ডাবের জলের নানা উপকারিতা কথা আমরা সকলেই জানি । শরীরের জলের ঘাটতি দূর করতে সাহায্য করে ডাবের জল । গরমের দিনে পিপাসা মেটাতে ডাবের জলের জুড়ি মেলা ভার । ভালো স্বাস্থ্যের জন্য ডাবের জল যেমন উপকারী , তেমনই উজ্জ্বল ত্বকের জন্যও উপকারী ডাবের জল । আছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর আশ্চর্য ক্ষমতা । দেহে ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামের অভাব হলে বিভিন্ন অসুখ – বিসুখ হয় । তখন ডাক্তারা ডাবের জল খাওয়ার পরামর্শ দেয় । কারণ , ডায়রিয়া বা কলেরা হলে হলে দেহে প্রচুর জল ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি দেখা যায় । আর এই ঘাটতি অনেকাংশে পূরণ করতে পারে ডাবের জল । শরীরের অনেক উপকার হয় ডাবের জল খেলে ।

অনেকেই তাই নিয়মিত ডাবের জল খেয়ে থাকেন । কিন্তু ঠিকঠাক না জেনে অতিরিক্ত ডাবের জল খেলে কিছু বিপদও কিন্তু আছে । আবার কিছু রোগ থাকলেও ডাবের জল খাওয়া যাবে না । ডাবের জল ক্যালসিয়াম , সোডিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম – সহ নানা খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ । কিন্তু সকলের জন্য এই ডাবের জল স্বাস্থ্যকর নাও হতে পারে ।স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে যদি ডাবের জল খেতে থাকেন তাহলে হিতে বিপরীত হবে । ফলে , শরীরে দেখা দেবে একাধিক সমস্যা । শুধু উপকারিতা নয় , ডাবের জলের রয়েছে কিছু অপকারিতা । তাহলে জেনে নেওয়া যাক কোন কোন রোগ থাকলে ডাবের জল খাওয়া অস্বাস্থ্যকর ।
ক্যালোরি বাড়ায় ঃ যারা ওজন কমাতে চাইছেন তাদের ডাবের জল না খাওয়াই ভালো । কারন শরীরে ক্যালরির মাত্রা বাড়ায় ডাবের জল । স্বাস্থ্যকর পানীয় বা ফলের রসের তুলনায় ডাবের জলে চিনির পরিমান কম থাকে । তবুও ডাবের জল খেলে নিমেষে ক্যালরি বেড়ে যায় ।
রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় ঃ ডাবের জলে প্রচুর পরিমানে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম রয়েছে । শরীরের সোডিয়ামের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে রক্তচাপ বেড়ে যায় । তাই যাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক ভাবেই বেশি তাদের প্রতিদিন ডাবের জল খাওয়া উচিত নয় । তবে সপ্তাহে দুই – একদিন খেতে পারেন ।
রক্তে শর্করা বাড়ায় ঃ ডাবের জলে চিনির পরিমান কম থাকলেও কার্বোহাইড্রেট ও ক্যালরি অধিক মাত্রায় থাকার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় । রক্তে শর্করা বেশি হলে বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করতে পারে , যেমন – স্নায়ুর ক্ষতি , কিডনির ক্ষতি , চোখের সমস্যা , কার্ডিওভাস্কুলার – জনিত সমস্যা ইত্যাদি । তাই প্রতিদিন ডাবের জল খাওয়া ঠিক নায় । আর ডায়াবেটিস থাকলে ডাবের জল এড়িয়ে যাওয়াই উচিত ।

কিডনির সমস্যা ঃ ডাবের জলে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম রয়েছে । তাই নিয়মিত এই পানীয়টি খেলে কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে । অতিরিক্ত পটাশিয়াম শরীরে প্রবেশ করলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে পারে । তার ফলে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ সঠিক ভাবে বেরোতে পারে না এবং একাধিক সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে । তাই কিডনির সমস্যা থাকলে ডাবের জল এড়িয়ে চলা উচিত , তা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো ।
অ্যালার্জির সমস্যা ঃ ডাবের জলে ট্রোপোমায়োসিন নামক এক ধরনের প্রোটিন থাকে । সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডাবের জল খেলে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে । এছাড়া ডাবের জলে ইলেক্ট্রোলাইটের পরিমান বেশি । এতে পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ থেকেও অ্যালার্জি – জনিত সমস্যা হতে পারে । তাই যাদের ডাবের জল খেলে অ্যালার্জি হয় , তারা এই পানীয় না খাওয়াই ভালো ।
হাইপারক্যালেমিয়া সমস্যা হতে পারে ঃ ডাবের জলে বেশি মাত্রায় পটাশিয়াম রয়েছে । যাদের শরীরে আগে থেকেই পটাসিয়াম বেশি থাকে , তাঁরা নিয়মিত ডাবের জল খেলে হাইপারক্যালেমিয়া -র মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে , হাইপারক্যালেমিয়া হলে কিডনি বিকল হতে পারে । এর ফলে কার্ডিইয়াক অ্যারেক্ট এবং মৃত্যু হতে পারে ।