Health Benefits of sattu : এক গ্লাস ছাতুর গুন অনেকটা ।

সকালের ব্যস্ততায় ভারী খাবার খাওয়ার সময় থাকে না অনেকেরই । কিন্তু এক গ্লাস ছাতুর শরবত খেলে অনেকক্ষণ পেট ভর্তি থাকে । ছাতুর অনেক গুন । ছাতুর শরবত হোক বা ছাতু মাখা কোনটাই সময় সাপেক্ষ নয় । তেমনই ছাতুর দামও বেশি নয় । তাই সস্তায় পুষ্টিকর খাবার হিসেবে রোজই খেতে পারেন ছাতু । পেট ভরানোর খাবার বলতেই আমরা যে খাবার গুলি বুঝি , তার মধ্যে অন্যতম হল ছাতু । ছাতু দিয়ে নানারকম পদ যেমন শরবত , ছাতুমাখা , বরফি ইত্যাদির তৈরি করা হয় । যারা স্বাস্থ্যকর খাবার খান , তারা সবসময় ছাতুকে গুরুত্ব দেন । শারীরিক গঠন এবং কায়িক শক্তি পাওয়ার জন্য ছাতুর কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে । তাইতো বাজারে ছাতুর এত কদর ।

গবেষণায় দেখা গেছে , ছাতু খেলে শরীরের নানাবিধ উপকার হয় , আবার সেই সঙ্গে অনেকক্ষণ পেট ভরে থাকার কারণে বারে বারে খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে । ফলে ওজন বৃদ্ধির সম্ভবনাও হ্রাস পায় । শুধু তাই নয় ,ছাতু খেলে মেলে আরও উপকার । সকালে ঘুম থেকে উঠে জলে অল্প নুন , পাতিলেবুর রস দিয়ে শরবত করে খাওয়াই ভাল । ছাতু দিয়ে রুটি , পরোটাও বানানো যায় । তবে ছাতু দিনের বেলা খাওয়াই ভাল । রাতের দিকে খেলে অনেকের ক্ষেত্রেই হজমের সমস্যা হতে পারে । ডিম , মাছ , মাংস খেলেও উপকারিতায় ছোলার ছাতুর সঙ্গে টেক্কা দেওয়া মুশকিল । তাই বাড়ির ছোট থেকে বড় সকলের রোজ ছাতুর শরবত খাওয়া উচিত ।

ছাতুর মধ্যে অনেক ঔষধি গুনও পাওয়া যায় যা অনেক ধরনের শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে । নিয়মিত ছাতু খেলে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । ছাতু হল এক ধরনের ভারতীয় আইটেম যা সাধারণত ছোলা , গম , বাজরা , বা বার্লির ভাজা আতা দিয়ে তৈরি করা হয় । যেহেতু ছাতু অনেক ধরনের শস্য থেকে তৈরি , তাই এতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন , ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে ও উচ্চ পরিমাণে ফাইবার রয়েছে । এছাড়া ক্যালশিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , পটাশিয়াম ,অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে । ছাতু ত্বক ও চুলের জন্য খুব উপকারি।

ছাতুর উপকারিতা——-

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে ঃ ছাতুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম । অর্থাৎ ছাতু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে না । তাই চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস রোগীদের রোজ ছাতু খাওয়ার পরামর্শ দেন । পাশাপাশি এটি ইনসুলিনের কার্যক্ষমতাও বাড়ায় । এতে রক্তের শর্করার মাত্রা ঠিক থাকে । গবেষণায় দেখা গেছে , নিয়মিত ছাতুর শরবত খেলে রক্তচাপ অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে । তাই যারা হাই ব্লাড সুগারে ভুগছেন , তারা এই খাবারটি নিয়মিত খেলে উপকার পেতে পারেন ।

শরীরকে রোগমুক্ত করে ঃ ছাতুর শরবত নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে দেহের ভিতরে এমন কিছু উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায় যে তার প্রভাবে রক্তে উপস্থিত টক্সিক উপাদানেরা বেরিয়ে যেতে শুরু করে । ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ছোট -বড় নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায় ।

রক্তে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে ঃ ছাতুতে ফাইবার থাকে যা রক্তের কোলেস্টেরল বাড়তে দেয় না । রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বাড়লে হৃদরোগের আশঙ্কা বেড়ে যায় । ধমনীতে রক্ত সঞ্চালন বাধা পেয়ে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে ।ফলে ছাতু খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে , এবং রক্তে কোলেস্টেরলও বাড়তে দেয় না ।

মহিলাদের শারীরিক ক্ষমতা বাড়ে ঃ পিরিয়ডের সময় শরীরে দেখা যায় পুষ্টির ঘাটতি । যা দূর করতে ছাতুর শরবতের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে । ছাতুতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ এবং ভিতামিন থাকে , যা শরীরের সচলতা বজায় রাখতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে ।

হজম করতে সাহায্য করে ঃ ছাতুর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে । এই ফাইবার খাবার হজম করতে সাহায্য করে । খাবার ভেঙে টা হজমে সাহায্য করে বলেই চিকিৎসকেরা নিয়মিত ছাতু খাওয়ার পরামর্শ দেন ।

শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য আবশ্যক ঃ শরীরের যথাযথ বৃদ্ধির জন্য যে যে উপাদানগুলির প্রয়োজন পরে তা সবই উপস্থিত রয়েছে ছাতুতে । তাই তো বাজার চলতি হেলথ ড্রিঙ্কের পরিবর্তে নিয়মিত যদি শিশুদের ছাতু খাওয়ানো যায় , তাহলে দারুণ উপকার হয় ।

পাকস্থলীর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ঃ ছাতুর শরবতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার কারণে , নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার প্রকোপ কমতে শুরু করে । সেই সঙ্গে হজম ক্ষমতারও উন্নতি ঘটে । এখানেই শেষ নয় । ফাইবার আরও নানা উপকারে লাগে । যেমন –প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে যে পরিমাণ তেল আমাদের শরীরে প্রবেশ করে , তা পাকস্থলী থেকে বের করে দিতে এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে ।

বয়স্কদের জন্য উপকারী পানীয় ঃ বয়স যত বাড়তে থাকে , তত নানাবিধ শারীরিক সমস্যা মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে । এক্ষেত্রে কিন্তু ছাতু বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে । ৬০ বছরের পর থেকে যদি নিয়মিত ছাতু খাওয়া যায় তাহলে একাধিক বয়সকালীন রোগ শরীরে বাসা বাঁধার কোনও সুযোগই পায় না । ফলে শেষ বয়সটা বেজায় নিশ্চিন্তে কেটে যায় ।

চুল ও ত্বক ভালো রাখে ঃ ফাইবারের পাশাপাশি ছাতুতে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট থাকে । যা ত্বক ও চুলের সৌন্দর্যতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে । অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট একদিকে শরীরে উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে ত্বকের ঔজ্জ্ব বৃদ্ধি করে , অন্যদিকে প্রোটিন শরীরের ভিতরে যে ঘাতটি রয়েছে , তা পূরণ করে । ফলে সার্বিকভাবে শরীর ,ত্বক এবং চুলের জেল্লা বৃদ্ধি পায় ।

গর্ভাবস্থায় মায়েদের জন্য উপকারী ঃ গর্ভাবস্থায় মেয়েদের বেধি শক্তির প্রয়োজন হয় । শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেয় । ছাতুতে থাকা ভিটামিন ও প্রোটিন সহ প্রচুর ক্যালরি রয়েছে । তাই গর্ভাবস্থায় ছাতু খাওয়ার উপকারিতা সব চেয়ে বেশি ।

ছাতুর মধ্যে থাকে ক্যালসিয়াম যা হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে । ছাতুতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , ম্যাগনেসিয়াম , পটাশিয়ামের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান থাকে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে ।

কিভাবে খাবেন ; প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস জলে এক টেবিল চামচ ছাতু গুলে খেয়ে নিতে পারেন । আর যদি টেস্টি করে খেতে চান , তাহলে এর সঙ্গে মিশিয়ে নিন এক চা চামচ মধু , সামান্য লেবুর রস ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top