health tips : ছানা আমরা সকলেই খেয়ে থাকি , কিন্তু এর জল আমারা ফেলে দিই , জানে নিন এর কিছু অজানা তথ্য ।

দুধ স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী বলে মনে করা হয় । তবে এটা কি জানেন যে দুধ থেকে তৈরি ছানাও অন্যতম সুস্বাদু খাবার । দুধ থেকে ছানা তৈরি করে খাওয়ার রীতি বাঙালি রান্না ঘরে প্রচলিত দীর্ঘ দিন । অনেকেই নিয়মিত ছানা খেতে পছন্দ করেন । ছানার পাশাপাশি এর জলও খুব উপকারী । ছানা দিয়ে বিভিন্ন রকমের রান্না করা হয় , যেমন – ছানার বড়া , ছানার ডালনা , ছানার কোফতা ইত্যাদি । বাড়িতে ছানা বানিয়ে ভুল করেও সেই জল ফেলবেন না । কারণ , এই জলের মধ্যে লুকিয়ে র‍্যেছে শরীর ফিট ও সুন্দর থাকার রহস্য । দুধ কাটিয়ে ছানা তৈরি করার পরে সেই জল সাধারণত ফেলে দেওয়া হয় । এটি খেতে ভাল না হলেও , এতেই রয়েছে বেশ কয়েকটি উপকারিতা ।

ছানাতে পাওয়া যায় প্রোটিন , ক্যালসিয়াম , ফ্যাট , ভিটামিন সি , ভিটামিন ডি , ম্যাগনেসিয়াম , ফসফরাস , আয়রন , কার্বোহাইড্রেট , ফাইবারের মতো উপাদান , যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী । ছানা খাওয়ার ফলে শৈশবের স্থুলতা কমানো যায় । এর পাশাপাশি ওজন কমাতে , কোলেস্টেরল কমাতে , রক্তচাপ কমাতে এবং কিছু ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে পারে । এর পাশাপাশি অন্তঃসত্তা মহিলাদের জন্য ছানা খাওয়া বেশ উপকারী । এছাড়া ছানার জলে অ্যালবুমিন ও গ্লোবিউলিন নামে দুটি প্রোটিন থাকে । এতে থাকে ল্যাকটোজ ও কার্বোহাইড্রেট । খাবারের পুষ্টির মান বৃদ্ধিতে ও প্রোটিন সমৃদ্ধি খাবারের বিকল্প হিসেবে এই জল হল অমৃত সমান । ছানার জলে বিভিন্ন খাবার যেমন তৈরি করা যায় তেমনই রূপ চর্চার খেত্রেও ব্যবহার করা যায় । এছাড়া ছানা ও ছানার জল দিয়ে এক বিশেষ ধরণের শরবত তৈরি করা যায় । এছাড়া ছানার জল পেশির শক্তি বাড়াতেও দারুণ কাজের ।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ছানার খাওয়ার স্বাস্থ্যকর উপকারিতা —

হাড় মজবুত করে ঃ ছানায় রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম , ক্যালসিয়াম , ফসফরাসের মতো উপাদান , যা হাড়ের যত্ন নেয় । দুধ থেকে তৈরি ছানা খাওয়া হাড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ঝুঁকি কমাতে পারে । হাড় মজবুত করার জন্য ছানা একটি ভালো বিকল্প হতে পারে ।

কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ঃ ছানা কোলেস্টেরল কমাতে বেশ কার্যকর । দুধ থেকে তৈরি ছানা ভিটামিন সি – র ভাল উৎস । দুগ্ধজাত খারার শরীরকে শক্তিশালী করতে খুবই কার্যকরী ।

ওজন কমাতে সাহায্য করে ঃ ছানায় উচ্চ মানের প্রোটিন পাওয়া যায় , এই প্রোটিন স্বাস্থ্যের রক্ষণাবেক্ষণের যত্ন নেয় । নিয়মিত ছানা খেলে স্থুলতা কমানো যায় । দুধ থেকে তৈরি পণ্য স্থুলতার মতো সমস্যাও কমাতে পারে । এছাড়া ছানায় ফসফরাস থাকার ফলে ছানা খাবার হজমেও সাহায্য করে ।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ঃ ছানায় ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে , যা ব্রেস্ট ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমায় । এছাড়া ছানায় রিবোফ্ল্যাভিন নামে একটি ভিটামিন থাকে যা শারীরিক বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং শরীরে শক্তির যোগান দেয় ।

হার্ট সুস্থ রাখে ঃ ছানা ক্যালসিয়াম এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ । এই দুটি পুষ্টি উপাদান হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর । এছাড়া থাকা পটাসিয়াম ও বায়োএকটিভ পেপ্টাইড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে ।

এবার জানা যাক ছানা জল কোন কোন কাজে লাগে ———-

ছানার জল দিয়ে রূপচর্চা ঃ ত্বকের জন্য ছানার জল অত্যন্ত উপকারী । ছানার জল দিয়ে মুখ ধুলে ত্বক সতেজ থাকে । গরমে ট্যানের সমস্যা দূর করতে ছানার জলের জুড়ি মেলা ভার । রোদ থেকে এসে আলুর রস ও শশার রসের সঙ্গে ছানার জল মিশিয়ে নিয়মিত মুখে লাগালে কালো ছাপ দূর হবে । বেসন বা আটার সঙ্গে ছানার ছানার জল মিশিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন , এতে করে মুখের তৈলাক্তভাব সহজে কেটে যায় ।

চুলের জন্য ছানার জলের উপকারিতা ঃ ছানার জল স্বাস্থ্যকর চুলের জন্য বেশ কার্যকরী । চুল ও স্ক্যাল্প সুস্থ রাখতে ছানার জল ব্যবহার করতে পারেন । শ্যাপু করার পরে ছানার জল দিয়ে স্ক্যাল্প ও চুল ধুয়ে নিন । এরপর ১০ মিনিট রেখে হালকা গরম জলে ধুয়ে নিন ।

ছানার জল দিয়ে বিভিন্ন রকমের পদ তৈরি করা যায় । যেমন —–

রুটি বা পোরটা তৈরিতে ঃ ময়দা বা আটা দিয়ে রুটি বা পরোটা বানানোর সময় সাধারণ জলের পরিবর্তে ছানার জল ব্যবহার করতে পারেন ,

স্মুদি ঃ তাজা ও পুষ্টিকর পানীয়ের জন্য দুর্দান্ত এই ছানার জল । অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবারের জন্য স্মুদিতে ছানার জল মিশিয়ে নিতে পারেন । এছাড়া ফল ও দইয়ের সঙ্গে এই জল মিশিয়ে খেতে পারেন ।

ভাত ঃ গন্ধ ও স্বাস্থ্যকর করে তোলার জন্য ছানার জল দিয়ে ভাত বা পোলাও রান্না করতে পারেন । এটি খাবারে আরও পুষ্টি যোগ করার সবচেয়ে সহজ উপায় ।

স্যুপ বা কারি তৈরিতে ঃ স্যুপ বা তরকারি তৈরি করার সময় সাধারণ জলের পরিবর্তে ছানার জল ব্যবহার করতে পারেন । এতে যেমন স্বাদ বাড়বে , তেমনই প্রোটিনের পরিমাণও অনেকটাই বেড়ে যাবে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top