শরীরের জন্য ফল খাওয়া ভীষণ উপকারী । ছোট থেকে বড় সব বয়সের মানুষেরই মরশুমি ফল খাওয়া গুরুতপূর্ণ । আতা হল তেমনই একটি ফল । প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট আছে এই ফলটিতে । যা শরীর থেকে ক্ষতিকর জীবাণু দূরে রাখতে সাহায্য করে ।

এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় । এছাড়া ফসফরাস পটাসিয়াম , থায়ামিন , সোডিয়াম , প্যাণ্টোথেনিক অ্যাসিড , রাইবোফ্লাভিন , মেথিওনিনের মতো পুষ্টি উপাদানগুলি প্রচুর পরিমাণে রয়েছে । এই ফলটি সামান্য পরিমাণে খেতে হবে নয় তো কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে । যা শরীরের জন্য বড় ক্ষতিকর ।

আতার মধ্যে হাজারও গুন থাকলেও এই ফল সবার জন্য মোটেই উপকারী হয় । এই ফল খেলে কারোর কারোর আবার অ্যালার্জি হতে পারে । কেউ কেউ এই ফল খাওয়ার পর সমস্যায় ভোগেন । মানসিকভাবে বিরক্ত থাকেন যারা , তাদের আতা না খাওয়াই ভাল । আতায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে । তবে এটি বেশি খেলে ফোলাভাব আনুভব করতে পারেন । আবার কখনও কখনও গ্যাস্ট্রোইনটেষ্টাইনাল রোগের দিকে পরিচালিত করে । কেউ কেউ ডায়রিয়ার সমস্যাতেও ভুগতে পারেন ।

আতা ফল স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী হলেও এর বীজ খুবই বিষাক্ত । তাই ভুল করেও বীজ গিলে ফেলবেন না ।এই ফলের বীজে থাকা কিছু যৌগ স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক খারাপ প্রভাব খেলে । অ্যানোনাসিন নামক টক্সিন থাকায় এটি নার্ভের সমস্যা সৃষ্টি করে । যারা এই রোগের ওষুধ খান তারা এই ফলটি খেলে তাদের রক্তচাপ হটাৎ করে কমে যায় । কারোর কারোর আবার চোখ লাল হয়ে জলও পড়তে পারে ।

আতায় প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে । এই কারণে , কিছু লোক বমি বমি ভাব অনুভব করতে পারে । এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। গ্যাস্ট্রোইনটেষ্টাইনাল সমস্যা এবং প্রদাহও হতে পারে । এই ফল ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় খেলে সর্দি – কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে । এগুলো ক্যালোরি সমৃদ্ধ ।এর ফলে ওজন বৃদ্ধি পায় । গর্ভবতী মহিলাদের যতটা সম্ভব কম খাওয়া উচিত । এই ফলের বীজ ভুল করে পাকস্থলীতে ঢুকলে গর্ভপাতেরও ঝুঁকিও থাকে । যারা স্থুলতায় ভুগছেন তাদরে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই খাওয়া উচিত ।