শীতের মুখে হেমন্তে একটানা বৃষ্টিতে চটজলদি পাল্টে গিয়েছে চারপাশের আবহাওয়া । রাতারাতি মরশুমি পরিবর্তনে বেড়ে যায় অসুস্থতার প্রবণতা । শিশু এবং বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন এই পরিবর্তিত মরশুম বা অকালবর্ষায় । এই সমস্যা প্রতিরোধে অন্যতম হাতিয়ার হল গোলমরিচ । ভারতীয় হেঁশেলের চিরচেনা মশলা গোলমরিচ । রান্নায় স্বাদ – গন্ধের পাশাপাশি গুনও বৃদ্ধি করে এই মশলা । গোলমরিচের ঝাঁঝে দূর হয় একাধিক শারীরিক সমস্যা । অনেকে ধূমপান ছারাতে চাইলেও এই আসক্তি কাটিয়ে উঠতে পারেন না । কিন্তু কালো গোলমরিচের সঠিক ব্যবহারের ফলে এই নেশা আপনি সহজেই কাটিয়ে উঠতে পারেন । আর এই গোলমরিচ যে কোনও সমস্যায় সাহায্য করে ।

গোলমরিচকে মশলার রাজা বলা হয় । কারণ এটির মতো গুনাগুন আর কোনও মশলায় এত নেই । এটি হল গাছের মূলত দক্ষিণ ভারতের মূল মশলা । গোলমরিচ মশলা ও ওষুধ হিসেবেও ব্যবহার করা হয় । গোলমরিচ হল সবথেকে উপকারী মশলা । এই মশলা স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী ।যেমন – ক্ষিদে বাড়ায় , খাবার হজম করে , লিভারকে সুস্থ করে এবং ব্যথা ও পেটের কৃমি দূর করে । গোলমরিচ তীক্ষ্ণ এবং গরম হওয়ার কারণে এটি মুখের ভিতরে লালা তৈরি করে এবং শরীরের সমস্ত উৎস থেকে মল শ্রি বের করে উৎসকে শুদ্ধ করে । এটি ডায়ারিয়া , হার্টের অসুখ , থেকে শুরু করে দাঁতরে অসুখ অ্যানিমিয়া এমনকি সর্দি – কাশিতেও বেশ কাজ দেয় । এটি প্রস্রাব বাড়ায় এবং হাঁপানি ধ্বংস করে ।

গোলমরিচ পুষ্টিতে ভরপুর । এর মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম , ফসফরাস , সোডিয়াম , জিঙ্ক , ম্যাগানিজ , নিয়াসিন , ফোলেট , বিটাইন , বিটা ক্যারোটিন , অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , ভিটামিন ই , কে এবং এ রয়েছে । গোলমরিচের মধ্যে পিপারিন নামক উপাদান থাকে , সেই জন্যই এটি ঝাঁঝালো স্বাদের হয় । এটি হজমের দারুণ ভাবে সাহায্য করে । এর মধ্যে থাকা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড হজমে সাহায্য করে । গোলমরিচ হল ভিটামিনের খনি । বাজারে দুই ধরনের গোলমরিচ পাওয়া যায় ,যেমন সাদা এবং কালো মরিচ । ত্বকের রোগ থাকলে গোলমরিচ কাজে লাগান । গোলমরিচের আরেকটি অনন্য গুন হল , এটি আপনার রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ রাখবে । রক্তে শর্করার মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে গোলমরিচ । জেনে নিন শীতে গোলমরিচ খাওয়ার উপকারিতা —

১। যারা প্রচুর পরিমাণে ধূমপান করেন তাদরে জন্য গোলমরিচ খুবই উপকারী । গোলমরিচ খাওয়া উল্লেখযোগ্য ভাবে ধূমপানের আসক্তি হ্রাস করে ।
২। নাক বন্ধ হওয়া এবং হাঁপানির মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতেও গোলমরিচ খুবই উপকারী । এক কাপ ফুটন্ত জলে এক টেবিল চামচ মধু যোগ করলে শ্লেস্মা দূর হয় । একইসঙ্গে গলা ব্যথা কমায় ।
৩। গোটা কালো গোলমরিচের টুকরো অতিরিক্ত মেদ কমাতে সাহায্য করে । তাই খাবারে বেশি করে গোলমরিচ ব্যবহার করা খুব স্বাস্থ্যকর । কারণ পাকস্থলীতে হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের ক্ষরণ বেড়ে যায় । তাই এটি হজম , কোষ্ঠকাঠিন্য , ডায়ারিয়ার মতো সমস্যা প্রতিরোধ করে । শরীরে হজমের সমস্যার কারণে অনেক রোগ দেখা দেয় ।

৪। দাঁতের ব্যথা থেকে মুখের ক্ষত সারাতে গোলমরিচ খুব উপকারী মনে করে আয়ুর্বেদ শাস্ত্র । এছাড়া হেঁচকি বন্ধ করতে , চোখের নানান সমস্যা সারাতে গোলমরিচ খুব উপকারী । এছাড়া আমাশয় , নাসা রোগ সারাতে গোলমরিচের গুরুত্ব রয়েছে । মুখের ভেতরের দুর্গন্ধ দূর করতেও গোলমরিচ উপকারী ।
৫। আবহাওয়া বদলের সময় ও বিশেষ করে ঠাণ্ডা লেগে যদি সর্দি – কাশির সমস্যা দেখা দেয় । ঘরোয়া উপায় হিসেবে গল্মরিচের ব্যবহার করা হয় । শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে গোলমরিচ ।
৬। ত্বকের সমস্যা হলেও গোলমরিচ কাজে লাগে । গোলমরিচ গুঁড়ো স্ক্রাবার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন । এতে ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর হয় । পিগমেণ্টেশন ও অ্যাকনে দূর করতেও সাহায্য করে ।

৭। গোলমরিচে রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লেমেটারি গুন । যা পুরনো কোনও ব্যথা বা ফোলাভাব থাকলে তাকে কমিয়ে দিতে সাহায্য করে । বিশেষজ্ঞদের মতে , পুরনো ব্যথা বেদনা থকে অনেক রোগ জন্ম নিতে পারে । তবে, সেই পুরনো ব্যথা সারাতে গোলমরিচ কার্যকরী বলে প্রমাণিত ।
৮। গ্যাসের সমস্যা কমাতেও গোলমরিচ কার্যকরী । গোলমরিচ , রসুন একসঙ্গে পিষে খেলে উপকার পাওয়া যায় । আয়ুর্বেদিক বিশেষজ্ঞদের মতে , এর মধ্যে থাকা কারমিনেটিভ বিশিষ্ট রয়েছে । অর্থাৎ এটি পেট ফাঁপা উপশম করে ।

৯। শরীরে ভাল কোলেস্টেরলকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এই মশলা যার ফলে হৃত জনিত রোগের সম্ভবনাও কমে যায় । এছাড়া গোলমরিচ ক্যান্সারের প্রতিরোধ করতেও সক্ষম । গোলমরিচের মধ্যে থাকা উপাদান স্তন ক্যান্সার, প্রস্টেট এবং কোলন ক্যান্সারকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে ।
১০। মস্তিস্কের ক্রিয়াকলাপেও অংশগ্রহণ করে । গোলমরিচে থাকা উপাদানগুলি । অ্যালাঝাইমার মত রোগকে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে গোলমরিচ ।