দারচিনি , এটি একটি চমৎকার আয়ুর্বেদিক মশলা । যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্ব জুড়ে ঐতিহ্যবাহী ঔষধ এবং রান্নার কাজে ব্যবহার হয়ে আসছে । বহু যুগ ধরেই এর গুনের কথা জেনে এসেছে ভারতীয়রা । সুস্বাদু মশলা হিসেবে দারচিনির খ্যাতি ছিল অনেক আগে থেকেই । রান্নায় একটু গোটা গরম মশলা মানেই স্পেশাল গন্ধ । আর এই গরম মশলার অন্যতম উপকরণ হল দারচিনি । এটি শুধু গরম মশলায় খাবারের স্বাদ ও গুন বাড়াতেই নয় , দারচিনি হল আমাদের রান্না ঘরের মহৌষধি । বাজারে দুই ধরনের দারুচিনি পাওয়া যায় , যেমন ১, ক্যাসিয়া এবং অপরটি হল সিলন । এই সুগন্ধি মশলার ব্যবহার মূলত মিষ্টান্ন , তরকারি থেকে সালাদে ।

একটি ঝোপঝাড় যুক্ত চিরসবুজ দারচিনি গাছ । এর ছাল থেকে দারচিনি মশলা পাওয়া যায় । শুকনো ভেতরের ছাল দিয়ে তৈরি এই মশলাটি গাঢ় রঙের হয় এবং এর মিষ্টি সুগন্ধের পাশাপাশি উষ্ণ মিষ্টি স্বাদও রয়েছে । দারচিনি গাছ দেক্ষতে অনেকটা তেজপাতা গাছের মতো । এছাড়াও , ছালের টুকরো থেকে অপরিহার্য তেল বের করা হয় এবং রান্না , লিকার , সুগন্ধি এবং ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয় । শ্রীলঙ্কার মালাবার উপকূল , ভারতের মালাবার উপকূল এবং মায়ানমার অঞ্চলে দারচিনি উৎপত্তি । দারচিনি একটি পুষ্টি শক্তির উৎস । দারচিনিতে রয়েছে ভিটামিন এ , ম্যাগনেসিয়াম , পটাসিয়াম , সোডিয়াম , ফসফরাস এবং ম্যাঙ্গানিজ । এছাড়া , এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ।

আমাদের জন্য দারচিনিতে রয়েছে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান । এটি স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী , তেমনই দারচিনি ভেজানো জল আমাদের জন্য খুব উপকারী । এই মৃদু মিশ্রণের বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে । যা আপনার দৈনন্দিন রুটিনকে উন্নত করতে পারে । প্রতিদিন সকালে দারচিনি জলে ভিজিয়ে রেখে খাওয়া হলে, দারচিনি আরও কার্যকর ভাবে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে , যা আপনার শরীরের সহজে হজমযোগ্য আকারে এর পুষ্টি শোষণ করতে দেয় ।
চলুন দেখে নেওয়া যাক সকালে দারচিনি জল খাওয়ার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা —–

মস্তিস্কের কার্যকারিতা উন্নত করে ঃ দারচিনির জল খেলে স্মৃতিশক্তি এবং মনোযোগ উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে । দারচিনি
প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করে ঃ দারচিনির প্রদাহ- বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে । তাই দারচিনির জল খেলে প্রদাহের সাথে সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দেয় । এই জল খেলে শরীরের ভেতরের জ্বালা – যন্ত্রণা ও ব্যথা কমে ।

হজমশক্তি বাড়ায় ঃ দারচিনির জল হজমশক্তি উন্নত করার জন্য সুপরিচিত । দারচিনি জল দেহের হজমকারক আঞ্জাইমগুলোকে সক্রিয় করে তোলে । ফলে এই জল হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং বমি বমি ভাব কমায় । এটি পেট ফাঁপা , গ্যাস এবং বদহজমের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাহায্য করতে পারে ।
বিপাক বৃদ্ধি করে ঃ দারচিনিতে এমন যৌগ রয়েছে যা আপনার বিপাকীয় হার বাড়াতে পারে । তাই এই দারচিনি জল আপনাকে আরও দক্ষতার সাথে ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ দারচিনি জলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার ক্ষমতা । দারচিনি অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট সমৃদ্ধ । এটি জারন চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে । নিয়মিত দারচিনি জল খেলে অসুস্থতা ও সংক্রমনের ঝুঁকি কমিয়ে আনে ।
মাসিকের ব্যথা কমায় ঃ দারচিনি নারীদের মাসিকের সময় ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে । একই সঙ্গে এই পানীয়টি নারীদের প্রজনন ও হরমোনজনিত পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের বিভিন্ন লক্ষণ কমিয়ে আনে ।
ওজন কমাতে সাহায্য করে ঃ দারচিনির জল ওজন কমাতে সাহায্য করে । বিপাক্ক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি গলাতেও সাহায্য করে ।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ঃ এই জল রক্তে শর্করা বৃদ্ধি মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে । দারচিনি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে । নিয়মিত দারচিনির জল খেলে তা আপনার শরীর কার্যকর ভাবে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে , যা ক্লান্তি এবং ক্ষুধা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায় ।
দেহের বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয় ঃ দারচিনিতে থাকা অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট দেহের বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয় এবং শরীরকে ফ্রি র্যাডিকেল -এর কারণে হওয়া ক্ষয় কমাতে সাহায্য করে ।
মেজাজ ভালো করে ঃ এই পানীয় মানসিক আবসাদ কমিয়ে শরীরকে দ্রুত চনমনে করতে পারে । দারচিনিত সুগন্ধ যে কারও মেজাজ মুহূর্তে ভালো করে দিতে পারে ।