health tips : রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া রোগীদের জন্য থাকল কিছু খাবার সম্পর্কে ।

শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব হলে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা দেখা দেয় । রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকলে তাকে রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া বলা হয়ে থাকে । শরীরের আয়রনের অভাবে রক্তাল্পতা হয়ে থাকে । শরীরে লোহিত রক্ত কণিকাগুলি প্রয়োজনের তুলনায় কমতে থাকলে বা এর নষ্ট হওয়ার প্রবনতা লোহিত রক্ত কণিকার উৎপাদনের তুলনায় বেড়ে গেলে রক্ত পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে না । তাই শরীরে রক্তের অভাব দেখা দেয় । বিশেষ করে যারা পুষ্টিকর খাবার থেকে বঞ্চিত তাদের রক্তস্বল্পতা প্রবনতা বেশি হয় ।

রক্তাল্পতা তখনই দেখা যায় যখন সুস্থ লোহিত রক্ত কনিকা বা হিমোগ্লোবিনের অভাব হয় , যা ফুস্ফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ এবং টিস্যুতে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে । এর ফলে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায় এবং ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভূতি হতে পারে । এটি পুরুষ এবং মহিলাদের সমানভাবে প্রভাবিত করে এবং যেকোন বয়সের ব্যক্তিদের জন্য যে কোনও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা রয়েছে , প্রদাহজনক অবস্থা দীর্ঘস্থায়ী রক্তাল্পতা বিকাশ করতে পারে । রক্তস্বল্পতা হলে শরীর নিস্তেজ হয়ে আসে , কর্মক্ষমতা লোপ পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় । তাই রক্তশুন্যতায় খাবারের দিকে বেশি করে খেয়াল রাখতে হবে । সেক্ষেত্রে , যেসব খাবারের রক্তস্বল্পতা দূর করার ক্ষমতা রয়েছে সেই সব খাবার নিয়মিত খেতে হবে ।

রক্তস্বল্পতা হলে যে সমস্ত শারীরিক সমস্যা হয় — যেমন , মাথা ব্যথা , চোখে অন্ধকার দেখা , মাথা ঝিমঝিক করা , কাজকর্মে অনিহা , অনিদ্রা , মাথা ঘোরা , অরুচি , বমি বমি ভাব , হজমে ব্যঘাত ঘটা , অল্প পরিশ্রমে হাঁপিয়ে ওঠা , মেজাজ খিটখিটে হওয়া , অল্পতে মনযোগ নষ্ট হওয়া , মুখের কোনায় ও জিহ্বায় ঘা হওয়া , জিহ্বা ও ঠোঁট মসৃন ও সাদাটে হয়ে যাওয়া এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু পুষ্টিকর খাবার সম্পর্কে যা রক্তশুন্যতা দূর করে —————————

দুধ ঃ দুধে আছে পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়াম । দুধে থাকা এই উপাদানগুলো রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে । তাই রক্তশূন্যতা রোগীদের জন্য দুধ নিয়মিত খাওয়া উপকারী । এছাড়া , দুধ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং প্রোটিন যোগাতে সাহায্য করে । দুধে খুব বেশি পরিমানে আয়রন না থাকলেও এতে প্রায় সব ধরনের ভিটামিন আছে ।

খেজুর ঃ খেজুরে রয়েছে ভরপুর আয়রন । আয়রনের অন্যতম উপাদান এরিথ্রোসাইটের সংখ্যা বাড়াতে পারে খেজুর । এর ফলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায় । এছাড়া খেজুরে রয়েছে ভিটামিন সি , ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং ফলিক অ্যাসিড । আর এই উপাদানগুলি লোহিত রক্তকণিকা গথনে সাহায্য করতে এবং অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে । তাই রক্তস্বল্পতা সমস্যা দূর করতে খাদ্যতালিকায় খেজুর রাখতে পারেন নিয়মিত ।

ডার্ক চকলেট ঃ ডার্ক চকলেট হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে । এক টুকরো করে ডার্ক চকলেট রোজ খেলেই দেহে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হবে । পাশাপাশি নিয়ন্ত্রনে থাকবে রক্তে শর্করার মাত্রাও ।

বিটরুট ঃ বিটরুটে প্রচুর পরিমানে রয়েছে আয়রন । যার কারনে হিমোগ্লোবিনের পরিমান বার্মাতে সাহায্য করে । এছাড়া এতে রয়েছে ফলিক অ্যাসিড , যা হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সাহায্য করে ।

ফলমূল ঃ ফলমূলে আয়রন প্রচুর পরিমানে থাকে । প্রতিদিন আয়রন জুক্ত ফল খেলে রক্তশূন্যতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । আয়রনযুক্ত ফল গুলি হল — কলা , আঙ্গুর , বেদানা , আপেল , টমেটো , কমলা লেবু , গাজর ইত্যাদি । তাও সরাসরি আয়রন গ্রহন করতে প্রতিদিন ২-৩ টি ফল খেতে ভুলবে না ।

শাকসবজি ঃ শাক সবজিতে প্রচুর পরিমান আয়রন থাকে । বিভিন্ন রকম শাক সবজি যেমন পালং শাক , ধনিয়া পাতা , পুদিনা পাতা , লেটুস , বিট , কচুর লতি , কচু শাক ইত্যাদি । এই সমস্ত শাক সবজি নিয়মিত খেলে রক্তশূন্যতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব । কারন , এই শাক সবজি গুলোতে আয়রনের পাশাপাশি ফলিক অ্যাসিডও রয়েছে যা রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে ।

ডিম ঃ রক্তস্বল্পতা কমিয়ে শরীরে রক্তের পরিমান বাড়াতে ডিম খুব উপকারী । ডিমের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট ও প্রোটিন এবং ডিমের কুসুমের মধ্যে রয়েছে আয়রন । তাই এটি শরীরে লোহিত রক্তকণিকার পরিমাণ বাড়ায় ।

সয়াবিন ঃ সয়াবিনের মধ্যে থাকা সাইটিক অ্যাসিড রক্তস্বল্পতার সঙ্গে লড়াই করে । সয়াবিনে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় আয়রন এবং ভিটামিন । এছাড়া সয়াবিনের মধ্যে রয়েছে কম পরিমান চর্বি এবং অধিক পরিমাণে প্রোটিন । এতে থাকা প্রোটিনও অ্যানিমিয়া প্রতিরোধে উপকারী

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top