আলু অনেকটাই সর্বঘটে কাঁঠালি কলার মতো । সব রান্নাতেই চলে । তবে পুষ্টিবিদরা খুব একটা সুনজরে দেখেন না । কারণ আলুতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে । অতিরিক্ত খেলে ওজন রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভূত সম্ভবনা রয়েছে । চিকিৎসকেরা দিনে একটা আলু খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন । কারণ এতে বেশ কিছু উপকার পাওয়া যায় ।

আলুতে কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি ফাইবার এবং বেশ কিছু পুষ্টি উপাদানও রয়েছে । তবে এর সুফল পেতে চাইলে সিদ্ধ করে খেতে হবে । ডিপ ফ্রাই চলবে না । একটা আলুতে ৭ .৯ গ্রাম প্রোটিন , ০. ৩ গ্রাম লিপিড , ৬ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ২৯১ ক্যালোরি এবং ২ . ২৯ গ্রাম শর্করা থাকে । পাশাপাশি এতে রয়েছে ভিটামিন সি , ভিটামিন বি১২ ,পটাশিয়াম এবং ম্যাগানিজের মতো খনিজ , যা সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় ।

প্রতিদিন একটা আলু খেলে কি কি উপকার মিলতে পারে দেখে নেওয়া যাক । আলুর খোসায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে । যা হজমশক্তি বাড়ায় , কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । অনেকক্ষণ পেট ভর্তি থাকার কারণে ওজন কমাতেও গুরুতপূর্ণ ভূমিকা নেয় ফাইবার ।

আলুতে কার্বোহাইড্রেট রয়েছে । এটা শরীরকে এনার্জি যোগায় । আলুতে থাকা পটাসিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে । এটা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক । আলুতে ভিটামিন সি রয়েছে । যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শরীরে উৎপাদন বাড়ায় । কোলাজেন ক্ষত নিরাময় করে । আর ভিটামিন সি খাবার থেকে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে ।

ফ্ল্যাভোনয়েড , ক্যারোটিনয়েড এবং ফেনোলিক অ্যাসিডের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টও প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় আলুতে । এগুলো শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে । পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে ফ্রি র্যাডিক্যালের ভারসাম্য বজায় রাখে ।

যাঁদের সিলিয়াক ডিজিজ অ্যালার্জি আছে , তাঁদের জন্য আলু আশীর্বাদস্বরূপ । কারণ এটা প্রাকৃতিকভাবে গ্লুটেন যুক্ত সবজি । গ্লুটেন সবজির বিপরীতে আলুতে নিত্যদিনের ডায়েট অন্তর্ভুক্ত করা যায় । আলু হজমের উন্নতি এবং অন্ত্রের স্বস্থ্য রক্ষার জন্যও পরিচিত।