জিভে ঘা , যা জিভের উপরের অংশে ছোট ছোট ছোপ ফোসকা বা ক্ষত তৈরি হতে পারে । এটি আকারে ছোট হতে পারে আবার বড়ো হতে পারে । এগুলির সাধারণত একটি ডিম্বাকৃতি বা গোলাকার আকৃতি হয়ে থাকে । জিভে ঘা হলে তার কষ্ঠ শুধু ভুক্তভোগীরাই জানে । এই সমস্যা দেখা দিলে আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যায় , কিছুটা উঁচুও হয়ে যেতে পারে । সেই সঙ্গে ব্যথা , পুড়ে যাওয়ার মতো অনুভূতি হতে পারে । জিভে ঘা হলে খেতে খুবই কষ্ঠ হয় । বার বার সেই জায়গায় কামড় পরে । জিভে ঘা হলে সেই জায়গাটা পুড়ে যায় এবং লাল হয়ে ফুসকুড়ির মতো বেরোয় । আর সেই ফিসকুড়ি ফেটে গিয়ে অনেক সময় রক্তপাতও হয় ।

ভিটামিন সি -এর অভাব সহ নানা কারনে জিভে ঘা হতে পারে । আবার শরীরে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ঘাটতি দেখা দিলেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে । এছাড়া , অতিরিক্ত ঝাল খাবার , গরম খাবার খাওয়ার ফলেও জিভ পুড়ে যেতে পারে । আবার অনেক সময় ভাঙ্গা দাঁতে খচা খেয়ে সেখান থেকেও জিভে ঘা হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায় । জিভে একটা ছোট ঘা থেকেও কিন্তু বিপদ ঘনাতে পারে । আর জিভে ঘা , জ্বালাপোড়া , ব্যথা যদি দিনের পর দিন থেকে জায় , তাহলে সতর্ক হতেই হবে । কারন , এ দেশে অনেক মানুস মুখ -গহ্বরের ক্যান্সারে ভুগছেন । জিভে ঘা হলে ক’দিনের জন্য টক , ঝাল জাতীয় খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো । আর মুখ সব সময় পরিস্কার রাখতে হবে এবং প্রচুর পরিমানে জল খেতে হবে ।

জ্বর , ফুড অ্যালার্জি , পুড়ে যাওয়া , স্ট্রেস ,অতিরিক্ত অ্যাসিডিটি , রক্তাস্বল্পতা ইত্যাদি জিভে ঘা হওয়ার অন্যতম কারণ । ঘায়ের তীব্র ব্যথার কারণে অনেকে ঠিকমত খেতে পারেন না । তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে জিভের ঘা – এর মোকাবিলা করা সম্ভব । খুব সাধারণ উপায়ে জিভের ঘা সারিয়ে ফেলুন মাত্র ২ দিনে ।
নুন – জলের ব্যবহার ঃ জিভের ঘা সারাতে একটি দুর্দান্ত উপায় হতে পারে । প্রথমে জল হালকা গরম করে তার মধ্যে এক চিমটি নুন দিয়ে দিন । সেই হালকা গরম জল দিয়ে কুল্কুচি করে নিন । নুনের রয়েছে জীবাণু দূর করার ক্ষমতা । তাই নুন , জলের ব্যবহারে মুখের ভেতরের জীবাণু দূর হবে সহজেই । এছাড়া জিভের ক্ষত এরাতেও তা খব ভালো কাজ করে ।

অ্যালোভেরা ঃ প্রাকৃতিক মহৌষধ বলা হয় অ্যালোভেরা । জিভের ক্ষত মেটাতে ভাল কাজ করে অ্যালোভেরা । অ্যালোভেরাতে রয়েছে ঔষধি গুন যেমন প্রদাহবিরোধী এবং অ্যান্টি- মাইক্রোবিয়াল অ্যাকশন , যা দ্রুত নিরাময় করতে সাহায্য করে । এই গাছের পাতা ভেঙে জেল বের করে নিন । এবার তা জিভের উপর লাগিয়ে রাখুন । চাইলে অ্যালোভেরার জুসও খেতে পারেন । এছাড়া , অ্যালোভেরা জেল প্রদাহ এবং মুখ বা জিভের আলসারের সাথে চুলকানি হয় তা কমাতে একটি দুর্দান্ত উপায় ।

মধু ঃ ক্ষত নিরাময়ের উপায় হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে মধু । এটি হল আলসারের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার , যা জ্বালা করে না , সহজেই পাওয়া যায় এবং ব্যবহার করা সম্ভব । মধু জিভের ক্ষতস্থানে মধু লাগিয়ে রাখতে পারেন , এতে বেশ উপকার পাবেন । কয়েক ঘণ্টা অন্তর অন্তর মধু লাগালে তবেই সুফল পাবেন । কারণ , মধুর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিইয়াক্তেরিয়াল গুন থাকে তাতেই ক্ষত সারে । এছাড়া , মুখ বা জিভের আলসার থেকে মুক্তি পেতে এক কাপ চায়ে কাঁচা মধু যোগ করে সারাদিন ধরে এটি খেতে পারেন ।

আইস প্যাক ঃ মুখ বা জিভের আলসারের জন্য বরফ অত্যন্ত কার্যকর ঘরোয়া প্রতিকার । বরফ ফোলাভাব কমাতে এবং ব্যথা- যুক্ত স্থানকে অসাড় করতে সাহায্য করে । জিভে বরফের টুকরো লাগালে অসাড়তা অনুভব করলে আলসারের ব্যথা কমতে পারে । এছাড়া , জিভের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে আক্রান্ত স্থানে বরফের টুকরো আলতো করে লাগাতে পারেন । অথবা ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে পারেন বরফের টুকরো ।

নারকেল তেল ঃ নারকেল তেলের একটি উপকারিতা হল এটি জিভের আলসার সারাতে সাহায্য করার জন্য উপরে প্রয়োগ করা যেতে পারে । এটি আলসার সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বীরুধেও কার্যকর , যা মুখ বা জিভের আলসার নিরাময়ে জন্য প্রাকৃতিক উপায় । আঙুল দিয়ে নারকেল তেল ক্ষতস্থানে লাগাল । নারকেল তেল ক্ষতের উপর একটি আস্তরণ তৈরি করে ।