কলা অনেকেরই প্রিয় ফল । আমরা মোটামুটি সকলেই জানি যে , কলায় এমন অনেক উপাদান পাওয়া যায় যা অন্য কোনো ফলে পাওয়া যায় না । কলা সবচেয়ে এনার্জি প্রদানকারী ফল । পাশাপাশি কলায় পাওয়া প্রোটিন , ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টি সুস্থ শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । তবে শুধু কলা নয় , কলার ফুল থেকে কাণ্ড সবই কিন্তু খাওয়া হয় । আর কলার থেকেও বেশি পরিমাণ আসরন থাকে কলা গাছের কাণ্ডে । যাকে আমরা চলতি ভাষায় বলে থাকি থোর । কলা গাছের কাণ্ডের মজ্জাকেই থোর বলা হয় । থোড় খেতে যেমন ভাল হয় তেমনই পুষ্টিগুণে ঠাসা । থোড় খেলে তা থেকে মিলবে একাধিক উপকার ।
আমরা অনেকেই কলার কাণ্ডকে বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেই কিন্তু কলার কাণ্ড স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী । থোড়ে রয়েছে এমন বেশ কয়েকটি পুষ্টি গুন যা আমাদের শরীর -স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি । থোড় অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর । এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে ফাইবার , পটাশিয়াম , ভিটামিন বি৬ , আয়রন । কলার কাণ্ড এবং থোড় যে সমান উপকারী তা খুব মানুষই জানে । কলা ফলের সমান পরিমাণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে এতে । কলার মোচা এবং কলার থোড় আমাদের অনেকেরই খুব পছন্দের একটি খাবার । কলার মোচা এবং কলার থোড় কলার মতই রান্না করে খুব খাওয়া যায় ।
আপনি জানলে অবাক হয়ে যাবেন থোড়রে এই উপকার গুলো ——
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ঃ থোড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি৬ রয়েছে । এই দুই উপাদানই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । এতে থাকা পটাসিয়াম কার্ডিয়াক পেশীকে শক্তিশালী করে । নিয়মিত থোড়ের রস খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে বিশেষ উপকারী ।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ কলার কাণ্ডে প্রচুর ফাইবার রয়েছে যা শরীরের জন্য উপকারী । এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
শরীরকে ডিটক্স করে ঃ থোড়ের রস খেলে তা শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে সাহায্য করে । এটি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ অপসারণ করে পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করে তোলে ।
অ্যাসিডিটি ও গ্যাসের সমস্যা সমাধান করে ঃ যারা নিয়মিত অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য কলার থোড়ের শরবত খাওয়া খুব উপকারী । কারণ , এটি শরীরে অ্যাসিডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রনে রাখে । এছাড়া বুক জ্বালাপোড়া , অস্বস্তি ও পেটব্যথা সারাতেও এটি বেশ উপকারী ।
ইউরিন ইনফেকশন দূর করে ঃ . যারা ইউরিন ইনফেকশনের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য খুব উপকারী থোড় । ইউরিন ইনফেকশন দূর করতে প্রতিদিন এক গ্লাস থোড়ের রস করে খেতে পারেন।
টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে ঃ থোড় শরীরে উপ্সথিত টক্সিনকে শরীর থেকে বের করতে সাহায্য করে । এছাড়া থোড় প্রাকৃতিক ভাবে কিডনির পাথর অপসারণে কার্যকর ।
ওজন কমাতে সাহায্য করে ঃ থোড়ে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকে , যার ফলে খেলে অনেকক্ষণ ক্ষিদে লাগে না । এটি খেলে পেট ভরা অনুভূত হয় , যা ওজন কমাতে সাহায্য করে । চাইলে আপনি স্মুদি বানিয়ে বা সিদ্ধ করে নিয়ে খেতে পারেন । এছাড়া থোড়ের রস ঠিক ভাবে খেলে ওজন কমে ।
হজম প্রক্রিয়া সচল থাকে ঃ থোড় খেলে হজম প্রক্রিয়া সচল থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা হয় না । আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্য বা বদহজমের সমস্যায় অস্থির থাকেন , তাহলে থোড় খেতে হবে অবশ্যই । এর পাশাপাশি এটি খেলে পেটের জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তিতে আরাম পাওয়া যায় ।
অ্যানিমিয়ার উপকারিতা ঃ থোড় আয়রন সমৃদ্ধ যা হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সাহায্য করে এবং রক্তস্বল্পতার লক্ষণ কমাতে পারে ।
কিডনি ভালো রাখে ঃ কলা গাছের কাণ্ডে প্রচুর পরিমানে পটাসিয়াম থাকে , যার সাহায্যে কিডনিতে ক্যালসিয়াম ক্রিস্টাল তৈরি হওয়া রোধ করতে সাহায্য করে । কিডনিতে পাথর হলে বা পাথরের ঝুঁকি কমাতে থোড়ের রস খেতে পারেন । এর সঙ্গে সামান্য এলাচের গুঁড়ো মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে । কলা গাছের থোড় খেলে কিডনিতে পাথরের সমস্যা কম হয় ।
জানা যাক কলার থোড়ের রস কিভাবে বানাবেন ——————-
কলার থোড়ের রস বানাতে গেলে প্রথমে কলার কাণ্ডটি ভালো ভাবে পরিস্কার করে নিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে নিন এবং পুরু বাইরের স্তরটির খোসা ছাড়িয়ে নিন । এবার টুকরো টুকরো করে রাখা থোড় গুলি মিক্সিতে বেটে নিন । এক কাপ জল দিয়ে একেবারে মিহি করে বেটে নিন । একদম রসের আকারে এসে গেলে ছেঁকে খেয়ে নিন । এছাড়া কলার থোড়ের রসে এলাচ গুঁড়ো যোগ করেও এটি খতে পারেন । এলাচ এটির স্বাদ বাড়ায় ।