health tips ঃ এমন একটি শাক , যার স্বাস্থ্য এবং ঔষধি গুনাগুন অপরিসীম । ( ঢেঁকি শাক )

বাঙালি রান্নাঘরে শাকের কোনও কমতি নেই । সবুজ শাক আমাদের শরীরের জন্য ভীষণ উপকারি । আমাদের দেশে বিভিন্ন রকমের শাক পাওয়া যায় । যেমন – পালং শাক , লাল শাক , কচু শাক , কলমি শাক , পুঁই শাক , পাট শাক , সর্ষে শাক ইত্যাদি । এর মধ্যে অন্যতম হলো ঢেঁকি শাক । গ্রামাঞ্চলে এই শাক দেখতে পাওয়া যায় কিন্তু শহর অঞ্চলে খুব আক্তা দেখতে পাওয়া যায় না । কোথাও কোথাও একে আবার বৌ শাক , ঢেঁকিয়া শাক বা বাবু শাক বলেও পরিচিত । এটি নানাভাবে আমাদের ভীষণ উপকার করে থাকে । সব থেকে মজার বিষয় হলো অন্যান্য শাকের মতো ঢেঁকি শাক চাষ করতে হয় না । ঢেঁকি শাক গ্রাম অঞ্চলের রাস্তার ধারে , পরিত্যক্ত জমি , বনজঙ্গলে হয় । মোট কথা গ্রামাঞ্চলের যেখানেই কিছু আগাছা জন্মায় তার আশেপাশেই আগাছার সাথে দেখা যায় এই ঢেঁকি শাক । বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে এই শাক ।

এই শাকটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনই অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর । এতে রয়েছে প্রোটিন , ভিটামিন সি , ভিটামিন বি-২ , ক্যালশিয়াম , ফসফরাস , ম্যাগনেসিয়াম , জিঙ্ক , আয়রন , পটাসিয়াম , ম্যাঙ্গানিজ , ভিটামিন এ , ফাইবার । তাছাড়া নানান পুষ্টিকর উপাদান ছাড়াও এতে অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে । ঢেঁকি শাক হাটবাজারে ছোট ছোট আঁটি বেঁধে বিক্রি হয় । দাম কম হলেও এই শাক পুষ্টিগুণে ভরপুর । ঢেঁকি শাক উত্তর বঙ্গের মানুষের একটি প্রিয় খাদ্য । ঢেঁকি শাক একটি খুব সাধারন ফার্ন , যা ইউরোপ , এশিয়া য় উত্তর আমেরিকা এবং বিভিন্ন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে পাওয়া যায় । এর দেখা মেলে স্যাঁতস্যাঁতে ছায়াময় এলাকায়সমূহ এবং জঙ্গলে । এই শাক থাইল্যান্ডে ভীষণ জনপ্রিয় । সেখানে এই শাকে পাকু বলে । এর মধ্যেও রয়েছে কিছু ঔষধি গুন , যা মানুষের শরীররে জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় । যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ।

এবার জানা যাক ঢেঁকি শাকের ঔষধিগুন এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে —

১। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন , মিনারেল এবং অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট , যা ঢ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এই শাক আমাদের বিভিন্ন রোগ ব্যধির হাত থেকে রক্ষা করে । ঢেঁকি শাক বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে এবং ছোঁয়াচে ঠাণ্ডা- কাশির সমসা কমাতে কাজে আসতে পারে ।

২। ঢেঁকি শাকে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ রয়েছে , যা আমাদের দৃষ্টি শক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে । তাই আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার জন্য নিয়মিত খাওয়ার তালিকায় ঢেঁকি শাক রাখা যেতে পারে । এই শাকে অন্যান্য খাদ্য দ্রবের তুলনায় আরও বেশি পরিমাণে ফাইবার রয়েছে , যা সঠিকভাবে হজম করতে সাহায্য করে । এই শাক পরিপাকতন্ত্রের উন্নতি ঘটায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য মতো কঠিন সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে , যার ফলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয় ।

৩। ঢেঁকি শাক আমাদের শ্বাসতন্ত্রকে সতেজ রাখে এবং পুরনো কাশি সারিয়ে তোলে । এই গাছের শুস্ক মূল থেকে পাউডার ঘা – ক্ষত নিরামিয় করতে কাজে লাগে । ঢেঁকি শাকের স্ত্রী -প্রজাতির উদ্ভিদের মূল থেকে একধরনের ওষুধ তৈরি করা হয় যা সন্তানজন্মদানের সময় মহিলাদের স্তনের ব্যথা সারতে বেশ কার্যকারী ।

৪। ঢেঁকি শাকের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার । এটি পেটের খাদ্য পচনের গতি কমিয়ে দেয় । তাই অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে । ঢেঁকি শাক ফাইবার সমৃদ্ধ বলে শারীরিক ওজন কমায় এবং হার্টের রোগ কিছুটা কমিয়ে দেয় ।

৫। ঢেঁকি শাকে পটাশিয়াম বেশি থাকায় কারনে এটি রক্তচাপ কমায় । ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি ভালো খাবার । এই শাকের গ্লাইসেমিক একক বেশ কম । পাশাপাশি এই শাকে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকায় আচমকা রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে । ফলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতেও দুর্দান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এটি আমাদের রক্তনালীর সংকোচন প্রসারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে থাকে ।

৬। ঢেঁকি শাকে রয়েছে ভিটামিন সি । আর ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট হিসেবে অত্যন্ত কার্যকর । ত্বকের জৌলুস ধরে রাখতে দারুণ কার্যকর ঢেঁকি শাক । বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না ত্বকে । এছাড়া , ঢেঁকি শাকে উচ্চ মাত্রায় ফসফরাস থাকায় এটি রিকেট সারাতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে ।

৭। ঢেঁকি শাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম রয়েছে , যা অষ্টিওপোরেসিস এবং অন্যান্য ক্যালসিয়ামের অভাব জনিত রোগের ঝুঁকি কমায় । এছাড়া এই শাক আমাদের ফুস্ফুসের ক্যান্সার , ত্বকের ক্যান্সার ও গর্ভ ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top