কিশমিশের বিভিন্ন রুপ এবং রঙ পাওয়া যায় । কালো কিশমিশ ভারতে মানুক্কা নামে পরিচিত । এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সংরক্ষণ এবং খাওয়া যেতে পারে । কালো কিশমিশ তাদের গন্ধ ও সরস টেক্সচারের জন্য বিখ্যাত । কালো কিশমিশ তারুন্য , স্বাস্থ্যকর ত্বক এবং চুলের প্রচারের জন্য পরিচিত । ওজন কমানোর জন্য কালো কিশমিশ ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকর , কারণ এতে প্রচুর পরিমানে পুষ্টিকর ফাইবার রয়েছে ,যা আমাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য পূর্ণ বোধ করে । তাদের পুষ্টিগুণের বাইরে , কালো কিশমিশ বিভিন্ন ঔষধি এবং স্বাস্থ্য উপকারিতার জন্য পরিচিত ।

আঙুর শুকিয়ে এই কালো কিশমিশ তৈরি করা হয় । কালো কিশমিশ ফাইবার , প্রোটিন , ভিটামিন সি , অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , আয়রন , পটাশিয়াম , পলিফেলন এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ । এটি কোলেস্টেরল , রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি চুল পড়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । সারারাত জলে ভিজিয়ে কালো কিশমিশ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে দারুণ উপকার । কালো কিশমিশ অত্যন্ত পুষ্টিকর ,যা স্বাস্থ্য এব সৌন্দর্য দুই’য়ের জন্য উপকারী । সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও এই কালো কিশমিশ খুবই উপকারি।

কালো কিশমিশের উপকারিতা ——-
১। কালো কিশমিশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ,যা হাড় ও পেশির সঠিক বৃদ্ধির জন্য সাহায্য করে । রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে কালো কিশমিশ ।

২। কালো কিশমিশে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টের পরিমাণ বেশি । এতে রয়েছে পলিফেলন , ফ্ল্যাভোনয়েডের মতো উপাদান যা দেহের ফ্রি র্যাডিক্যালের সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে । অক্সিডেটিভ স্ট্রেসজনিত ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে কালো কিশমিশ ।

৩। কালো কিশমিশে আয়রনের পরিমাণ অনেকটাই বেশি । শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সাহায্য করে এই ফলটি । রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যায় ভুগছেন যারা , তাদের জন্য ঘরোয়া টোটকা হিসাবে কালো কিশমিশ ভালো । ৪। কালো কিশমিশে ফাইবারের পরিমাণ বেশি । হজমের সমস্যা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে এই ফলটি দারুণ উপকারী । অন্ত্রের ভাল ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতেও সাহায্য করে কালো কিশমিশ । ব্রন ,অ্যাকনের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে কালো কিশমিশ । ফাইবার শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে শরীরকে দূষণমুক্ত করে তোলে । যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে ব্রন , অ্যাকনে মুক্ত ।

৫। হাড় , দাঁতের জোর বাড়িয়ে তুলতে ক্যালশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ । কালো কিশমিশে এই খনিজটি রয়েছে ভরপুর মাত্রায় । নিয়মিত এই ফলটি খেলে হাড় মজবুত হয় । অষ্টিয়োপোরোসিসের সমস্যা প্রতিরোধ করতে আগে থেকে কালো কিশমিশ খাওয়া শুরু করা যেতে পারে । ৬। কিশমিশে পটাশিয়ামের পরিমাণ বেশি । এই খনিজটি হার্টের জন্য ভাল । শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে , রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে এই খনিজটি ।

৭। চোখের জন্য দারুণ উপকারী কালো কিশমিশ । এতে রয়েছে ভিটামিন সি , যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে । বয়সজনিত কারণে যখন চোখের নানা সমস্যা দেখা দেয় , তখন কালো কিশমিশ খাওয়ার পরামর্ষ দেন বিশেষজ্ঞরা । আনেকেইরই জানা নেই , চুল পাতলা হয়ে যাওয়া সমস্যা প্রতিরোধে দারুণ উপকারী কালো কিশমিশ । চুলের গোঁড়ায় গিয়ে পুষ্টি যোগায় । চুল ঘন আর কালো করে তোলে ।