gima shak benefits : নিম পাতার মত তেতো হলেও হাজার গুনে ভরপুর গিমা শাক ।

গিমা শাক নামটা শুনলেই অনেকের কাছেই অপরিচিত লাগে । এই শাকটি বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন নামে পরিচিত । এই শাকটি কোথাও টিমা , গিমা আবার কোথাও জিমা নামে পরিচিত । আবার অনেকে এটিকে জংলি শাকও বলে থাকে । বিশেষজ্ঞদের মতে , গিমা শাক বিভিন্ন রোগের ভেষজ হিসেবে কাজ করে । বাড়ির আশেপাশে বা বিভিন্ন ক্ষেতে গিমা শাকের দেখা মিলে । এই শাকটি অনেকের কাছেই অনেক প্রিয় একটি শাক । গিমা শাক অনেকে খেতে খুব পছন্দ করে । কিন্তু এটি খুব সহজে যেখানে সেখানে পাওয়া যায় না ।আবার দেখা যায় যে এই গিমা শাক যেখানে সেখানে অযত্নে বেড়ে ওঠে । এছাড়া , কিছু কিছু বাজারগুলোতে বারো মাস গিমা শাক পাওয়া যায় ।

গিমা শাক আগাছার মতো জন্মায় । এটি লতানো বিশিষ্ট শাক । এই শাক ডাল বিশিষ্ট , ঝোপালো হয় ও মাটিতে চাপা ভাবে লেগে থাকে । এটির ফুল সাদা বর্ণের এবং ছোট ছোট সবুজ পাতা হয় । সাধারনত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য গিমা শাক রান্না করে খায় । এই শাকের শুধু পাতা খাওয়া হয়ে থাকে , যা তেতো স্বাদের । কিন্তু ওষুধ তৈরির কাজে এর কাণ্ড , পাতা , ফুল সবই লাগে । গিমা শাকের স্বাদ তেতো , তাই অনেকের অপছন্দ হতে পারে । কিন্তু এটি তেতো হলেও নিম পাতার মতোই হাজার একটা গুনে ভরপুর গিমা শাক । গিমা শাক দামে যেমন কম তেমনই পুষ্টিগুণে ঠাসা ।

গিমা শাকে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে । এই শাকে প্রচুর পরিমাণে পরিমাণে ফাইবার থাকে । এছাড়া গিমা শাকে প্রচুর পরিমানে আয়রন , প্রোটিন , আয়োডিন , ফসফরাস , ক্যালসিয়াম , পটাসিয়াম , ভিটামিন এ , ভিটামিন বি১ , জিঙ্ক , ম্যাগনেসিয়াম , ভিটামিন বি২ ও ভিটামিন সি – সহ বিভিন্ন ভিটামিন রয়েছে । তাছাড়া এই গিমা শাকের মধ্যে টাইটারপিন এবং স্যাপোনিন থাকে , যা আমাদের একাধিক রোগ সমস্যা দূর করে । তাই আমাদের নিয়মিত অল্প পরিমান হলেও গিমা শাক খাওয়া উচিত । এটি আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারী ।

তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক , গিমা শাকের কি কি উপকারিতা রয়েছে ——

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ঃ গিমা শাকে প্রচুর পরিমানে এমন পুষ্টি উপাদান থাকে ,যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে । তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে নিয়মিত গিমা শাক খাওয়া খুবই উপকারী ।

কোলন বা অন্ত্র পরিস্কার রাখে ঃ গিমা শাক কোলন বা অন্ত্রের জন্য বেশ উপকারী । এই শাক নিয়ম করে খেতে পারলে কোলনে আর বর্জ্য পদার্থ জমে থাকবে না । ফলে কোলনের রোগও কম হবে ।

রুচি বৃদ্ধি করে ঃ গিমা শাক খুব তেতো স্বাদ যুক্ত একটি শাক । এই তেতো স্বাদ জিব্বার উপরে পড়া আস্তরণ দূর করে । যার ফলে আমাদের মুখে খাবারের রুচি বৃদ্ধি পায় । এছাড়া দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে গিমা শাক দারুন উপকারী । অনেক সময় চোখ উঠলে বা চোখ ব্যথা করলে গিমে পাতা দিয়ে সেক দেওয়া হয় ।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে ঃ গিমা শাকে প্রচুর পরিমানে ফাইবার রয়েছে , যা আমাদের খাদ্য হজম করতে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য করে । গিমা শাক পেটের গ্যাস্ট্রিক বা জ্বালাপোড়া জনিত সমস্যা থেকে দূরে রাখে ।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ঃ গিমা শাকে পর্যাপ্ত পরিমানে ফাইবার রয়েছে , যা কোষ্ঠকাঠিন্য জড়িত সমস্যা থেকে দূরে রাখে এবং পাকস্থলীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে । এছাড়া গিমা পাতার রস রস এবং আধা কাপ আমলকী ভেজানো জল মিশিয়ে খেলে বমি বন্ধ হয় ।

ডায়াবেটিস দূর করে ঃ গিমা শাক তেতো স্বাদ যুক্ত হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস নিরাময়ে অনেক বেশি ভূমিকা পালন করে । তাই নিয়ম করে এই শাক খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকা যায় ।

রক্ত পরিশোধন করে ঃ গিমা শাক খেলে তা রক্ত পরিশোধন করে থাকে । এটি রক্তে মিশে থাকা ক্ষতিকর উপাদান গুলো আমাদের শরীর থেক মুত্রের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয় । এছাড়া , গিমা শাক লিভারের বাইল জুস উৎপাদনে পরোক্ষভাবে সাহায্য করে । তাই নিয়মিত গিমা শাক খেলে লিভারের গুরুত্বর রোগ থেকে মুক্তি মেলে ।

চর্মরোগ দূর করে ঃ গিমা শাক খাওয়ার ফলে খোস পোঁচড়া , চুলকানি , দাউদ ইত্যদি চর্ম জনিত সমস্যা গুলো দূরে থাকে । এর জন্য নিয়মিত কিছুদিন এই শাকটি খাওয়া খুবী দরকার । এটি অজীর্ণ , জন্ডিস , জ্বর , পিত্ত কফে উপকারী ।

ওজন কমাতে সাহায্য করে ঃ গিমা শাক ওজন কমাতে বেশ কার্যকরী । এটি দীর্ঘ সময় পেট ভরতি রাখে । ফলে ঘন ঘন খিদে পায় না । যা ওজন কমাতে সাহায্য করে ।

কিভাবে খাবেন ঃ তেতো স্বাদ যুক্ত এই শাক রান্না করে খেতে হয় । গিমা শাকের শুধুমাত্র পাতা খাওয়ার উপযোগী । তাছাড়া এর ডাটার রস ডায়াবেটিস রোগের জন্য উপকারী । তাছাড়া গিমা শাক যে সব রেসিপির মাধ্যমে খাওয়া যায় তা হল —- আলু , বেগুন দিয়ে তরকারি বানিয়ে খেতে পারেন । আবার গিমা শাকের বড়া বানিয়ে খেতে পারেন । এছাড়া যারা জন্ডিসের সমস্যায় ভুগছেন , তারা গিমা শাক সিদ্ধ করে পেঁয়াজ , লঙ্কা দিয়ে বেটে কালো জিরে ফোড়ন দিয়ে কড়াইতে নেড়ে ভর্তা বানিয়েও খেতে পারেন ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top