Health Benefits Ash Gourd: চাল কুমড়ো খাওয়ার উপকারিতা কত জানেন ।

চাল কুমড়ো বাংলাদেশে জনপ্রিয় ফল জাতীয় সবজি । সংস্কৃত ভাষায় একে ‘কুষ্মাণ্ড ‘ বলা হয় । আমরা বাজারে দু ধরনের কুমড়ো দেখতে পাই , যেমন লাল বা হলুদ কুমড়ো আর সাদা কুমড়ো । দামে অপেক্ষাকৃত কম হলেও দু ধরনের কুমড়োই গুনের আধার । চালকুমড়োর বৈজ্ঞানিক নাম বেনিনকাসা হিসপিডা । কুমড়ো বললে লাল পাকা মিষ্টি কুমড়োর কথাই ভাবেন বেশিরভাগ । তবে চাল কুমড়োও অত্যন্ত সহজলভ্য ও উপকারী একটি সবজি । চাল কুমড়ো শুধু চালে নয় , মাচায় এবং জমিতেও চাষ করলে ফলন ভাল হয় ।

চাল কুমড়ো তরকারি হিসেবে খাওয়া ছাড়াও মোরব্বা , হালুয়া , পায়েস ও কুমড়ো বড়ি তৈরি করে খাওয়া যায় । শুধু চাল কুমড়োই নয় এর কচি পাতা ও ডগা শাক হিসেবে খাওয়া যায় । চাল কুমড়ো শরীরের ওজন ও মেদ কমাতে অনেক উপকারী একটি সবজি । পাকা লাল কুমড়োর তুলনায় চাল কুমড়োর অনেক বেশ ভেষজ গুন আছে । হার্টের পক্ষে ভালো , মনোবিকার দূর করে , তৃষ্ণা দুরকরে , অরুচি নাশ করে , বাত , পিত্ত, কফ দূর করে । চাল কুমড়ো বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিসের মহৌষধ ।

চাল কুমড়ো একটি পুষ্টিকর সবজি । এতে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন , মিনারেল , শর্করা ও ফাইবার রয়েছে , তাই চাল কুমড়োর উপকারিতা অনেক বেশি । যক্ষ্মা , কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাস্ট্রিক -সহ বহু রোগের উপশম করে চাল কুমড়ো । চাল কুমড়ো নানা পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ । চাল কুমড়োয় রয়েছে –খাদ্যশক্তি , আমিষ ,শর্করা , ফাইবার , চর্বি , ভিটামিন সি , পটাশিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , ক্যালসিয়াম , সোডিয়াম , লৌহ , জিঙ্ক , ফসফরাস । চলো আবার জেনেনি চাল কুমড়োর বহুবিধ উপকার ——

১। ব্রেইন ভালো রাখেঃ চাল কুমড়ো মানসিক রোগীদের জন্য পথ্য হিসেবে কাজ করে , কারণ এটি ব্রেইন এর নার্ভ ঠাণ্ডা রাখে । এই জন্য চাল কুমড়োকে ব্রেইন ফুড বলা হয় ।

.২। রোগ প্রতিরোধ করেঃ চাল কুমড়ো এণ্টি মাইক্রোবিয়াল এজেন্ট হিসেবে পেট এবং অন্ত্রের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে । এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ইনফেকশন বা আলসার রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে । এটি মশলাযুক্ত খাবার বা দীর্ঘ দিনের উপবাসের কারণে পাকস্থলিতে তৈরি হওয়া অ্যাসিড দূর করতে সাহায্য করে । .

৩। যক্ষ্মা রোগের মহা ঔষধঃ প্রতিদিন চাল কুমড়োর রস খেলে যক্ষ্মা রোগের উপসর্গ কেটে যায় । চাল কুমড়ো রক্তপাত বন্ধ করতে সাহায্য করে , যাদের কাশির সঙ্গে রক্ত বের হয় এমন ক্ষেত্রে চাল কুমড়োর রস খেলে ভালো হয়ে যায় । এমন ক্ষেত্রে চাল কুমড়োর রস খেলে ভালো হয়ে যায় । এতে রক্ত বের হওয়া থেমে যায় ।

৪। ওজন ও মেদ কমাতে সাহায্য করেঃ চাল কুমড়ো শরীরের ওজন ও মেদ কমাতে সাহায্য করে । এটি রক্তনালিতে রক্ত চলাচল সহজতর করে । চাল কুমড়ো অধিক ক্যালরি যুক্ত খাবারের বিকল্প হিশেবেও খাওয়া যায় ।

৫। ত্বক ও চুলের যত্নেঃ মুখের ত্বক এবং চুলের যত্নেও চাল কুমড়োর রস অনেক সাহায্য করে । চাল কুমড়োর রস নিয়মিত ত্বক ও চুলে মাখলে চুল চকচকে হয় এবং ত্বক সুন্দর হয় । বয়সের ছাপ প্রতিরোধ করতেও চাল কুমড়ো সাহায্য করে ।

৬। গ্যাস্ট্রিক রোগ উপশম করেঃ চাল কুমড়োর বীজ গ্যাস্ট্রি ক রোগের উপশম করে । কোষ্ঠকাঠিন্য , পেট ফাপা এবং প্রসাব কোন কারণে অনিয়ামিত হয়ে গেলে চাল কুমড়ো খেলে অনেক উপকার হয় ।

রোজ সকালে খালি পেটে এক গ্লাস করে চালকুমড়োর রস খান । শুধু শরীর ভাল থাকবে না , আপনার অন্ত্রও ভাল থাকবে । সেই সঙ্গে আপনার মস্তিস্ক ভাল থাকবে । বুদ্ধিও বাড়বে অনেক । আমরা এমন অনেক খাবার খেয়ে থাকি যেগুলি আমাদের শরীরে মাইগ্রেন , উচ্চ রক্তচাপ , থাইরয়েড , ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তোলে । আপনি যদি এগুলি থেকে মুক্তি পেটে চান তাহলে রোজ সকালে একগ্লাস করে চাল কুমড়োর রস খান । অনেক উপকার পাবেন ।

চাল কুমড়ো হল জন্দিস রোগের সবচেয়ে সস্তা ও সুলভ ওষুধ । চাল কুমড়ো টুকরো করে রোদে শুকিয়ে গুড়ো করে খেলে বা টাটকা চাল কুমড়োর তরকারি রান্না করে খেলে জন্ডিস তাড়াতাড়ি সেরে যায় । মৃগী উন্মাদ রোগের পক্ষেও এটি উপকারী । চাল কুমড়োর মোরব্বা নিয়মিত খেলে মাথা গরম হওয়া কমে কমে , মাথা ঘোরা সেরে যায় , উন্মাদ রোগ সারে এবং খুব ভাল ঘুম হয় ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top