ব্লাড প্রেশার একটি ক্রনিক অসুখ । এই রোগের বশে না রাখলেই বড় বিপদ ! সেক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক , স্ট্রোক থেকে শুরু করে একাধিক জটিল রোগের ফাঁদে পড়ার আশক্ষা বাড়ে । তাই যেভাবেই হোক হাই প্রেশারকে বশে রাখতে হবে । আর এই কাজের সাফ্যল পেতে চাইলে সবার প্রথমে কাঁচা নুন এবং নুন সমৃদ্ধ যে কোনও খাবারের থেকে বাড়িয়ে নিন দূরত্ব । এমনকি খাওয়া চলবে না ফাস্টফুড । তার বদলে নিয়মিত ডায়েটে রাখুন পালংশাক । তাতেই ব্লাড প্রেশার বশে থাকবে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ ।

তাই আর সময় নষ্ট না করে এই নিবদ্ধ থেকেই বিপি কমানোর কাজে পালংশাকের গুরুত্বের কথা জেনে নিন । তারপরই না হয় একে ডায়েটে জায়গা করে দেবেন ।
সারা পৃথিবীর প্রথম সারির সব পুষ্টিবিজ্ঞানীরা পালংশাকের প্রশংসা করেন । তাঁদের কথায় , এতে রয়েছে ভিটামিন কে , ভিটামিন এ , ফোলেট , ম্যাঙ্গানিজ , ভিটামিন সি , ম্যাগনেসিয়াম , রাইবোফ্লাভিন ,আয়রন , ভিটামিন ই ,কপার, পটাশিয়াম , ভিটামিন বি৬ থেকে শুরু করে একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজ । শুধু তাই নয় , এতে অত্যন্ত উপকারী কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টও রয়েছে । যেই কারণে নিয়মিত এই শাক খেলে শরীরে প্রদাহ কমে । দূরে থাকে একাধিক ঘাতক সমস্যা । তাই আপনার রোজের ডায়েটে অবশ্যই পালংশাককে জায়গা করে দিতে পারে ।

এই শাকে রয়েছে পটাশিয়ামের ভাণ্ডার । আর এই উপাদান রক্তনালীকে শান্ত করে এবং ব্লাড প্রেশার কমায় । শুধু তাই নয় ,পটাশিয়ামের গুনে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরে উপস্থিত অত্যাধিক সোডিয়ামও বাইরে বেরিয়ে যায় । যার দরুন কমে ব্লাড প্রশার । এখানেই শেষ নয় , এতে উপস্থিত ম্যাগনেসিয়াম , ফোলেট এবং একটি বি ভিটামিন নাইট্রিক অক্সাইড তৈরির সাহায্য করে । সেই কারণেও কমে যায় ব্লাড প্রেশারের রোগীদের নিয়মিত এই সবজি খেতে ভুলবেন না যেন !

একজন সুস্থ মানুষ দিনে মোটামুটি ৫০ গ্রাম পালংশাক খেতে পারেন । আর বর্ষায় এই শাক রান্নার সময় তা আগে ভালো করে পরিস্কার করে নিন । কোনও জায়গা নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকলে তা বাদ দিয়ে দিন । তারপর ভালো করে সিদ্ধ করে রাধুন । তাতেই ব্লাড প্রশারকে অনায়সে বশে রাখতে পারবেন । তবে শুধু হাইপারটেশন কন্ট্রোলই বাগে আনে এই শাক । আসুন সেই দিকে ঝটপট নজর দেওয়া যাক ।

আজকাল বয়স একটু বাড়লেই পিছু নিচ্ছে অ্যালঝাইমার্সের মতো জটিল অসুখ । তবে ভালো খবর হলো , আপনি যদি নিয়মিত এই শাক খান , তাহলে অনায়সে এই সমস্যা প্রতিরোধ করতে পারবেন । কারণ ,এই শাকে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ,ফোলেট এবং ফাইলোকুইনোনের মতো কিছু উপকারী উপাদান । আর এসব উপাদানের গুনে সুরক্ষিত থাকে মস্তিষ্কের কোষগুলি । যার ফলে কাছে ঘেঁসতে পারে না অ্যালঝাইমার্সের মতো জটিল সব অসুখ । তাই স্মৃতির হাল পোক্ত করতে চাইলে নিয়মিত পালংশাক খেতে ভুলবেন না যেন !

আপনি কি নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার ভোগেন ? কিছুতেই সকাল সকাল পেট পরিস্কার হতে চায় না ? সেক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়ুন , তার বদলে রোজ খান পালংশাক । কারণ ,এতে রয়েছে ফাইবারের ভাণ্ডার । আর এই উপাদান অন্ত্রে মলের গতিবিধি বাড়ায় । যার দরুন পেট পরিস্কার হতে সময় লাগে না । এছাড়া নিয়মিত এই শাক খেলে দূরে থাকে গ্যাসট্রাইটিসের মতো সমস্যা । তাই চেষ্টা করুন নিয়মিত পালংশাক খাওয়ার ।

এই শাকের মজবুত রয়েছে জিয়াজ্যানথিন নামক একটি উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট । আর এই উপাদান চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী । বিশেষত, বয়সজনিত চোখের সমস্যা দূর করার কাজে এর জুড়ি মেলা ভার । যেই কারণে নিয়মিত পালংশাক খেলে ছানির মতো সমস্যা দূরে থাকে । এর পাশাপাশি বছর বছর পাওয়ার বাড়ার আশঙ্খাও এক ধাক্কায় আনেকটাই কমে যায় ।

Disclaimer : প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে । কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।