দামি মশলার মধ্যে অন্যতম কেশর । রান্নার স্বাদ আনতে কেশর ব্যবহার করা যায় । কেশর এশিয়ার উৎপন্ন একটি মশলা । এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্রোকাস স্যাটিভাস । বহুকাল ধরে এই গাছটি ঔষধি গুনের জন্য পরিচিত । এটি ওজনের মধ্যে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা মুল্যবান মশলার একটি । আদের বেশির ভাগ ইরানে জন্মায় । এটি গ্রিসে প্রথম চাষ করা হয়েছিল । প্রায়ই মিষ্টি আর নানা খাবারের রঙ এবং স্বাদের মাধ্যম হিসেবে কেশর ব্যবহৃত হয় । তবে কেশর শুধুমাত্র রান্নার জন্য না , এটি ত্বক ও চুলের জন্যও ভীষণ উপকারী ।

কেশর একটি ভেষজ যা ভারত এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে চাষ করা হয় । অতি সহজেই আমাদের দেশে এই গাছটি চাষাবাদ করা সম্ভব হলেও এর কোন পরিকল্পনা বা বানিজ্যিক উতপাদন নেই । কেশর ফুলে লাল রঙের সুতোর মতো একটি সুতো থাকে , যা শুকিয়ে বানিজ্যিক ভাবে এর তীব্র গন্ধের জন্য মশলা হিসেবে এবং আয়ুর্বেদিক প্রস্তুতিতেও ব্যবহৃত হয় । প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাশ্মীর থেকে এটি এনে বাজারে বিক্রি করা হয় খাবার সুস্বাদু করার জন্য । স্পেনের লা মাঞ্চা অঞ্চলের জাফরনের সুবাস সবচেয়ে ভাল । এদের জাফরন দুইটি ক্যাটাগরীতে পাওয়া যায় । ১। মাঞ্চা , ২। ক্যুপে । ভারত ছাড়াও তুরস্ক , ইরান , পাকিস্তান , ইতালি , স্পেন- সহ ইউরোপ ও এশিয়ার প্রায় ২০ টি দেশে জাফরন চাষ হয় ।

কেশর হল একটি বিশেষ ধরনের ফুলের রেনু , যা বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর । কেশরে রয়েছে ভিটামিন এ , সি , আয়রন , পটাশিয়াম , ম্যাঙ্গানিজ , ক্যালশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী । রান্নার দুনিয়া ছাড়াও , স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আশ্চর্য উপকারের জন্যও এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয় । ফুলের এই ছোট কেশর মানসিক বিসন্নতা এবং মেজাজ পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে । কেশরের উপাদানগুলি শরীরে বাত , পিত্ত এবং কফ দোষের ভারসাম্য রাখার সুপরিচিত ।
জেনে নিন কেশরের বিস্ময়কর উপকারিতা দিক গুলি —–

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ কেশরে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং বিভিন্ন রোগ থেকে রক্ষা করে । এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট শরীরের কোষগুলি স্ট্রেস থেকে রক্ষা করে । কেশর কোষ নিরাময়ে সাহায্য করে এবং এতে প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে ।
বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে ঃ কেশরের পাপড়ি এবং গর্ভমুণ্ড বিষণ্ণতার হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর । বিষণ্ণতার নিরাময়ের জন্য দৈনিক মাত্র ৩০ গ্রাম কেশর অনেক ভালো কাজ করে । এই কারণে কেশরকে সানশাইন মশলা বলা হয় ।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ঃ কেশরে প্রচুর পরিমানে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে । তাই এটি ক্যানসার আক্রান্ত কোষ নষ্ট করতে বেশ কার্যকরী । বিশেষ করে প্রটেস্টে ও কোলন ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করতে কেশর ব্যাপক ভূমিকা পালন করে । ক্যান্সার ও টিউমার নিরাময়ে খুব কার্যকরী কেশর ।

ওজন কমাতে সাহায্য করে ঃ শরীরের বাড়টি মেদ কমাতে কেশরের গুরুতে অপরিসীম । কেশরের নিয়মিত ব্যবহার প্রাকৃতিক ভাবে খিদে এবং দ্রুত ওজন কমানোর জন্য পরিচিত । খাবারে কেশর থাকলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরে থাকে এবং বার বার খিদে পায় না । কেশর শরীরে মেটাবলিজাম বাড়ায় । আর তাতেই বাড়তি মেদ ঝড়ে । নিয়মিত কেশর খাওয়ার ফলে বডি মাস ইনডেক্স কমে যায় এবং শরীরের চর্বি কমে যায় ।
রক্তাস্বল্পতা দূর করে ঃ কশরে প্রচুর পরিমানে আয়রন রয়েছে । আর এই খনিজ উপাদান রক্ত পরিশুদ্ধ করে এবং রক্ত তৈরি হওয়া বৃদ্ধি করে । এতে দেহের রক্তাস্বল্পতা দূর হয় এবং রক্তের কারনে সৃষ্টি হওয়া সমস্যা হয় ।

স্বাস্থ্য উন্নত করে ঃ কেশর নিয়মিত খেলে তা হরমোন উদ্দীপক হিসাবে কাজ করে । অর্থাৎ শরীর যদি রোগা হয় বা সব সময় রোগ লেগেই থাকে তাহলে সেক্ষেত্রে কেশর খাওয়া স্বাস্থ্য উন্নত করে । কেশরে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান দেহের সমস্ত সমস্যা সমাধান করে এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে ।
অবসাদ দূর করে ঃ কেশর নিয়মিত খেলে তা মস্তিস্কের নিউরল সচল করে যা মানসিক অবসাদ এবং দুশ্চিন্তার দূর করে দেয় ।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে ঃ প্রাকৃতিক উপকারী উদ্ভিদের মতো কেশরও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রন করে । বিশেষ করে এই মশলা দেহের জন্য ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল দূর করে এবং উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে ।
হৃৎপিণ্ড সুস্থ রাখে ঃ কেশরে রয়েছে পটাশিয়াম রয়েছে , যা হার্টের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে । এছাড়া হৃৎপিণ্ডের পেশি এবং কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে কেশর । কারন , কেশর যেমন রক্ত পরিস্কার করে , তেমনই রক্তের পরিমান বৃদ্ধি করে ব্লাড সার্কুলেশন নিয়ন্ত্রণ করে ।