Best Food for eye : চোখ ভালো রাখতে কোন ধরনের খাবার খাওয়া দরকার ।

মানব দেহের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশের নাম চোখ । দৈনন্দিন জীবনের কর্ম- ব্যস্ততার প্রভাব পরে আমাদের চোখের উপর । বর্তমানে সময়ে চোখ ওঠা , চোখের অ্যালার্জি – সহ নানাবিধ চোখের সমস্যা দেখা দিচ্ছে । গরমে আর বর্ষায় চোখের সমস্যা বেশি দেখা দেয় । শিক্ষার্থী , কর্মজীবী বেশির ভাগ মানুষই আজকাল চশমা ব্যবহার করছেন । একটানা বই পড়া অথবা বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস , যেমন – কম্পিউটার , মোবাইল , এবং ল্যাপটপের বেশি ব্যবহার চোখের দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেয় । পাশাপাশি ভিটামিনের অভাবে হতে পারে চোখের সমস্যা , এছাড়া বার্ধক্য – জনিত কারণে চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে খাদ্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ । সব উপায়ে ভালো থাকতে চাইলে আমাদের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা খুবই জরুরি । সে ক্ষেত্রে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এটি একটি অনস্বীকার্য সত্য যে দৃষ্টিশক্তি আপনার খাদ্য পছন্দের উপর ঘনিষ্ঠ ভাবে নির্ভরশীল । খাদ্যের বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি চোখের বিস্তৃত রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং বয়স- সম্পর্কিত পেশীর অবক্ষয় থেকে চোখকে রক্ষা করে । সুস্থ শরীরের জন্য প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাবার । কার্বোহাইড্রেট , খনিজ পদার্থ , প্রোটিন , চর্বি , ভিটামিন , ফাইবার এবং জলের সুষম সংমিশ্রণ স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যে রয়েছে । অর্থাৎ খাদ্যতালিকায় এমন শাকসবজি রাখা প্রয়োজন , যেগুলি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে । দীর্ঘমেয়াদি চোখের সমস্যা যেমন রিকেট , রেটিনার সমস্যা এবং ছানি এড়াতে অবশ্যই কিছু খাবার নিয়মিত খেতে হবে । যার মধ্যে অন্যতম জিয়াজেন্থিন যা চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ধরনের খাবার চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে ———————–

গাজর ঃ গাজরে প্রচুর পরিমানে বিটা – ক্যারোটিন রয়েছে , যা শরীরে ভিটামিন এ – তে রূপান্তরিত হয় । চখের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এ । এটি রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক ভাবে দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে ।

বাদাম এবং শুকনো ফল ঃ কাজু বাদাম , বাদাম , কিশমিশ এপ্রিকট ইত্যাদি বাদাম খাওয়া চোখের জন্য ভালো । ভিটামিন ই সমৃদ্ধ এগুলো , যা প্রতিরোধে সাহায্য করে ছানি এবং বয়স- সম্পর্কিত ম্যাকুলার অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে । এছাড়া চোখের মাসলের উন্নতিতেও সাহায্য করে ।

কালে ঃ কালে ভিটামিন এ , ভিটামিন সি , ভিটামিন কে এবং লুটিন , জিয়ানক্সান্থিন সমৃদ্ধ । রেটিনার স্বাস্থ্যের জন্য এগুলি খুবই সহায়ক । চোখের স্বাস্থ্যের ক্ষতিকারক নীল আলোক অবরুদ্ধ করে ম্যাকুলার ক্ষয়ের ঝুঁকি কমায় ।

লাল ক্যাপসিকাম ঃ লাল ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি থাকে । এতে থাকা ভিটামিন এ চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় । আর ভিটামিন সি চোখের রক্তনালীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে এবং ছানি পড়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে ।

সূর্যমুখী বীজ ঃ সূর্যমুখী বীজে প্রচুর পরিমানে রয়েছে ভিটামিন ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে চোখকে রক্ষা করে । এছাড়া , সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে চোখকে ।

ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার ঃ চোখের জন্য ভিটামিন এ যুক্ত খাবারের গুরুত্ব অপরিসীম । কারণ , ভিটামিন এ -এর অভাবে রাতকানা হয় । ঘি , মাখন , ডিম , দুধ , দই ইত্যাদি ভিটামিন এ এর ভালো উৎস । আর দুধ এবং দইয়ে আছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ এবং জিঙ্ক । জিঙ্ক লিভার থেকে চোখের রেটিনায় ভিটামিন এ অনু পৌঁছে দিতে সাহায্য করে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top