Capsicum Benefits: এটি আমরা সবাই খেয়ে থাকি কিন্তু এর উপকারিতার কথা আমরা জানি কি ।

সবুজ শাকসবজির মধ্যে অন্যতম হল ক্যাপসিকাম । আসলে সবুজ ক্যাপসিকাম ছাড়াও লাল ও হলুদ ক্যাপসিকামও বাজারে পাওয়া যায় । সব ধরনের ক্যাপসিকামই পুষ্টিগুনে ভরপুর । কিন্তু সবুজ ক্যাপসিকামকে অন্য সব ক্যাপসিকামের চেয়ে বেশি উপকারী বলে মনে করা হয় । পুষ্টির পাওয়ার হাউস বা বেল পেপার বলা হয় ক্যাপসিকামকে । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাবারে সহায়ক উপকরণ হিসেবে ক্যাপসিকাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে । মূলত আমাদের দেশে লাল ও সবুজ ক্যাপসিকাম বেশি দেখা যায় । দেশীয় সবজি না হলেও এর চাষ ধীরে ধীরে বাড়ছে এই দেশে । সবজি হিসেবে চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

লাল ও সবুজ ও হলুদ রঙের পাওয়া ক্যাপসিকাম স্বাস্থ্যের দিক থেকে খুব উপকারী । ভিটামিন এ , ভিটামিন সি এবং বিটা – ক্যারোটিনের এটি প্রধান উৎস । ক্যাপসিকাম বা বেল পেপারের গুনাগুন প্রচুর । ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে । আই অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ক্যাপসিকাম রান্না করলে এর ভিটামিন সি অনেকটাই নষ্ট হয়ে প্রধানত , শাকসবজি , নুডুলস এবং সাজসজ্জার জন্য ব্যবহার করা হয় । ক্যাপসিকাম অনেকে আবার স্যালাড রুপে খেতেও পচ্ছন্দ করেন । বরং কাঁচা বেল পেপার স্যালাডে খেলেই এর পুষ্টিগুন পুরোপুরি পাওয়া যায় । স্টার -ফ্রাই মেথডেও বেল পেপার রান্না করে খেতে পারেন । উচ্চ তাপমাত্রায় বেশিক্ষণ রান্না না করাই ভালো । এতে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টও ভরপুর থাকে , যা শরীরের জন্য খুব উপকারী ।

আপনি যদি ওজন কমানোর চিন্তায় থাকেন তাহলে ক্যাপসিকাম আপনার জন্য খুব উপকারী । এতে খুব কম পরিমাণে ক্যালরি থাকে যা ওজন কমাতে সহায়ক । এতে মেটাবলিজম প্রক্রিয়া বৃদ্ধি পায় । ক্যালরি পড়ানোর পাশাপাশি এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে দেয় না । হৃদরোগ , হাঁপানি এবং ছানি প্রতিরোধেও এটি খুব উপকারী । ভিটামিন ই ,এ পাওয়া যায় ক্যাপসিকাম থেকে তাই চোখের জন্য অনেক উপকারী এই সবজি । একই সঙ্গে চুল ও ত্বকের জন্যও খুব ভালো । হাড় ও হার্ট দুই -ই ভালো রাখে । পটাসিয়াম ইত্যাদি উপাদান প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায় । তাই শরীরের আয়রন গ্রহণ ক্ষমতাও বাড়ায় । দীর্ঘদিন ফ্রিজে রেখে না খাওয়াই ভালো । বাজার থেকে কিনে দু’তিন দিনের মধ্যে খেয়ে নিলেই উপকার বেশি ।

সবুজ ক্যাপসিকামের উপকারিতা —- সবুজ ক্যাপসিকাম অনেক ভিটামিন এবং খনিজ সমৃদ্ধ । সবুজ ক্যাপসিকাম খেলে অন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী । আসলে সবুজ ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে । যা খেলে শরীরের পরিপাকতন্ত্র মজবুত হয় এবং অন্ত্রে ক্যান্সারের মতো রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না । এতে রয়েছে অ্যান্টি – অক্সিডেণ্ট । সবুজ ক্যাপসিকামে ভিটামিন সি – এর সেরা উৎস হিসেবেও বিবেচনা করা হয় । সবুজ ক্যাপসিকাম খেলে উচ্চ রক্তচাপ , ক্যান্সার ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমে ।

সবুজ ক্যাপসিকাম খেলে কোলেস্টেরল , রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে । যার কারণে হৃতরোগের ঝুঁকি কমে । সেই সঙ্গে সবুজ ক্যাপসিকামে উপস্থিত লুইটেন নামক একটি উপাদান দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেও সহায়ক । সুস্থ থাকতে বেশি করে ক্যাপসিকাম খান । বেশি বেছে নিন সবুজ ক্যাপসিকাম । নিয়মিত খেতে পারলে তো আরও ভাল । এই ক্যাপসিকামটি একটু অল্পবয়সীদের জন্য উপকারী । এই ক্যাপসিকামে ক্যাপসাইসিনস নামক উপাদান ডিএন এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদানের সংযুক্ত হওয়াতে বাধা দেয় । এটি ক্যান্সার প্রতিরোধে কাজ করে । এটি মাইগ্রেন , সাইনাস , ইনফেকশন , দাঁতে ব্যথা ,অষ্টিওআরথাইটিস ইত্যাদি ব্যথা দূর করতে কাজ করে । সবুজ ক্যাপসিকাম রক্তের অনুচক্রিকা উদ্দীপিত করে সংক্রমনণ রোধ করে থাকে ।

লাল ক্যাপসিকামের উপকারিতা ————— লাল ক্যপসিকামে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে । এতে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টের পরিমাণও বেশি থাকে । লাল ক্যাপসিকাম খেলে ত্বকের স্বাভাবিক বজায় থাকে , চুলের সৌন্দর্য বাড়ে , চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং এতে কোলেস্টেরল কম থাকায় এটি মোটা হওয়ার প্রবণতা কমায় ।

হ্লুদ ক্যাপসিকামের উপকারিতা ————– হলুদ ক্যাপসিকামে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট । এটি ফ্রি রেডিকেলের সঙ্গে লড়াই করে এবং সেল খতিগ্রস্থ হওয়া রোধ করে । এই ক্যাপসিকামে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ও ফাইবার শরীর থেকে টক্সিন বের করে । এছাড়া হজমশক্তি , কোলেস্টেরল কমায় এবং উচ্চ রক্তচাপ কমায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।

কিভাবে খাবেন – ক্যাপসিকাম কাঁচা বা রান্না করে খাওয়া যায় , স্যালাডে ব্যবহার করুন, স্ট্রিপগুলিতে কেটে নিন এবং ডিপ দিয়ে খান বা ভাজ্য গারনিশ হিসাবে ব্যবহার করুন । পিজ্জাতে ব্যবহার জন্য ডাইস ক্যাপসিকাম , কাবাবের জন্য টুকরো টুকরো করে কাটা , পাস্তা সস ব্যবহার করুন অথবা ভাজা যোগ করুন ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top