সকালে খালি পেটে হালকা গরম জলে মধু এবং কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে খান অনেকেই । লেবু এমন একটি ফল যার স্বাদ টক । এই গরমে মানুস খুব পছন্দ করে । ডালের সঙ্গে লেবু ভাল লাগে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুস্কিল । এর ব্যবহারে খাবার ভালোভাবে হজম হয় । কেউ কেউ আবার সকাল শুরু করেন লেবু জল বা লেবু চা দিয়ে । এটি দিয়ে দিন শুরু করলে শরীরে জমে থাকা বর্জ্য পদার্থ মলমূত্র ও প্রস্রাবের সাহায্যে বেড়িয়ে আসে এতে পেট মজবুত হয় এবং মুখও উজ্জ্বল হয় ।

গরম গরম ভাতের পাতে এক টুকরো পাতিলেবু মিশিয়ে খেলে তার স্বাদ বাড়ে কয়েকগুণ । এ ছাড়া এই দাবদাহ পরিস্থিতিতে এক গ্লাস জলে একটা গোটা পাতিলেবু ,সঙ্গে কিছুটা নুন ও চিনি মিশিয়ে খেলে শরীর হয়ে ওঠে চাঙ্গা। আসলে এই ফলের রসে রয়েছে খনিজের ভাণ্ডার । এমনকি ভরপুর পরিমানে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট এবং ফ্লাভানয়েডও রয়েছে । অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টসের জোগান হিসেবে এবং ইমিউনিটি বুস্টার হিসেবে পাতিলেবু পরিচিত । লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত হওয়ায় পাতি লেবুর রস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী । উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের ক্ষেত্রে লেবুতে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম , পটাশিয়াম ভাল কাজ দেয় । তা হার্ট অ্যাটাকের সম্ভবনাও কমায় ।

লেবুতে ভিটামিন এ , ভিটামিন বি ৬ , ভিটামিন সি , ভিটামিন ই , ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , পটাসিয়াম , আয়রন , ফসফরাস ,দস্তা , ফোলেট , তামা , প্যানটোথেনিক অ্যাসিড , নিয়াসিন থায়াসিন এবং আরও অনেক প্রোটিন রয়েছে , এই পুষ্টিগুলি স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী । লেবুতে উপস্থিত ভিটামিন এ , সি , ই থাকার ফলে লিভার , ফুস্ফুস , স্তন , পাকস্থলী ক্যান্সার প্রতিরধকরতে সহায়ক । হাল্কা গরম জলে দু’ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে আপনার ঠাণ্ডা সর্দি – কাশি , গলাযন্ত্রণা দূর হবে ।

লেবুর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন -সির ভাণ্ডার যা বিপাকহার বাড়িয়ে তোলে । মেটাবলিজাম ভাল হলে ঝটপট ওজন কমে । এতে রয়েছে ‘ পেকটিন ‘ নামক এক ধরনের ফাইবার যা ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা রুখে দিতে পারে খুব সহজেই । ফলে ভারী খাবার খাওয়ার পর খিদে পাওয়ার প্রবনতা কমায় । লেবুর মধ্যে থাকা অ্যাসিড হজমে সহায়ক উৎসেচক ক্ষরণে সহায়তা করে । এ ছাড়া উষ্ণ জলে পাতিলেবুর রস মিশিয়ে খেলে মিষ্টি খাওয়ার প্রবনতা কমে। ফলে রক্তে শর্করার সমতাও বজায় থাকে খুব সহজেই ।

শরীর জলশূন্যতা হয়ে গেলে নানা সমস্যা দেখা দেয় শরীরের মধ্যে । ওজন ঝরানো , আদ্রতা বজায় রাখা এবং শরীরে জলের অভাব পূরণ করতে পারে লেবুর রস । লেবুতে ফ্যাটের পরিমাণ তেমন নেই বললেই চলে । লেবু আমাদের শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল ( LDL ) কমিয়ে ভাল কোলেস্টেরল ( HDL) বাড়াতে সাহায্য করে । শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে পারে লেবুতে থাকা ভিটামিন সি । চুল ,ত্বক ভাল রাখার পাশাপাশি পাতিলেবু ধমনীকে ভাল রাখতে ও এর কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সহায়ক করে ।

শুধু ওজন কমাতে কিংবা ডিটক্স করতেই নয় , লেবু খাওয়ার আরও অনেক উপকারিতা আছে । যেমন- ১। কিডনিতে পাথরের জন্যঃ লেবুর রসের সাথে রক নুন মিশিয়ে খেলে কিডনির পাথরের সমস্যা দূর হয় ।
২। চুলের জন্যঃ লেবুর বীজ পিষে মাথায় লাগালে টাক পড়ার সমস্যা কাটিয়ে ওঠা যায় এবং মাথায় চুল গজায় ।
৩। পিম্পলসের জন্যঃ চন্দনের পেস্টে লেবুর রস যোগ করুণ এবং তা মুখে লাগান , ফলে পিম্পল নিরাময় হয় এবং আপনার ত্বক ভাল হয়ে যায় ।
৪। রক্তচাপের জন্যঃ লেবুর রস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক করে । প্রতিদিন লেবু খান । দাঁতগুলির হলুদ ভাব দূর করতে – লেবু কেটে , লেবুর টুকরো করে নুন মাখিয়ে দাঁতে ঘষুন এবং দাঁতে ঘষলে দাঁতগুলির কুঁচক দূর হবে । ফলে আপনার দাঁতগুলি আগের মতো সাদা এবং চকচকে হয়ে উঠবে ।
৫। দাদ ও চুলকানির জন্যঃ দাদ ও চুলকানির সমস্যা দূর করতে লেবুর রস ত্বকে লাগান । এতে দাদ ও চুলকানির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন । লেবু ত্বক সম্পর্কিত সমস্ত সমস্যার জন্য উপকারী ।
৬। নখের জন্যঃ নখের উপরে লেবু লাগান । এতে নখ পরিস্কার ও চকচকে থাকে । কনুইয়ের কালোভাব দূর করতে হলে লেবু মাখতে পারেন । এটা খুব উপকারী ।
৭। পেটের গ্যাসের সমস্যা কাটিয়ে উঠতেঃ লেবুর জল পেটের গ্যাস বা বদহজমের মতো সমস্যা দূর করতে খুব কার্যকর ।