সবুজ কাঁচা লঙ্কা প্রতিটি ভারতীয় রান্নাঘরে পাওয়া যায় । কাঁচা লঙ্কা ছাড়া কোন রান্না সম্পূর্ণ হয় না । আমরা খাবারের স্বাদ বাড়াতে অনেক মশলা ও সবজি ব্যবহার করি । এমনই একটি সবজি হল কাঁচা লঙ্কা , যা অনেক খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হয় । অনেকেই ঝাল খাবার খেতে পছন্দ করেন ! আবার অনেকে লঙ্কার নাম শুনলেই পালিয়ে যান । কাঁচা লঙ্কা শুধু রান্নার স্বাদ বাড়ায় না অন্য কাজে লাগে । সকালে জলখাবারে রুটি – তরকারির সঙ্গে হোক কিংবা বিকালের চপ- মুড়ির সঙ্গে কাঁচা লঙ্কার কামড় না বসালে অনেকেরই তৃপ্তি হয় না । অনেকেরই লঙ্কার প্রতি উজাড় করা ভালোবাসা আছে । এর আবার উল্টো ছবিও আছে । যাদের খাবারে কাঁচা লঙ্কা পছন্দ তাদের অনেকেই জানেন না কাঁচা লঙ্কায় থাকা যৌগ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়িয়ে দেয় অনেকটাই ।

কাঁচা লঙ্কায় রয়েছে , ভিটামিন সি , ভিটামিন এ , ভিটামিন কে , ভিটামিন বি৬ , কপার , পটাশিয়াম , ফাইবার , অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , ম্যাঙ্গানিজ । এছাড়া রয়েছে , নিয়াসিন , থিয়াসিন ফোলেট , ম্যাগনেসিয়াম , ফসফরাসের মতো প্রয়োজনীয় উপাদান । কাঁচা লঙ্কা দিয়ে রান্না করা খাবার খেলে মেটাবলিজাম বাড়াতে পারে । আমাদের সুস্থ রাখার পাশাপাশি রাখার পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক ক্রিয়াকলাপের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কাঁচা লঙ্কা । তবে মনে রাখা দরকার , কোন জিনিসই পরিমিত খাওয়া উচিত । কথাটি কাঁচা লঙ্কার ক্ষেত্রে সত্যিই । বেশি কাঁচা লঙ্কা খেলে পেটের সমস্যা হতে পারে । তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া খুব দরকারি ।
কাঁচা লঙ্কার খাওয়ার উপকারিতা ——–
ক্যাপসাইসিন নামক একটি যৌগ পাওয়া যায় কাঁচা লঙ্কায় । যার কারণে কাঁচা লঙ্কার স্বাদ তীব্র । ক্যাপসাইসিন মেটাবলিজাম উন্নত করতে এবং চর্বি কমাতে সাহায্য করে । এছাড়াওএটি ক্যালোরির পরিমাণ কমিয়ে খিদে কমাতে সাহায্য করে । ফলে ওজন নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে । আমরা যদি নিয়মিত ১ টি আথবা ২ টি কাঁচা লঙ্কা খেয়ে থাকি তাহলে আমাদের হজম শক্তি ভালো থাকে । কাঁচা লঙ্কায় এমন কিছু উপাদান আছে যা আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ।

কাঁচা লঙ্কায় ভিটামিন সি এবং বিটা ক্যারোটিন রয়েছে । যা চোখের স্বাস্থ্যের এবং ইমিউন সিস্টেমের জন্য ভালো । তাই কাঁচা লঙ্কা খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে । কাঁচা লঙ্কা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টে সমৃদ্ধ , যা আমাদের শরীরকে ফ্রি র্যাডিকাল থেকে রক্ষা করে । এই ফ্রি র্যাডিকাল ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে । কাঁচা লঙ্কা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে । কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলে হার্টও ভালো থাকে । হার্টের রোগের ঝুঁকি কমাতেও কাঁচা লঙ্কার জুড়ি মেলা ভার । কাঁচা লঙ্কায় থাকা ক্যাপাসাইসিন রক্ত চলাচল সচল রাখতে সাহায্য করে । কাঁচা লঙ্কা খেলে স্ট্রোকের আশঙ্কাও কমে ।
যাদের মুখে প্রায় ঘা হয় তারা নিয়মিত কাঁচা লঙ্কা খেতে পারেন । কারণ কাঁচা লঙ্কায় রয়েছে ভিটামিন বি । কাঁচা লঙ্কায় এমন কিছু উপাদান আছে যা আমাদের মানসিক অবসাদ দূর করতে সাহায্য করে । তাই নিয়মিত কাঁচা লঙ্কা খাওয়া খুব দরকার । হাড় শক্ত করতে কাঁচা লঙ্কার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে । কাঁচা লঙ্কায় রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ । ফলে এটি শুধু মাত্র হাড় শক্ত করে না বরং দাঁতকেও মজবুত করে । এটি খেলে ওজন কমাতে মোক্ষম কাজ দেয় । এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ও জিরো ক্যালোরি । কাঁচা লঙ্কা খেলে কারও পরিপাক প্রক্রিয়া অন্তত তিন ঘণ্টা ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায় । এতে দ্রুত ওজন কমতে সাহায্য করে ।

একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে যে , কাঁচা লঙ্কা কোলন , ফুস্ফুস , অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার – সহ ৪০ টিরও বেশি ক্যান্সারের সঙ্গে যুক্ত কোষগুলোকে মেরে ফেলতে সাহায্য করে । ক্যাপসাইসিন ক্যান্সার কোষের সঙ্গে যুক্ত কিছু জিন কি ভাবে কাজ করে এবং তাদের বৃদ্ধি থেকে রোধ করে তাও পরিবর্তন করতে পারে । কাঁচা লঙ্কায় ভিটামিন সি – এর পরিমাণ খুব বেশি । যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে । কাঁচা লঙ্কা ঠাণ্ডার সঙ্গে লড়তে সাহায্য করে । কাঁচা লঙ্কায় থাকা ক্যারাসাসিন হঠাৎঠাণ্ডা লাগার ধাত ও সাইনাসের সমস্যা থেকে বাঁচায় ।

কাঁচা লঙ্কা রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ও ভিটামিন সি , যা শরীরকে জ্বর , সর্দি , কাশি ইত্যাদি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকে তারুণ্য ধরে রাখার কাজ করে এই কাঁচা লঙ্কার নানা উপাদান । এতে কমলালেবুর চেয়ে তিনগুন বেশি ভিটামিন সি থাকে । কাঁচা লঙ্কা ফাইবারে সমৃদ্ধ । এটি পেট পরিস্কার করতে সাহায্য করে । তাই কাঁচা লঙ্কা খলে বদদহজমের আশঙ্কা কমে । এছাড়া রান্নায় কাঁচা লঙ্কা ব্যবহার করলে পেটে আলসার প্রতিরোধ শক্তিও বাড়তে পারে । সুগার নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা পালন করে কাঁচা লঙ্কা । যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য এটি খুব উপকারী । কাঁচা লঙ্কা ছেলেদের প্রোস্টেট ক্যান্সার ঝুঁকি কমায় । এছাড়াও নিয়মিত কাঁচা লঙ্কা খেলে স্নায়ুর বিভিন্ন সমস্যা কমে ।