কুলেখাড়া বাংলার একটি অতি পরিচিত একটি সবজি । যার ঔষধি গুন মারাত্মক । কুলেখাড়া বৈজ্ঞানিক ভাবে হাইগ্রোফিলা অরিকুলতা নামে পরিচিত । একগুচ্ছ রোগের মোকাবিলা করে এই শাক । এই গাছের শুধু পাতা নয় , গোটা গাছটিই নানা শারীরিক জটিলতা দূর করে । কুলেখাড়ার পাতা এবং কাণ্ডের রসও খেতে পারেন । এর পাতা বা কাণ্ডের রস একটু তেঁতো হয় , তাই যদি সরাসরি খেতে সমস্যা হয় , সেক্ষেত্রে কুলেখাড়ার শাক ভাতের সাথে খেতে পারেন । তাছাড়া অনেকে কুলেখাড়া পাতা শাক রান্না করেও খেয়ে থাকেন ।
এই ভেষজটি শতাব্দী ধরে দীর্ঘাস্থায়ী রোগ এবং অবস্থার নিরাময়ে জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । জলাভূমি এবং জলাভূমিতে প্রায়ই পাওয়া যায় এমন এই ভেষজটি । এতে প্রচুর পরিমানে ঔষধি স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে । প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক কাপ কুলেখাড়ার পাতার রস খেয়ে দিন শুরু করলে আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উপর কিছু আশ্চর্যজনক প্রভাব পড়তে পারে । কুলেখাড়া পাতা পুষ্টিগুণে ভরপুর । পাশাপাশি মজুত উদ্ভিজ্জ উপাদানের গুনে একাধিক রোগের সঙ্গে লড়াই করারও শক্তি পাওয়া । কুলেখাড়া শাকে প্রচুর পরিমানে রয়েছে আয়রন , ফসফরাস , ভিটামিন সি , ভিটামিন ই , ফাইবার , ভিটামিন এ , ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , পটাসিয়াম । আর এই পুষ্টি উপাদান গুলো শরীরের পুষ্টির অভাব মেটাতে সাহায্য করে ।
কুলেখাড়া পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতা —-
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ কুলেখাড়া পাতার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে । এই পাতার রস খেলে তা শরীরকে সংক্রমণ এবং অসুস্থতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে । কুলেখাড়া পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টগুলি ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধেও কাজ করে , যা কোষের ক্ষতি করতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে । নিয়মিত এই পাতার রস খেলে শরীরের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি করতে পারেন , যার ফলে সাধারণ অসুস্থার ঝুঁকি কম হয় । প্রতিদিন খাওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে পারে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে ।
হজম শক্তি ভালো রাখে ঃ কুলেখাড়া পাতা খাওয়ার ফলে হজম শক্তি বৃদ্ধি হয় । কারণ , কুলেখাড়া পাতার মধ্যে রয়েছে ফাইবার যা হজম ক্রিয়াকে সহজ করতে সাহায্য করে । কুলেখাড়া পাতার রস পাচনতন্ত্রকে ভালো রাখে । রোজ কুলেখাড়া পাতা খেলে হজমক্ষমতা বাড়ে । পেটের যে কোনো সমস্যার সমাধানে কুলেখাড়ার রস খুব উপকারী । তাই নিয়ম করে কুলেখাড়া রস খান । যারা হজমের সমস্যায় ভুগছেন তারা কুলেখাড়া পাতা খেতে পারেন ।
হাড় মজবুত করে ঃ কুলেখাড়া পাতায় ক্যালশিয়াম থাকার ফলে এটি হাড় মজবুত এবং শক্তিশালী করতে সাহায্য করে । এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জয়েন্ট ব্যথা , হাড়ের ব্যথা , এবং শরীরের ব্যথা দূর করতে পারে এই কুলেখাড়া পাতা ।
কৃমি থেকে মুক্তি ঃ শিশু কৃমিতে কষ্ট পেলে তাকে কুলেখাড়ার রস খাওয়ান এতে কৃমি দূর হবে । ফলে শিশু সুস্থ – সবল , তরতাজা থাকবে । কুলেখাড়া পাতা খাওয়ার ফলে পেটের কৃমি দূর হয় , কারণ কুলেখাড়া পাতায় রয়েছে Anthelminthic ।
কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে ঃ কুলেখাড়া পাতা ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি পাচনতন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে । দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমসা থেকে মুক্তি পেতে কুলেখাড়া পাতা খেতে পারেন ।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ঃ কুলেখাড়া পাতায় রয়েছে পটাসিয়াম এবং অ্যান্টিইনফ্লেমটরি উপাদান যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে করতে পারে ।
হিমোগ্লোবিন কমে গেলে ঃ রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে কুলেখাড়ার পাতার রস সেদ্ধ করে ছেঁকে নিয়ে সেই জল খান । এতে হিমোগ্লোবিনের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় ।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী ঃ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর । কারণ , এটি রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে । কুলেখাড়া পাতার রস খাওয়ার ফলে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা কমতে সাহায্য করে । তাই যদি কোন ব্যক্তির ডায়াবেটিসের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে কুলেখাড়া পাতা তার জন্য হবে সবচেয়ে বড় মহৌষধ ।
এবার জেনে নিন কি ভাবে এটি খাবেন —
রান্না করা খাবার ঃ কুলেখাড়া পাতা বিভিন্ন রান্না করা খাবারে ব্যবহার করা যেতে পারে । যেমন – স্যুপ , স্টির – ফ্রাই এবং স্টু ইত্যাদি । এটি রান্না করলে এর হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং এর পুষ্টিগুণ বজায় থাকে ।
রস ঃ কুলেখাড়ার রস সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতিগুলোর মধ্যে একটি । প্রথমে কুলেখাড়া পাতা জলে মিশিয়ে গরম করে নিতে হবে । তারপর সেটি ছেঁকে ঠাণ্ডা করে নিয়ে খেয়ে নিন ।
স্যালাড ঃ তাজা কুলেখাড়া পাতা স্যালাডে যোগ করা যেতে পারে । এর হালকা স্বাদ অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশে যায় , যা খাবারে পুষ্টিকর উপাদান যোগ করে ।