Tamarind : তেঁতুলের স্বাস্থ্যকর গুন ।

তেঁতুল জনপ্রিয় একটি ফল । ফলটি মিষ্টি এবং টক । এর স্বাদের জন্য এটি সুপরিচিত । তেঁতুল নাম শুনলেই মুখে জল আসে । বিশেষ করে মেয়েদের কাছে এটি খুব জনপ্রিয় ফল । এই ফলটি অনন্য স্বাদ ছাড়াও , এর হাজার গুন রয়েছে । প্রাচীনকাল থেকে তেতুল তার ঔষধি বিশিষ্টগুলির জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে । তেঁতুল আমাদের দেশের বসন্তকালের টকজাতীয় ফল হলেও সারা বছর পাওয়া যায় । অনেকেরই ধারণা করেন , তেঁতুল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক ,এবং তেঁতুল খেলে রক্ত জল হয় । এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল । বরং তেঁতুলে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি ও ভেষজ গুন । তেঁতুল দিয়ে কবিরাজি , আয়ুর্বেদীয় , হোমিও ও এলোপ্যাথিক ওষুধ তৈরি করা হয় ।

খাদ্যশক্তির পরিমান নারকেল ও খেজুর ছাড়া সব ফলের চেয়ে অনেক গুন বেশি তেঁতুলে । ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সব ফলের চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুন বেশি আছে । তেঁতুল দেহে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং হৃদরোগীদের জন্য খুব উপকারী । তেঁতুলে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান স্বাভাবিক পরিমাণে আছে । যেসব রোগের জন্য উপকারী তা হল স্কার্ভি রোগ , শরীর জ্বালা করা প্রভৃতি রোগে তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী । এটি কোষ্ঠকাঠিন্য , গলা ব্যথা , এমনকি স্যানস্ট্রোকের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে । সাম্প্রতিক সময়ে , এটি ত্বকের যত্ন এবং চুলের যত্নেরও অংশ হয়ে ওঠেছে । এবার জেনে নিন তেঁতুলের আর কি কি উপকার রয়েছে ।

জ্বালা , যন্ত্রণা কমায় ঃ তেঁতুল যে কোনও রকম প্রদাহ কমাতে কার্যকর , কারণ এতে উচ্চ মাত্রার টারটারিক অ্যাসিড রয়েছে । যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট । Geraniol , এটি আরেকটি প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট যা অগ্ন্যাশয়ের টিউমারের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে ।

ওজন কমাতে সাহায্য করে ঃ ওজন কমানোর যাত্রায় তেঁতুল অনেক কার্যকর একটি উপাদান । বেশি ওজন হলে হৃদরোগ , কিডনি , লিভারের ব্যাধিগুলির ঝুঁকি বেড়ে যায় । তেঁতুলে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার আবার একই সঙ্গে এটা সম্পূর্ণ ফ্যাট ফ্রি । প্রতিদিন তেঁতুল খেলে ওজন কমাতে সাহায্য করে । এছাড়াও তেঁতুল উপস্থিত Hydroxycitric acid খিদে কমায় ।

লিভার সুরক্ষিত রাখে ঃ তেঁতুল লিভার বা যকৃতকেও সুরক্ষিত রাখে । গবেষণায় দেখা গেছে যে , তেঁতুলের নির্যাস গ্রহণের ফলে লিভারের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস পায় । এতে থাকা প্রোকিয়ানিডিনগুলো লিভারের ফ্রি র‍্যাদিকাল ক্ষতির বিরুদ্ধে লড়াই করে । তেঁতুল খনিজ সমৃদ্ধ । যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়টা করে , এতে থাকা ভিটামিন ই এবং সেলেনিয়াম লিভারের লিপিড সামগ্রীগুলোকে ফ্রি র‍্যাডিকাল আক্রমণ থেকে রক্ষা করে ।

হার্টের স্বাস্থ্যর উন্নতি করে ঃ তেঁতুল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে । এটি উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ । এটি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল হ্রাস করে । ফলে হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে ।

রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ঃ তেতুলের পাল্পে কার্ব – ব্লকিং বিশিষ্ট রয়েছে । এটি শরীরকে কার্বোহাইড্রেট শোষণ সহায়তা করে । ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য তেঁতুল বেশ উপকারী । এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমায় । তেঁতুল অ্যান্টি – ইনফ্লেমেটরি বিশিষ্ট রয়েছে । যা অগ্ন্যাশয়কে প্রদাহজনক ক্ষতি থেকে রক্ষা করে ।

ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে ঃ তেঁতুলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বিশিষ্ট রয়েছে । এর ফলে এটি বিভিন্ন অঞ্চলে প্রধান ঔষধি উদ্ভিদ হয়ে দাঁড়িয়েছে । আফ্রিকান উপজাতিরা , প্রাচীন কাল থেকে ম্যালেরিয়ার চিকিতসায় জন্য এটি ব্যবহার করে আসছে । বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে অনেক সময় জ্বর হয় , এ ক্ষেত্রে তেঁতুলের রস বেশ কার্যকর ।

চোখের জন্য ভাল ঃ তেঁতুল চোখের ড্রপ তৈরিতেও ব্যবহৃত হয় । এটি কনজেক্তিভাইটিসের চিকিৎসায় সহায়তা করে । প্রাচীনকালে চোখ সম্পর্কিত সমস্যাগুলি মোকাবেলা করার জন্য তেঁতুল ব্যবহৃত হত ।

চুলের যত্নে সহায়তা করে ঃ তেঁতুল চুলের যত্নের জন্য একটি কার্যকর উপাদান । মাথার ত্বকে তেঁতুলের রস লাগান । এটি ফলিকলের বৃদ্ধি ঘটাবে । চুলকে শক্তিশালী করতে সহায়তা করে । মাথার ত্বকের ফলিকলের বৃদ্ধি ঘটায় । তেঁতুলে থাকা ভিটামিন সি চুলকে ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে । চুলকে প্রাকৃতিক ভাবে উজ্জ্বল করে তোলে ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ তেঁতুলের রস আপনার স্বাস্থ্যের জন্য জাদুর মতো কাজ করবে । সর্দি , কাশি ,ফ্লু , দূর করবে । এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং ভিটামিন সি রয়েছে । যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে । তেঁতুলে থাকা অ্যান্টিসেপটিক বিশিষ্টগুলির কারণে শরীর থাকে জীবাণুমুক্ত ।

হজম জনিত সমস্যা দূর করে ঃ নিয়মিত তেঁতুল খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায় । এটি ফাইবার সমৃদ্ধ । তাই আমাদের অন্ত্রের গতিবিধি সহজ করে । প্রাচীনকাল থেকে তেঁতুল কোষ্ঠকাঠিন্যের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ম্যালিক এবং টারটারিক অ্যাসিড রয়েছে । ডায়রিয়া জনিত পেটে ব্যথা কমাতে তেঁতুলের ছাল এবং মূলের নির্যাস কার্যকর ভাবে নিরাময় করতে পারে ।

ত্বক উজ্জ্বল এবং এক্সফোলিয়েট করে ঃ তেঁতুলের পাল্প যুগ যুগ থেকে ত্বকের যত্নে ব্যবহার হয়ে আসছে । এটি স্ক্রাব হিসাবে ব্যবহৃত হয় । তেঁতুলে আলফা – হাইড্রোক্সি অ্যাসিড (এএইচ ) রয়েছে । এটি ত্বককে মসৃন ও উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে । তেঁতুলের এএইচ এগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইট্রিক অ্যাসিড, ল্যাকটিক অ্যাসিড , ম্যালিক অ্যাসিড এবং টারটারিক অ্যাসিড । ত্বককে এক্সফোলিয়েট করতে এবং দাগ্মুক্ত উজ্জ্বল ত্বক পেতে তেঁতুলের রস ব্যবহার করুণ । এই এএইচ এগুলির পাশাপাশি এতে চিনি এবং পেকটিনও রয়েছে । যা আপনার ত্বককে হাইড্রেট রাখে । ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করে । এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং ভিটামিন সি রয়েছে । অকাল বার্ধক্য রোধ করতে তেঁতুল বেশ কার্যকর ।

ক্ষত সারিয়ে তোলে ঃ তেঁতুলের পাতা এবং গাছের ছাল অ্যান্টি সেপটিক এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল । এটি ক্ষত সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে ।

পেপটিক আলসার রোধ করে ঃ পেপটিক আলসার বেশির ভাগ সময় পেটে এবং ক্ষুদ্রান্ত্রে হয় । এই আলসার খুব বেদনাদায়ক । তেতুলের বীজের গুড়ো নিয়মিত খেলে পেপটিক আলসার সেরে যায় । তেঁতুলে উপস্থিত পলিফেনলিক কম্পাউণ্ড আলসার সারিয়ে তুলতে সাহায্য করে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top