বছরের ছ ‘ টি ঋতুরই কিছু না কিছু আলাদা বিশিষ্ট থাকে । বিশেষ করে শীতকালে । শীতকালে বাজারে ছেয়ে থাকে হরেকরকম নিত্যনতুন শাকসবজিতে । পুষ্টিবিদরা সব সময়েই মরসুমি ফল ও শাকসবজি খাওয়ার উপর বেশি জোর দিতে বলেছেন । এই শীতকালীন সবজির মধ্যে একটি হল ওলকপি । ফুলকপি , বাঁধাকপি মতো কপিগোত্রের হলেও একটু অন্যরকম । সাধারনত দু ধরনের ওলকপি আছে । হালকা সবুজ এবং বেগুনি সবুজ । এই ওলকপিটি হালকা সবুজ রঙের হয় । কপির মতো লম্বা পাতা । কাঁচা এবং রান্না করে খাওয়া যায় । মূলত এটি বাঁধাকপির একটি বিশেষ প্রজাতি , কপি জাতীয় সবজি যেমন ব্রকোলি , ফুলকপি , বাঁধাকপির চেয়ে মোটামুটি শক্ত আবরণের মধ্যে বেড়ে ওঠে । এটি সেদ্ধ হতে বেশ সময় নেয় ।

এই ওলকপি দিয়ে আপনি তরকারি , স্যুপ , ভাজা সবই খেতে পারেন । অনেকেই কিন্তু ওলকপির আচারও খেয়ে থাকেন । ওলকপি ও পাতা উভয় দিয়ে তরকারি হিসাবে ব্যবহার হয় । আবার এটি সেদ্ধ করে সামান্য নুন গোলমরিচ দিয়ে হালকা ভেজে খেতে পারেন । এটি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো । ওলকপির অনেক পুষ্টিগুণ । ওলকপিতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম , ক্যালশিয়াম , পটাশিয়াম , লৌহ এবং ভিটামিন বি , ভিটামিন কে , ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ । এছাড়া ডায়েটরি ফাইবার এবং ফাইটোকেমিকেলস ও অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট সহ বিভিন্ন ক্যারোটিন পাওয়া যায় ।

ওলকপি কম ক্যালরির সবজি । পুষ্টিগুণও কম নয় । ডায়াবেটিস থেকে শুরু করে হজমের সমস্যা সবেতেই কাজ দেয় । উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে । কম ক্যালোরি ও উচ্চ ফাইবারের জন্য ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী এই সবজি । ওলকপি ক্যান্সার প্রতিরোধ , ওজন কমানো , রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি , হাড় ও দাঁত মজবুত করে , রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করা সহ দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা পালন করে । এর স্বাস্থ্য গুনও রয়েছে অনেক । এবার ওলকপির গুনাগুন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক ——-

হার্টের সমস্যা দূর করে ঃ হার্টের সমস্যা দূর করতে ওলকপির জুড়ি মেলা ভার । ওলকপিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে , যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে । এটি খেলে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কম হয় ।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ঃ ওলকপিতে গ্লুকোসিনোলেটস থাকে , এক ধরনের ফাইটোনিউট্রিয়েণ্ট যা তাদের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে ।
বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি মিলবে ঃ ওলকপিতে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টে ভরপুর । এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও ফাইবার থাকে । এগুলি খেলে ফ্রি রেডিক্যাল থেকে মুক্তি পাবেন , শুধু তাই নয় , আপনার যদি বহুদিন ধরে কোনও গুপ্ত রোগ থাকে সেটি থেকে মুক্তি দেবে ।
কম ক্যালোরি থাকে ঃ ওলকপি কম ক্যালোরিযুক্ত একটি খাবার । এটি যদি আপনি নিত্যদিন খেতে পারেন তাহলে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণণে থাকবে । শুধু তাই নয় , ওলকপি খেলে পেট আপনার অনেকক্ষণ ভর্তি থাকবে । এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ ওলকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে , যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট । এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে ।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে ঃ ওলকপি বিপাক হার বাড়াতে সাহায্য করে । ফলে ওজন বৃদ্ধির সুযোগ কম থাকে । এছাড়াও শরীরের আবাঞ্ছিত চর্বি জমতে দেয় না । রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে এই সবজি ।
রক্তচাপ হ্রাস করে ঃ নাইট্রেট সমৃদ্ধ এই কপি বেশ উপকারী । এটি নিয়মিত খাওয়ার ফলে রক্তচাপ কমানোর পাশাপাশি শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না । এছাড়াও পটটাশিয়ামও সরবরাহ করে । এটি শরীর থেকে সোডিয়াম মুক্ত করে এবং ধমনী প্রসারিত করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন কে থাকায় রক্ত ভালো রাখতে সাহায্য করে এই সবজি ।
ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে ঃ ওলকপিতে আইসোথায়োসায়ানেটস নামক একটি উপাদান র্যেছে , যা ক্যান্সার প্রতিরোধ সাহায্য করতে পারে ।

চোখের জন্য ভালো ঃ লুটেইন ও অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট সমৃদ্ধ ওলকপি চোখ ভালো রাখে । দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় । ছানি পড়ার সমস্যাগুলিকে দূরে রাখে ।
ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ঃ ওলকপিতে ভিটামিন সি রয়েছে , যা ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে । এটি ত্বকে মসৃন ও জ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে ।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ঃ যাদের কোোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য অনেক উপকারী ওলকপি । এটি বেশ উচ্চমাত্রার ফাইবারযুক্ত সবজি । নিয়মিত ওলকপি খেলে হজমশক্তি বৃদ্ধি পায় । আর এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হয় ।

হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ঃ ওলকপিতে ক্যালশিয়াম রয়েছে , যা হাড় ও দাঁতের গঠন ও ব্রৃদ্ধিতে সাহায্য করে ।