CURD : গরমের দুপুরে এক বাটি খেয়ে নিন । যা ম্যাজিকের মতো কাজ করে ।

স্বাস্থ্য সম্মত খাবার দিয়ে দিন শুরু করতে পারলে স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী । সে ক্ষেত্রে টক দই একটি ভালো খাবার । যাঁদের দুধ খেতে একেবারে ভালো লাগে না , তাঁদের জন্য বিকল্প হিসেবে রয়েছে টক দই । এটি স্বাস্থ্যের জন্য উপকার এবং টক দইয়ের গুনের শেষ নেই । দুগ্ধজাত এই খাবারটি বিভিন্ন উপায়ে খাওয়া যায় । টক দই ফলের সাথে খাওয়া যায় , আবার স্মুদি তৈরি করেও খাওয়া যায় । টক দই খাওয়ার উপযুক্ত একটি সময় হল সকালে খাওয়ার পর বা দুপুরে খাওয়ার পর । গরমের দুপুরে টক দই যেন ম্যাজিকের মতো কাজ করে । টক দই-এ চিনি বা মিষ্টি জাতীয় কিছু মিশিয়ে খাবেন না প্রয়োজনে একটু বিট নুন ব্যবহার করতে পারেন ।

টক দই একটি দুগ্ধজাত পন্য যা ল্যাকটোব্যাসিলাস বুলগারিকাস এবং স্ট্রেপ্টোকক্কাস থার্মোফিলাসের মতো উপকারী ব্যাকটেরিয়া দিতে দুধকে গাঁজন করে তৈরি করা হয় । টক দই পুষ্টির ভাণ্ডার । এতে ক্যালসিয়াম , পটাশিয়াম , ভিটামিন বি২ , বি১২ , জিঙ্ক , প্রোটিন , ফসফরাস , ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে , যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী । নিয়মিত টক দই খেলে পেটের সমস্যা কমে , হজম শক্তি বৃদ্ধি করে , রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় , শরীর ঠাণ্ডা থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । প্রতিদিন নিয়ম করে এক কাপ টক দই খেলে জটিল শারীরিক সমস্যা থেকে চিরকালের মতো মুক্তি পাবেন ।

প্রতিদিন দই খেলে নানা ধরনের স্বাস্থ্যের উপকারিতা পাওয়া যায় । যেমন ———————–

হাড় ও দাঁত মজবুত করে ঃ দই ফসফরাস এবং ক্যালশিয়ামের একটি সমৃদ্ধ উৎস । যা হাড়ের ঘনত্ব এবং দাঁতের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ । দইয়ে প্রচুর পরিমানে এই খনিজ গুলি থাকার ফলে হাড় মজবুত ও দাঁতকে শক্তিশালী করতে , অষ্টিওপরোসিসের ঝুঁকি কমাতে এবং সামগ্রিক কঙ্কালের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । এক কাপ দইয়ে অন্তত ২৭৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় , যা হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ দইয়ে থাকা প্রোবায়োটিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এই উপকারী ব্যাকটেরিয়া অ্যান্টিবডির উতপাদঙ্কে উদ্দীপিত করে এবং ইউমিন কোষকে সক্রিয় করে । রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে টক দইয়ের উপাদান কার্যকর । টক দইয়ে ম্যাগনেসিয়াম , জিঙ্ক এবং সেলেনিয়ামের থাকার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায় ।

শরীরকে ডি- টক্সিফাই রাখে ঃ শরীরকে ডি- টক্সিফাই রাখতে দইয়ের জুড়ি মেলা ভার । শরীর থেকে যত টক্সিন বেরাবে শরীর ততই সুস্থ থাকবে । তবে গরমের সময় তক দইয়ের সাথে কিশমিশ মিশিয়ে খেলেও দারুন উপকার মিলবে ।

ওজন নিয়ন্ত্রণ করে ঃ টক দইয়ে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন থাকে তাই অনেকক্ষণ খিদে লাগে না । অতিরিক্ত খাবার ইচ্ছেও কমে যায় , ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ অনেক সহজ হয় । টক দই খেলে খুব সহজেই বাড়তি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন । এছাড়া এটি শরীরের ফ্যাট বার্ন করে বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে থাকে ।

হজম সাহায্য করে ঃ দই প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ , যা উপকারী ব্যাকটেরিয়া । হজম প্রক্রিয়া এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রোবায়োটিক কার্যকরী । তাই বলা হয় দুপুরে ভাত খাওয়ার পর টক দই খেলে তা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে । টক দইয়ের সাথে কিসমিস মিশিয়ে খেলে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় । এছাড়া , যারা পেট ফোলা , বদহজম বা ডায়রিয়ার সমস্যায় ভুগছেন তারা সকালে দই খেতে পারেন ।

শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ঃ টক দই পর্যাপ্ত পরিমানে পটাশিয়াম , ভিটামিন বি১২ এবং ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে , যা শরীরের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে । প্রতিদিন টক দই খেলে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে । নিয়মিত এক কাপ করে টক দই খেলে এক – তৃতীয়াংশ রক্তচাপ কমে যায় । তাই এই রোগে আক্রান্ত হতে না চাইলে নিয়মিত টক দই খাওয়া দরকার ।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে ঃ টক দইয়ে ফ্যাট না থাকায় টক দই খারাপ কোলেস্টেরল কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভালো কোলেস্টেরল উৎপাদন সাহায্য করে ।

হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় ঃ দইয়ের মতো গাঁজানো দুগ্ধজাত দ্রব্য হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে অবদান রাখতে পারে । কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায় টক দই খেলে , যা কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top