মূলত আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই বাজারে ছেয়ে পড়ে পানিফল । এই ফল ত্রিকোণ আকারের । জলাশয়ে চাষ হয় বলে এই ফলটি পানিফল নামে খ্যাত । পানি ফলের আরকটি নাম শিঙ্গাড়া । এই ফলে কোনো বীজ নেই । পানার মতো সারা বছরই দেখতে পাওয়া যায় । নিচু এলাকায় মৌসুমি ফসল হিসেবে পানি ফল চাষ করা হয় । এই মৌসুমি আবহাওয়ার মধ্যে ২-৩ বার পানি ফল চাষ করা হয় । এই ফলটি কাঁচা এবং সিদ্ধ উভয় প্রকারে খাওয়া যায় । পানিফলের উৎপাদন খরচ একেবারেই কম । ভাদ্র মাস থেকে গাছে ফল আসা শুরু করে এবং পরিপক্ব হয়ে আশ্বিন -কার্ত্তিক মাসে ফল বিক্রি করা শুরু হয় । চলে অনেক দিন । প্রতি সপ্তাহে ফল তোলা যায় ।

শীতকালে পানিফল খুব পরিচিত একটি ফল । অনেকেই এই ফলটি খেতে খুবই পছন্দ করেন । পানিফল বেশকিছু রোগব্যাধি থাকে শরীরকে রক্ষা করে । এই ফলটি যকৃতের প্রদাহনাশক ও উদরাময় রোগ নিরাময় করে । লিভার ভালো রাখতে পানিফল খেতে পারেন । এছাড়া যাদের রাতে ঘুমের সমস্যা আছে , অনিদ্রায় ভুগছেন দীর্ঘ সময় ধরে তারাও এই ফলটি খেতে পারেন শীতের এই সময়টাতে ।

এটি একটি বর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ । এই ফলের রঙ লাল , নীলাভ সবুজ বা কালজে সবুজ । পুরু নরম খোসা ছাড়ালেই পাওয়া যায় হৃৎপিণ্ডকার বা ত্রিভুজাকৃতির নরম সাদা শাঁস । কাঁচা ফলের নরম শাঁস খেতে বেশ মজা । এর নাম থেকেও গুনের বিশিষ্ট পাওয়া যায় । অন্যান্য ফলের তুলনায় পানিফলে জলের পরিমাণ অনেক বেশি । তাই জলের ঘাটতি মেটাতে যারা শীতের ঠাণ্ডা পরিবেশে বেশি পরিমানে জল খেতে পারেন না তারা এই ফলটি খেতে পারেন । এই গাছরে শিকড় থাকে কাদার মধ্যে আর এবং পাতা ফুল ও ফল ভাসে জলের উপরে । এই ফলে আঁশ , রাইবঅফ্লেবিন , ভিটামিন বি , পটাসিয়াম , কপার , ম্যাঙ্গানিজ , আমিষ , ভিটামিন সি , ভিটামিন বি ৬ সমৃদ্ধ । তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে এ ফলের । যেমন——

মূত্রাশয়ের জন্য উপকারী ঃ শীতকালে প্রায়ই আমাদের শরীর জলশূন্যতার সমস্যায় ভোগেন । ফলে মূত্রানালির সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ে । সেই ক্ষেত্রে পানি ফলে থাকা ভিটামিন কে দেহে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে । এটি মূত্রাশয় পরিস্কার রাখতেও সাহায্য করে ।
ওজন কমায় ঃ পানিফলে ক্যালোরি এবং ফ্যাটের পরিমান খুবই কম । তাই এই ফলটি ওজন কমাতে সাহায্য করে । এদিকে এই ফল খেলে পেট ভর্তি থাকে অনেকক্ষণ । ফলে বারবার খাওয়ার ইচ্ছে না হওয়ায় ওজনও থাকবে হাতের মুঠোয় । এই ফলটি শরীরের ফাইবার পটাসিয়াম । ম্যাঙ্গানিজ এবং অন্যান্য অনেক স্বাস্থ্যকর খনিজের একটি দুর্দান্ত উৎস ।

হার্টের পক্ষে ভালো ঃ পানিফলকে হার্টের বন্ধু বলা হয় । শীতকালে বয়স্ক ব্যক্তিদের রক্তচাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকে । তবে পানিফলে থাকা ভিটামিন কে মানবদেহের সোডিয়ামের মাত্রাকে ঠিক রাখে এবং রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে । এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে । ফলে কমে যায় হৃদরোগের ঝুঁকি ।
চোখ বা দাঁত ভাল রাখে ঃ পানিফলে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় । এই ফলটি খেলে হাড় ও দাঁত দুটোই মজবুত থাকে । এছাড়াও চোখের জন্যও উপকারী ।

গর্ভবস্থায় উপকারী ঃ গর্ভবতী মহিলারা পানিফল খেলে মা ও শিশু উভয়ের পক্ষেই ভাল । এটি গর্ভপাতেরর ঝুঁকি কমায় । এছাড়া পানিফল খেলে মহিলাদের ঋতুকালীন সমস্যাও সেরে যায় ।

অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট সমৃদ্ধ ঃ অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট গুলি খুবই কার্যকারী । এছাড়াও ফ্রি র্যাডিক্যালগুলির সঙ্গে লড়াই করার জন্য ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও প্রয়োজনীয় এই অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট । পানিফল শরীর থাকা বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করতে সহায়তা করে ফ্রি র্যাডিক্যাল দ্বারা উৎপন্ন অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুস্থতা থেকে শরীরকে রক্ষা করে ।
শরীরে শক্তি দেয় ঃ শরীরে শক্তি যোগায় পানিফল । তাই উপবাসের ডায়েটে এটিকে সামিল করা যেতে পারে । তাছাড়া এতে গলা সংক্রান্ত সমস্যা থেকেও আরাম দেয় ।
চুল ভালো রাখে ঃ চুলের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে চাইলে পানিফল জরুরি । পানিফলে রয়েছে পটাশিয়াম , ভিটামিন বি এর মতো উপাদান । এগুলি চুলে ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।

এবার জেনে নিন পানিফলের ঔষধি গুন———————– অ্যালার্জি দূর করে ঃ পানিফলের শাঁস শুকিয়ে রুটি বানিয়ে খেলে অ্যালার্জি ও হাত পা ফোলা কমে যায় । পেটব্যথা ঃ উদরায়ম ও তলপেটে ব্যথায় পানিফল খুবই উপকারী । পোকায় কামড় ঃ বিছাপোকা অন্যান্য পোকায় কামড় দিলে যদি জ্বালা পোড়া হয় তাহলে ক্ষতস্থানে কাঁচা পানিফল পিষে বা বেঁটে লাগাতে দ্রুত ব্যথা দূর হয় ।