যেসব ঔষধি গাছ প্রাচীন কাল থেকে চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে তার মধ্যে পাথরকুচি হল অন্যতম । পাথরকুচি পাতা যাকে সাধারণত ব্রায়োফাইনাল বা ক্যালানচো বলা হয় । এই পাতার এতটাই ঔষধি গুন রয়েছে বলে একে মিরাকল লিফ ও বলা হয় । পাথরকুচি এমন একটি উদ্ভিদ যা সহজেই খুঁজে পাওয়া যায় । এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাড়ি এবং পার্কের আশেপাশে দেখতে পাওয়া যায় । এই উদ্ভিদটি খুব একটা লম্বা হয় । এই গাছ সাধারণত ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় । এই গাছের পাতা চওড়া এবং পাতার ধারে নকশা করা রয়েছে ।

পাতা থেকে ৫ থেকে ১০ টি গাছ উৎপাদন সম্ভব । সাধারণত কাঁকর মাটিতে জন্মে থাকে । তাছাড়া , ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতেও এই উদ্ভিদ জন্মায় । পাতা থেকে পাথরকুচি গাছের জন্ম হয় । এর মূলত বীজ হয় না । এর পাতার রঙ সবুজ এবং অনেকটা ডিমের আকৃতির মতো । পাতার চারপাশে যে খাঁজের মতো অংশ রয়েছে , সেই অংশ মাটিতে ফেলে রাখলেই নতুন গাছ জন্মায় । পাথরকুচি গাছ যতই ছোট হোক না কেন এটি নানা ধরনের ঔষধি গুনে ভরপুর । এই ওষুধের সবচেয়ে ভালো বিষয় হল এটি সব শ্রেণীর মানুষ ব্যবহার করতে পারে । যুবক থেকে শুরু করে শিশু বা বৃদ্ধ সকলের জন্যই কার্যকরী । তবে বড়দের জন্য এই পাতার রসের পরিমানের বেশি প্রয়োজন হয় , অন্য দিকে শিশুদের জন্য কম পরিমানে ব্যবহার হয় ।

পাথরকুচি পাতা থেকে অনেক ধরনের ওষুধ তৈরি করা হয় । এটি ব্যবহার করে রোগীরা অনেক ধরনের রোগ থেকে মুক্তি পারেন । ভারত , আফ্রিকা , দক্ষিণ আমেরিকায় পোকামাকড়ের কামড় , জখম , ফোড়া , পোড়া , আলসার , প্রদাহ এবং শুস্কতার জন্য পাথরকুচি পাতা ব্যবহার করা হয় । পাথরকুচি পাতা বিভিন্ন রকম রোগ ভালো করে এবং স্বাস্থ্যের অন্য অনেক উপকারী । কিন্তু আপনি কি জানেন পাথরকুচি পাতার উপকারিতা সম্পর্কে । তাহলে সেই বিষয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক ।
পেট ফাঁপা ঃ অনেক সময় দেখা যায় পেট ফুলে গেছে , প্রসাব আটকে আছে । সেক্ষেত্রে একটু চিনির সঙ্গে ১ বা ২ চামচ পাথরকুচি পাতার রস গরম করে খেলে উপকার পাওয়া যাবে । আবার এটি জলের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন ।
কিডনির পাথর দূর হয় ঃ পাথরকুচি পাতা খেলে এটি কিডনির পাথর দূর করে । কিডনি এবং পাকস্থলীর ঔষধ হিসেবে এই পাতার স্যুপ খাওয়া হয় । বিশ্ব জুড়ে এর বিস্তৃত পরিসরের ব্যবহারের কারণেই একে “জগতের বিস্ময়” বলা হয় । এর অনেক গুনাগুন রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো প্রসাবে এসিডিটি বেড়ে যাওয়ার কারণে জ্বালা পোড়া হলে , প্রসাবের সাথে ধাতু ক্ষয় হলে পাথরকুচি পাতা খালি পেটে রস খেলে ১০০% কমে যাবে । এছাড়া প্রসাব ঘন ঘন প্রসাব কমায় ।

মেহ সারাতে উপকারী ঃ মেহ হলো সর্দির কারণে শরীরের বিভিন্ন অংশে ফোঁড়ার মতো অংশ । এই মেহ শরীরে তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করে । সর্দি দীর্ঘদিন থাকলে মেহ দেখা যায় । তাই সেই ক্ষেত্রে মহ সারাতে তাজা পাথরকুচি পাতার রস নিয়মিত সকালে এবং বিকালে খেতে হবে । সাথে সর্দিও চলে যায় এবং কাশি থেকেও রেহাই পাওয়া যায় ।
পাইলস ঃ পাইলস বা অর্শরোগের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে পাথরকুচি পাতা । তাই আপনার যদি এই সমস্যা হয়ে থাকে তাহলে পাথরকুচি পাতার রসের সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে একসাথে খেতে পারেন । এতে উপকার মেলে ।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ঃ এই পাতা খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে । এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।
ক্ষত সারাতে সাহায্য করে ঃ পাথরকুচি পাতা ক্ষত সারাতে বেশ কার্যকরী । এই পাতার রস ক্ষত বা কাটা স্থানে প্রয়োগ করলে তা দ্রুত সেরে যায় । এর ফলে অ্যান্টিসেপটিক গুণাবলী সংক্রমন প্রতিরোধে সাহায্য করে । বিষাক্ত পোকায় কামড়ালে এই পাতার রস আগুনে সেঁকে লাগালে উপকার পাওয়া যায় ।

মৃগী এবং রক্তপিত্ত ঃ মৃগী রোগাক্রান্ত সময়ে ২-১০ ফোঁটা পাথরকুচি পাতার রস মুখে দিতে হবে । একটু পেটে গেলেই রোগের উপশম হবে । এছাড়া পিত্তজনিত ব্যথায় রক্তক্ষরণ হলে দু-বেলা এক চামচ করে এই পাতার রস দ- দিন খাওয়ালে সেরে যাবে ।
শিশুদের পেট ব্যথা সারায় ঃ শিশুদের পেট ব্যথা হলে পাথরকুচি পাতার ৩০- ৬০ ফোঁটা রস দিয়ে পেটে মালিশ কলে ব্যথার উপশম হবে । এছাড়া পাথরকুচি পাতা হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং অম্বল ও গ্যাসের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে ।