মিষ্টি এবং মুখরোচক খাবারের স্বাদের জন্য বাচ্চা থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সকলেই প্রায় খেতে পছন্দ করে চকলেট । শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্য অত্যন্ত মুল্যবান খাবারগুলির মধ্যে একটি । ডার্ক চকলেট , যা কালো চকলেট নামে পরিচিত । এই চকলেট ভিড় থেকে আলাদা । এই ডার্ক চকলেটের মূল উপাদান হল কোকো বীজ । ডার্ক চকলেট কোকো গাছের বীজ থেকে তৈরি করা হয় । ডার্ক চক্লেতের উপকারিতা কেবল উপভোগের বাইরেও বিস্তৃত , যা আপনার সামগ্রিক সুস্থতা বৃদ্ধির জন্য একটি সুস্বাদু উপায় প্রদান করে । ডার্ক চকলেট শরীর ও মন উভয়কেই পুষ্ট করার সম্ভাবনার মধ্যে । হৃদরোগের স্বাস্থ্যের উন্নতি থেকে শুরু করে মস্তিস্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে ডার্ক চকলেট খুব উপকারী । ডার্ক চকলেট প্রয়োজনীয় পুষ্টির কারণে বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে ।

ডার্ক চকলেট হোলো এমন একটি চকলেট , জাতে অন্তত ৫০ শতাংশ সলিড কোকো , কোকো মাখন এবং চিনি থাকে । কোকোর উচ্চ ঘনত্ব ডার্ক চকলেটকে সমৃদ্ধ স্বাদ এবং তিক্ততা দেয় । এটি পুষ্টিগুনে ভরপুর , ডার্ক চকলেট প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ও খনিজ সরবরাহ করে । বিশেষ করে ভালো মানের কালো বা ডার্ক চকলেটে প্রচুর পুষ্টি উপাদান রয়েছে । এতে আঁশ , লোহা , কপার , পটাশিয়াম , জিঙ্ক , ম্যাগনেসিয়াম , ম্যাংগানিজ , ফসফরাস , আয়রন ও সেলেনিয়াম রয়েছে । এটি আপনাকে বিভিন্ন রোগ থেকে দূরে রাখাতে পারে । তবে এতে উচ্চ পরিমাণে চিনি এবং ক্যালোরিও থাকে । ফলে ডার্ক চকলেট পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো । পরিমিত পরিমাণে ডার্ক চকলেট খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী । তাই খাদ্যতালিকায় এটি রাখতেই পারেন ।

ডার্ক চকলেটের উপকারিতা —–
হার্টের স্বাস্থ্য বাড়ায় ঃ ডার্ক চকলেট অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে , যা রক্তচাপ কমাতে , জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমাতে এবং হার্টে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় । প্রতিদিন চকলেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা হার্টের অসুখ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে । এতে হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকবে । সুস্বাদু চকলেট আপনার সুস্বাস্থ্য রাখতে সাহায্য করে । যারা ঘন ঘন চকলেট খান তাদের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে ।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে ঃ চকলেটে রয়েছে কোকো । এই উপাদান মূলত কোলেস্টেরল কমাতে কাজ করে । তাই চকলেট খেলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমতে থাকে দ্রুত । নিয়মিত চকলেট খেলে তা খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে আনে অনেকটাই ।

মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে ঃ ডার্ক চকলেটে পাওয়া যায় ফ্ল্যাভোনল , যা মস্তিস্কের স্মৃতিশক্তি , প্রতিক্রিয়ার সময় এবং চাক্ষুষ- স্থানিক সচেতনতা বাড়ায় । চকলেট খেলে তা মস্তিস্কের নির্দিষ্ট জায়গায় রক্ত প্রবাহ বাড়াতে কাজ করে । ফলে মস্তিস্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে ।
শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে ঃ চকলেট আমাদের শরীরে দ্রুত শক্তি বাড়াতে কাজ করে । বিশেষ করে ক্রীয়াবিদদের মধ্যে একটি জনপ্রিয় খাবার হতে পারে । কারণ , এতে থিওব্রোমিন এবং ক্যাফেইন থাকে , যা উদ্দীপক যা শক্তির মাত্রা বাড়ায় । তাই যারা নিয়মিত খেলাধুলা বা অন্যান্য পরিশ্রমের কাজ করেন তারা চকলেট রাখতে পারেন খাবারের তালিকায় । এতে উপকার পাবেন ।

স্ট্রোক হ্রাস করে ঃ মস্তিস্কে রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে স্ট্রোক ঘটে । স্ট্রোকের কারণে মস্তিকের সেই অংশ ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না । তাই নিয়মিত চকলেট খাওয়ার অভ্যাস থাকলে আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায় । ডার্ক চকলেট খাওয়ার পর স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কম হয় । ৪০ গ্রাম ডার্ক চকলেট খেলে দুই সপ্তাহের মধ্যে স্ট্রেস হরমোন কমে যায় ।
ত্বকে জলশূন্যতা থেকে বাঁচায় ঃ ডার্ক চকলেট প্রোটিন , ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে যা ত্বকের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করে । ডার্ক চকলেট খেলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় । ফলে ত্বকের আর্দ্রতা এবং ঘনত্ব বৃদ্ধি পায় ।
দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে ঃ ডার্ক চকলেটে উপস্থিত রয়েছে উচ্চ মাত্রার ফ্ল্যাভোনয়েড , যা চোখে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে , দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে পারে । এটি রাতের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে ।

ওজন কমাতে সাহায্য করে ঃ ডার্ক চকলেট ওজন কমাতে সাহায্য করে । এতে উচ্চ ফাইবার স্তর এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট থাকার ফলে এটি বিপাক বাড়াতে , তৃষ্ণা কমাতে এবং পূর্ণতার অনুভূতিকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করে । ওজন কমাতে ডার্ক চকলেট বেছে নেওয়ার অর্থ হল এতে আরও বেশি স্বাস্থ্য উপকারিতা র্যেছে এবং কম চিনি যোগ করা রয়েছে ।

মনের বিষণ্ণতা দূর করে এবং ক্যান্সারের ঝুকি কমে ঃ এই চকলেট থাকে ট্রিপটোফ্যান , যা বিষণ্ণতা রোধে ভূমিকা রাখে । ডার্ক চকলেট খেলে মনের বিষণ্ণতা দূর করে । প্রতিদিন চকলেট খেলে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে , কারণ চকলেটর প্রধান উপাদান কোকোতে রয়েছে পেণ্টামেরিক প্রোসায়াডিন বা পেণ্টামার নামে পরিচিত একটি যৌগ ।