দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসে ভুগছেন ? তাহলে নিশ্চয় একাধিক খাবারের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে । আর ভালো থাকতে গেলে সে গুলো মাণতেই হবে । কারণ খাবারের মাধ্যমে সুগার লেভেল অনেকটাই কন্ট্রোল করা যায় । সঠিক পরিমাণের প্রোটিন , কার্বোহাইড্রেট , ভিটামিন নিলে সুগার কন্ট্রোলে থাকে । তবে শুধু দুপর রাতের খাবারেই নয় , সমান গুরুত্ব দিতে হবে সকাল -বিকেলের জল খাবারে । কি সমস্যায় পড়ে গেলেন তো জলখাবারে এমন কি খাওয়া যায় যা পেট ভরাবে আবার শরীরও ভালো রাখবে। তাহলে দেখে নিন এমন কিছু খাবার আছে যা সকালের কিংবা সন্ধ্যাকালীন জল খাবারের দারুণ সহযোগী হয়ে উঠতে পারে ।

ডায়াবেটিস ধরা পরলে প্রথমেই মিষ্টি খাওয়া বন্ধ হয়ে যায় । রক্তে শর্করার মাত্রার গতিপ্রকৃতির উপর নির্ভর করে খাওয়া দাওয়া রুটিন । শর্করার মাত্রা বিপদসীমার কাছাকাছি থাকলে অনেক খাবারই জীবন থেকে বাদ চলে যায় ।রসগোল্লা , সন্দেশ না হলেও এমন অনেক খাবার আছে , যাতে বাড়তি চিনি থাকে । সেগুলি আবার বিপদের কারণ হতে পারে । তা হলে ডায়াবেটিকরা খাবেন কি ? কিছু খাবার রয়েছে যেগুলিতে চিনির লেশমাত্র নেই । রইল তেমন কিছু খাবারের খোঁজ ।

১। ছোটখাটো জলখাবারঃ মশলা স্প্রাউট , পনির কাটলেট , ধোকলা ,মেথি পোরটা , দিম ভাজা ইত্যাদি খেতেই পারেন বিকেলের খাবার হিসাবে । চায়ের সঙ্গে কিংবা চা ছাড়াই সন্ধ্যে জমে যাবে ।

২। চিয়া পুডিংঃ চিয়া বীজ ডায়াবেটিকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী । চিয়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে । ওজন বাড়তে দেয় না । চিয়া বীজে এমন অনেক উপকারী উপাদান রয়েছে , যা শরীর ভিতর থেকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে । ডায়াবেটিকরা চিয়ার জল খেতে পারেন । তবে চিয়া বীজ দিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন পুডিংও । এক কাপ দুধের মধ্যে ২ তেবিল চামচ চিয়া বীজ মিশিয়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন । তারপর সেই মিশ্রণে আপেল , বেদানার মতো ফল ভাল করে মিশিয়ে নিন । সহজেই তৈরি হয়ে যায় এই পুডিং ।

৩। পিনাট বাটার মাখানো আপেলঃ লেডিকেনি ,চমচম খাওয়া বারণ । তবে মিষ্টির স্বাদ মেটাতে পারেন পিনাট বাটারে । তবে শুধু পিনাট বাটার না খেয়ে আপেলের সঙ্গে খেতে পারেন । তা হলে লম্বা সময় পেট ভর্তি থাকবে । শরীরও বাড়তি পুষ্টি পাবে ।

৪, বাদামঃ কাঠবাদাম , আখরোট , চিনাবাদাম , সামান্য কাজু এবং পেস্তাবাদাম একসঙ্গে মিশিয়ে একমুঠো খাওয়া যেতে পারে । সামান্য খিদে মেটানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন , খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের জোগান দিতে পারে এই বাদামগুলি ।

৫। ওটস প্যানকেকঃ ওটস মিক্সিতে গুঁড়ো করে নিন । একটি পাত্রে এক কাপ ওটস , পেঁয়াজ কুচি , ধনেপাতা কুচি , ডিমের সাদা অংশ আর খানিকটা দই দিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন । অল্প তেলে হালকা করে ভেজে নিলেই তৈরি ওটস প্যানকেক ।

৬। গ্রিক ইওগাটঃ ডায়াবেটিকদের হালকা খিদে পেলে গ্রিক ইওগাট ভাল বিকল্প হতে পারে । আপেল ,লেবু , নাসপাতির মতো কম গ্লাইসেমিক সূচক যুক্ত ফল কেটে গ্রিক ইওগাটের সঙ্গে মিশিয়ে ফ্রুট স্যালাড বানিয়ে খেতে পারেন ।

৭। চিকেন সুপঃ চিকেন সুপ খুবই ভালো । এই খাবারে মেলে প্রয়োজনীয় প্রোটিন । এছাড়া নানা ধরনের সবজি মেশানো থাকে । ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট মেলে । প্রোটিন , ভিটামিন খনিজ ভরপুর এই খাবার আপনার সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে । তাই সন্ধেবেলায় স্ন্যাকস হিসাবে মুখে তুলতেই পারেন এই সুপ । এছাড়া যারা বাইরে থাকেন তাঁরা ড্রাই পপকর্ণ ও বালিতে ভাজা ছোলা খেতে পারেন ।

৮। ঘুঘনিঃ বিকেলে খেতে পারেন একবাটি ঘুঘনি । এর মাধ্যমে মিলতে পারে পর্যাপ্ত শক্তি । এছাড়া প্রচুর ফাইবার থাকে এই খাবারে । তাই ঘুঘনি খেলে অনেকক্ষণ পেট ভর্তি থাকবে । ফলে সুগার বাড়ার আশঙ্কা কমে । এছাড়া আপনি ঘুঘনির সাথে স্যালাড খেতে পারেন । টমেটো ,শসা ,পেঁয়াজ ,দিয়ে আপনি ঘুঘনি খান । দেখবেন সমস্যার সমাধান সহজেই করতে পারছেন । তাই ঘুঘনি অবশ্যই একটা বিকল্প হতে পারে ।

৯। অঙ্কুরিত ছোলাঃ ছোলা খাওয়া খুব ভালো । আর সেই ছোলা অঙ্কুরিত হলে আরও উপকারী হয় । অঙ্কুরিত ছোলা আপনি রোজ খেতে পারেন । এই খাবারে রয়েছে অনেকটা পরিমাণে প্রোটিন । এছাড়া ফাইবার থাকে ভালো পরিমাণে এই খাবারে । তাই আপনাকে অবশ্যই খতে হবে অঙ্কুরিত ছোলা । তবে আচার বা অন্যান্য জিনিস দিয়ে ছোলা মাখলে তার গুন নষ্ট হয় । এমনকি নুন না দেওয়ার চেষ্টা করুণ ।