থানকুনি আমাদের অতিপরিচিত পাতা । পুকুরপাড় বা জলাশয়ে হামেশাই দেখা মেলে । কথায় বলে , পেট ভালো থাকলে মনও ফুরফুরে থাকে । থানকুনি পাতার এমন ভেষজ গুন রয়েছে যা নিয়মিত খেতে পারলে পেটের অসুখে কোনও দিনও ভুগতে হবে না । শরীর – স্বাস্থ্য তো সতেজ থাকেই , ছোটবেলা থেকে খাওয়াতে পারলে বুদ্ধিরও বিকাশ হয় । আমাশায় , পেট খারাপ কিংবা হজম সংক্রান্ত সমস্যায় ঘরোয়া টোটকা হিসাবে কাজ করে থানকুনি পাতা । থানকুনি পাতা খেলে হজমশক্তি বাড়ে । এই পাতা হজমের সহায়ক অ্যাসিড ক্ষরণের মাত্রা বাড়ায় এর ফলে হজমের সমস্যা অনেকটাই কমে যায় । এই পাতার অ্যামাইনো অ্যাসিড , বিটা ক্যারোটিন এবং ফাইটোক্যামিকেল ত্বকের পুষ্টির ঘাটতি কমায় । তবে শুধু স্বাস্থ্যের জন্য নয় , থানকুনি পাতা ত্বক ও চুলের পরিচর্চায় যথেষ্ট গুরুতপূর্ণ । দেখ নেওয়া যাক , থানকুনি পাতার ভেষজ গুনগুলি ।

এইতো শীত আসছে । আপনার চামড়ার শুষ্কতা দেখা দেবে । এসময় মৃত কোষের ফলে শুস্ক হয়ে যায় চামড়া । থানকুনি পাতার রস মৃতকোষ গুলোকে পুনর্গঠন করে ত্বক মসৃণ করে দেয় ।
পেটের আলসার এবং মূত্রনালির সংক্রমণ দূর করেঃ থানকুনির অ্যান্টিব্যাক্তেরিয়াল বিশিষ্টর কারণে এটি পেট এবং মূত্রনালির সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করে । সেজন্য প্রথমে পরিস্কার ও তাজা থানকুনি পাতা সেদ্ধ করুণ । এবার সেই জল একটি গ্লাসে ছেঁকে নিন । এরপর তার সঙ্গে যোগ করুণ মধু । পেটের আলসার এবং মূত্রনালির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিন সকালে এই পানীয় পান করুন ।

পেট এবং লিভার ভালো রাখেঃ যারা পেটের সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা প্রতিদিন সকালে একটি কলার সঙ্গে কিছু থানকুনি পাতা খেতে পারেন । এভাবে নিয়মিত খেলে তা আপনার পেটের স্বাস্থ্য এবং লিভার দুটোই ভালো থাকে ।
কাশি এবং শ্বাসযন্ত্রের অসুখ সারাতে কাজ করেঃ মধুর সঙ্গে থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে তা সহজেই কাশি এবং শ্বাসযন্ত্রের অন্যান্য অসুখ সারাতে সাহায্য করতে পারে । তুলসী ও গোল মরিচ দিয়ে থানকুনি পাতা খেলে তা ঠাণ্ডা এবং জ্বরও নিরাময় করে । গলা ব্যথা এবং কাশি নিরাময়ের জন্য থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে পান করুণ । এটি সপ্তাহখানেক ধরে খেলে উপকার পাবেন ।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করেঃ নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়ার চেষ্টা করুণ । কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য থানকুনি পাতা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় । আপনি যদি খাবারের তালিকায় থানকুনি পাতা রাখেন তবে আর কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগতে হবে না ।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভীষণ কার্যকরী থানকুনি পাতা । রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে সেবন করুণ । এটি শিশুকে খাওয়ানো উপকারী ।
অনিদ্রা দূর করেঃ অনিদ্রার সমস্যা আপনাকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অনেকটাই অসুস্থ করে দেয় । তাই সুস্থ থাকার জন্য নিয়মিত ঘুম জরুরি । অনিদ্রার সমস্যা থাকলে তা দূর করার জন্য খেতে পারেন থানকুনি পাতা । প্রতিদিন দুইবার ২-৪ চামচ থানকুনির রস ও মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাবেন । অনিদ্রার সমস্যা দূর হবে দ্রুত ।
চুল পড়া কমায়ঃ চুল যদি অতিরিক্ত পড়তে থাকে তবে তা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় । এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করেতে পারে থানকুনি পাতা প্রতিদিন সকালে এক চা চামচ শুকনো থানকুনির গুঁড়া দিয়ে তৈরি প্যাক মাথায় ব্যবহার করলে তা চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে অনেকটাই ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনঃ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মহৌষধি এই থানকুনি পাতা । এই পাতার রস যদি দিনে দু’বার করে খাওয়া যায় তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে ।
কোলোজেন উৎপাদনঃ ত্বক এবং চুলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল কোলাজেন । চামড়ার টান টান ভাব বজায় রাখতে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে কোলাজেন । বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কোলাজেন উৎপাদনের হার কমতে থাকে । বাইরে থেকে কোলাজেন দেওয়া ক্রিম মাখার চেয়ে ভিতর থেকে সেই প্রোটিন উৎপাদন বাড়িয়ে তোলাই ভাল । কোলাজেন উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাহায্য করে এই থানকুনি পাতা । সপ্তাহে তিন দিন এই পাতার রস খেতেই পারেন ।
থানকুনি পাতা খাওয়ার নিয়ম ——-
প্রতিদিন এক গ্লাস দুধে ৫-৬ চা চামচ থানকুনি পাতার রস মিশিয়ে খেলে , চেহারায় লাবণ্য চলে আসে । আত্মবিশ্বাসও বেড়ে যায় । সকাল-সকাল খালি পেটে থানকুনি পাতার রস খেলে যেমন উপকার মেলে , তেমনই কাঁচা থানকুনি পাতা চিবিয়ে খেলেও সমান উপকার পাওয়া যায় । ইচ্ছে হলে খেতে পারেন থানকুনি পাতার পেস্ট আথবা বড়াও ।