আমিষ , নিরামিষ দু’ রকম রান্নাতেই মেথি ফোড়ন দেওয়ার চল রয়েছে । মেথি ফোড়ন দিলে রান্নার স্বাদ হালকা তিতকুটে লাগলেও , শরীরের জন্য অত্যন্ত ভাল । মেথির গুনের শেষ নেই । চুলের জন্য মেথি যথেষ্ট ভাল , ঠিক ততটাই যত্ন নেয় স্বাস্থ্যেরও । মেথির কাছে হার মেনে যায় অনেক ওষুধও । তবে মেথি খাওয়ার নিয়ম আছে । রোজ সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো জল খেলেই নাকি আমূল বদল আসবে জীবনে । শরীর নিয়ে যাবতীয় ভাবনা দূরে চলে যাবে । মেথি মায়ের দুধ উতপাদন এবং নবজাতক শিশুদের ওজন বৃদ্ধির হার বাড়াতে পারে । মেথিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে হজমের যাবতীয় সমস্যা । একই সঙ্গে থাকা ফাইবার পেট পরিস্কার রাখতে সাহায্য করে । এতে দ্রুত হজম হয় । তবে মেথি ভিজিয়ে পিষলে পুষ্টি নষ্ট হয়ে যায় ।

প্রচুর পরিমানে ফাইবার , ফসফোলিপিডস । গ্লাইকোলিপিডস , লিনোলিক অ্যাসিড , কোলিন , ভিটামিন এ , বি১ ,বি২ ,সি , নিকোটিনিক অ্যাসিড , নিয়াসিন মেলে উপকারী মশলাতে । এছাড়া আয়রন , ম্যাঙ্গানিজ ,ও ম্যাগনেসিয়ামের উৎস এটি । নিয়মিত মেথি খেলে মিলবে বেশ কিছু উপকারিতা । যেমন ———
রক্ত শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রনেঃ মেথি ভেজানো জল ডায়াবেটিকদের জন্যbya খুবই কার্যকারী । বিশেষ করে টাইপ- ২ ডায়াবেটিস থাকলে মেথি ওষুধের মতো কাজ করে । রোজ সকালে মেথির জল খাওয়া অভ্যাস তৈরি করা যায় , তা হলে শর্করা বিপদসীমা পেরোবে না ।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করেঃ মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , যা হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে , শুধু তাই নয় , নিয়মিত সকালে খালি পেটে মেথি ভেজানো জল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যাও দূর হয় ।

সন্তান জন্মদানকে কিছুটা সহজ করতেঃ জরায়ুর সংকোচন ও প্রসারের যন্ত্রণা কমাতে মেথির অবদানের কথা বলেন বিশেষজ্ঞরা । তবে অতিরিক্ত খাওয়া হলে গর্ভপাত বা অপরিণত শিশুর জন্মদানের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে ।

জ্বর ও খুস্খুসে গলার জন্যঃ লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে এক টেবিল চামচ মেথি চিবিয়ে খেলে জ্বর থেকে মুক্তি মেলে । আবার এতে রয়েছে মুসিলেজ নামের এক ধরনের যৌগ , যা গলার খুস্খুসে ভাব দূর করে । নারীদের স্বাস্থ্যগত বিষয়েও এর উপকারিতা রয়েছে । মেথিতে রয়েছে সাইটো -ইস্ত্রোজেন , যা নারীদেহে প্রোলাকটিন নামের হরমোনের মাত্রার বৃদ্ধি ঘটায় । এই হরমোন নারীদেহকে সুগঠিত করে । এছাড়া ঋতুকালীন বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দেয় মেথি ।

উজ্জ্বল ত্বকের জন্য ও ত্বকের সমস্যার সমাধানঃ রূপচর্চায়ও মেথিকে শীর্ষে রাখা যায় । সারা দেহে বয়ে বেড়ানো নানা ক্ষতিকর উপাদান চেহারায় বলিরেখা ফেলে দেয় । এছাড়া চোখের নিচে ডার্ক সার্কেল সৃষ্টিতেও ওস্তাদ এগুলো । মেথি দেহের সব অপ্রযোণীয় উপাদান ঝেটিয়ে বিদায় করে । মেথির নির্যাশ মুখের ব্রন , ফুসকুড়ি কমায় বলে প্রসাধনীতেও ব্যবহার হয় । মেথিতে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন , ফাইবার , আয়রন , পটাশিয়াম , ভিটামিন সি ও নিয়াসিন । ত্বকে রাখে সতেজ , টানটান বার্ধক্য দূরে ঠেলে তারুণ্যকে দীর্ঘস্থায়ী করে ।
হরমোনের পরিমাণ বাড়ায়ঃ শুধু ডায়াবেটিস নয় ।মেথি মহৌষধ । মেথির রসে সাপোনিস ও ডায়োজেনিন নামে যৌগ পদার্থ আছে । মানুষের শরীরে হরমোনের পরিমাণ বাড়ায় । প্রতিদিন পরিমিত মেথির রস খেলে পুরুষের যৌনক্ষমতা বাড়ে ।

ব্যায়মের কার্যকারিতা উন্নত করেঃ সম্পূরক হিসাবে মেথি খেলে পেশির শক্তি এবং সহনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং দেহের চর্বি হ্রাস হয় । এতে ব্যায়ামের ফল আরও ভাল হয় ।
পাকস্থলীর ক্ষেত্রে উপকারীঃ পাকস্থলীর নানাবিধ সমস্যা যেমন পেট ফাঁপা , বদহজম , ইত্যাদির উপশম হয় ।

ডায়াবেটিস রুখতে সাহায্য করেঃ শরীরে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে মেথির উপকারী ভূমিকা অনেক বেশি । এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড আছে মেথিতে , যা ডায়াবেটিস রুখতে সাহায্য করে । তাই জন্য যাঁদের ডায়াবেটিস আছে তারামেথি ভেজানো জল বা সকালে খালি পেটে মেথি চিবিয়ে খান । ক্যান্সার রাখতেও মেথির ভূমিকা রয়েছে বলে জানাচ্ছে আয়ুর্বেদ । পেটের গোলমাল মেথির রস কাজে আসে ।
মেথি কিভাবে খাবেন তা আবার জেনে নিন ———
ভোরবেলা মেথি ভেজানো জল বা ডিটক্স ওয়াটার খেতে পারেন । এজন্য এক গ্লাস জলে এক থেকে দুই চামচ মেথির বীজ ভিজিয়ে রাখুন । পরদিন সকালে ওই মেথি ভেজানো জল পান করুণ । নিয়মিত চায়ের পরিবর্তে মেথি চা খেতে পারেন । এক গ্লাস জলে এক চামচ মেথির বীজ ফুটিয়ে নামিয়ে নিন । এবার তা ছেঁকে মধু মিশিয়ে পান করুণ । মেথি ভেজানো রায়তা অথবা স্যালাডের সঙ্গে খেতে পারেন ।