহায্য করতে পারে । এছাড়া , খাদ্যাভ্যাসের কিছু সাধারণ পরিবর্তন এবং পর্যাপ্ত জল খেলে এই সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে ।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সবজি খাওয়া উপকারী । কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্যকারী কিছু সবজি হল —-

মিষ্টি আলু ঃ মিষ্টি আলু ফাইবার সমৃদ্ধ । একটি মাঝারি আকারের মিষ্টি আলুতে প্রায় ৩.৪ গ্রাম উভয় অদ্রবণীয় ফাইবার যেমন , সেলুলোজ এবং লিগনিন এবং দ্রবণীয় ফাইবার যেমন , পেকটিন থাকে । এই দু- ধরনের ফাইবার অন্ত্রের আন্দোলনের উন্নতি করে এবং মলের ওজন যোগ করে কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে ।

মটরশুঁটি ঃ মটরশুঁটি দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় উভয় ফাইবার ধারণ করে । এই সংমিশ্রণটি অন্ত্রের মধ্যে দিয়ে মল সরাতে সাহায্য করে । যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে খুব সহজেই ।

পেঁপে ঃ কাঁচা পেঁপের রয়েছে হাজার গুন । নিয়মিত এই সবজি খেলে অন্ত্রের মলের গতিবিধি বাড়ে । সেইসঙ্গে এতে রয়েছে বিভিন্ন উৎসেচকের গুনে বাড়ে হজমক্ষমতা । এছাড়া , এতে উপস্থিত বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দূর করে । সেই সঙ্গে পেঁপেতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টের গুনে কাছে ঘেঁসতে পারে না একাধিক জটিল অসুখ ।

ব্রকলি ঃ ব্রকলি , এই সবজি হল ফাইবারের ভাণ্ডার । আর এই উপাদানের গুনে অন্ত্রে মলের গতিবিধি বাড়ে । যার ফলে খুব সহজেই পেট পরিস্কার হয়ে যায় । তাই কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীরা রোজের খাদ্যতালিকায় এই সবজিটি রাখতে পারেন । এছাড়া , এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টও রয়েছে । তাই নিয়মিত ব্রকলি খেলে একাধিক রোগের ফাঁদ থেকে সেরে ওঠা যায় ।

লাউ ঃ এতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ফাইবার । যা অন্ত্রের হাল ফেরায় । আর সেই সঙ্গে মলও নরম করে । যার ফলে পেট পরিস্কার হয় খুব সহজেই । লাউয়ে রয়েছে বিভিন্ন উপকারী ভিটামিন , খনিজ এবং উদ্ভিজ্জ উপাদান । ফলে এই সবজি নিয়মিত খেলে সুস্থ থাকে শরীর ।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ফল খাওয়া খুব উপকারী । কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্যকারী কিছু ফল হল ——-

আপেল ঃ আপেলে দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে । বিশেষ করে আপেলে পেকটিন নামক ফাইবার থাকে । আপেল কোষ্ঠকাঠিন্যের পাশাপাশি ডায়রিয়া থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করতে পারে । কোষ্ঠকাঠিন্য রোগীরা আপেলের খোসাসহ খাবেন । কারণ , আপেলের বাইরের অংশে অদ্রবণীয় ফাইবার থাকে । যা অন্ত্রের গতিবিধি বাড়াতে পারে ।

কলা ঃ কলা ফাইবার সমৃদ্ধ এবং প্রচুর আঁশ রয়েছে । পাকা কলা অন্ত্রের মাইক্রোভিলিকে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে । কলা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । কলা শুধুমাত্র মলকে নরম করার জন্য জল শোষণ করে না বরং অন্ত্রের ট্র্যাক্টের মাধ্যমে মলের চলাচলকেও উন্নত করে ।

নাশপাতি ঃ নাশপাতি ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস । এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । নাসপাতিতে শুধু ফাইবার নয় , ফ্রুক্টোজ এবং সরবিটল রয়েছে । ফলে পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে । নাশপাতিতে থাকা সরবিটল একটি প্রাকৃতিক রেচক । যা মল নরম করতে এবং চাপের মাধ্যমে মলত্যাগ সহজ করতে সাহায্য করে ।

আঙুর ঃ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে আঙুরের জুড়ি মেলা ভার । আঙুরের অনেকটাই রয়েছে জল । তার সঙ্গে যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে ফাইবার । ফলে আঙুর খেলে শরীর সুস্থ থাকবে ।

কমলালেবু ঃ কমলালেবু ফাইবার এবং ভিটামিন সি -এর অন্যতম উৎস । কমলালেবু জুস করে না গোটা খেলে আরও বেশি ফাইবার পাওয়া যায় । কমলালেবুতে থাকা যৌগ নারিনজেনিন কোষ্ঠকাঠিন্য আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাহায্য করতে পারে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top