best food for breakfast ঃ সকালে জলখাবারে কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত ।

সারাদিনে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সকালের জলখাবার খাওয়াটা বেশ জরুরি । সকালের জলখাবার খাওয়ার মাধ্যমে আমাদের দিন শুরু হয় । এটি সারাদিন আমাদেরকে প্রানবন্ত ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । আমাদের শরীরের সুস্থতা জীবনযাপন ও খাদ্যভ্যাসের উপর নির্ভরশীল । স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যভ্যাস ও জীবনযাপন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মন সতেজ রাখে । সারারাত খালি পেট থাকার পর এমন কিছু খাবার খেতে হয় , যা সারা দিন ফিট থাকতে সাহায্য করে । অর্থাৎ , রাতের খাবার আর সকালের খাবারের মধ্যে একটা দীর্ঘ সময়ের বিরতি থাকে । আর এই সময় ঠিকঠাক খাবার খাওয়া খুব জিরুরি । কারন , খালি পেটে সঠিক খাবারাই সারাদিনের হজম ক্রিয়া ঠিক রাখে । ফলে শরীর সুস্থ রাখার এটাই হলো চাবিকাঠি ।

কিছু খাবার আছে যা , খাওয়ার পর দীর্ঘ সময়ের জন্য তৃপ্ত বোধ করা সম্ভব । সকালে খালি পেটে নিশ্চিতে শুধুমাত্র স্বাভাবিক তাপমাত্রার এক গ্লাস জল খেতে পারেন , যা দীর্ঘসময়ের জল- শূন্যতা দূর করে শরীরকে সতেজ করতে সাহায্য করে । এছাড়া এমন কিছু খাবার আছে যে গুলো খালি পেটে খাওয়ার অভ্যাসে শরীর সঠিকভাবে কাজ করে এবং সে সব খাবারই সকালের জল খাবারে প্রাধান্য দেয়া উচিত । সকালের জল খাবার বেশি পরিমাণে ক্যালরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং সারাদিন ধরে রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে । তাই প্রতিদিন সকালে স্বাস্থ্যকর এবং ভারী জল খাবার খেলে মস্তিক পুরোদিনের জন্য তৈরি হয়ে যায় এবং সারাদিন শক্তি পাওয়া যায় । সকালের খাবারের ক্ষেত্রে সব সময় একটা কথা মাথায় রাখতে হবে , সকালে জল খাবারে যে খাবারটা খাওয়া হবে সেটা যেন একটু ভারী এবং স্বাস্থ্যকর হয় ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক সকালে জলখাবারে কোন খাবারগুলো খাওয়া উচিত ——————

ডিম ঃ ডিমকে বলা হয় সুপারফুড । দিমে রয়েছে প্রচুর পরিমানে মিনারেলস এবং ভিটামিন । এটি হচ্ছে প্রোটিনের সব চাইতে ভালো উৎস । এতে ক্যালোরিও থাকে বেশ কম। তবে এটি হজম হতে সময় লাগে । যার কারনে ডিম খাওয়ার পরে দীর্ঘসময়ের জন্য পেট ভরা থাকে । এছাড়া ডিমে সেলেনিয়াম পাওয়া যায় , যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে । একই সঙ্গে ডিম খেলে মন তীক্ষণ থাকে এবং চোখের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে । তাই সকালের জলখাবারে অবশ্যই প্রত্যেকের ডিম খাওয়া উচিত । একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবে সকালে ২ টি ডিম খেলেই যথেষ্ট ।

ওটস ঃ সকালের জল খাবারে ওটস রাখতে পারেন । এটি সবার কাছে খেতে ভালো না লাগলেও ওটস আমাদের দেহের জন্য বেশ ভালো একটি খাবার । এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার । ওজন কমাতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওটসের জুড়ি নেই । ওটস খেলে ভরপুর এনার্জি মেলে , ফলে শরীর থাকবে চাঙ্গা । তাই সকালের জল খাবারে এক বাটি ওটস রাখতে পারেন । সকালের জল খাবারে ওটস খেলে অন্ত্র পরিস্কার হয় , যা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং গ্যাসের মতো সমস্যার ঝুঁকি এড়ায় । এছাড়া , ওটসে খুব কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স থাকে , যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ।

কাঠবাদাম ঃ কাঠবাদাম ভিটামিন ও খনিজ ভরা । এটি জলে ভিজিয়ে রাখলে এর পুষ্টিগুণ অনেক বেড়ে যায় । দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর সকালে ৫-১০ টি কাঠবাদাম খেলে পুষ্টি জোগানোর পাশাপাশি সারাদিন রুচিও বাড়ায় ।

খিচুড়ি ঃ সকালের জল খাবারে মধ্যে অন্যতম হল খিচুড়ি । অনেকেরই সকালে ভাত খাওয়ার অভ্যাস । আর তারা ভাতের বদলে সকালের জল খাবারে রাখতে পারেন খিচুড়ি । তবে অবশ্যই এটি জেন হয় সবজি খিচুড়ি । অর্থাৎ , চালের পরিমান কমিয়ে বেশি পরিমানে সবজি দিয়ে রান্না করা সবজি খিচুড়ি দিয়ে সেরে নিতে পারেন সকালের জল খাবার ।

গ্রিন টি ঃ সকালে গ্রিন টি খাওয়া খুবী উপকারী হতে পারে । গ্রিন টি – তে উপস্থিত ক্যাফেইন শরীর ও মেজাজ ঠিক রাখে । গ্রিন টি খেলে শুধু মেজাজই ভালো হয় না , দুশ্চিন্তাও কম হয় । এছাড়া , গ্রিন টি অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট হওয়ায় এটি শরীরের চর্বি কমাতে কাজ করে পারে । এটি খালি পেটে দারুন কাজ করে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top