কোলেস্টেরল একটি জটিল সমসা । এই রোগের ফাঁদে পড়লে শরীরের হাল বিগড়ে যেতে সময় লাগে না । অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন , অনিয়মিত খাওয়া – দাওয়া এবং আরবিভিন্ন কারণে রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা বাড়ে । কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রনে না রাখলে সমস্যা । কারণ , এই রোগের হাত ধরেই আরও অনেক সমস্যার জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা থাকে যায় । গরম পড়ে গেছে , এই সময় শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায় এবং শরীরের আর্দ্রতা কমে আসে । অর্থাৎ , এই সময় যাদের কোলেস্টেরল রয়েছে তাদের বেশি করে সাবধান থাকা প্রয়োজন । কারণ গরমে কোলেস্টেরল বাড়ার সম্ভাবনা থাকে । তাই যাদের হাই কোলেস্টেরল রয়েছে এই গরমে আরও বাড়তি নজর দেওয়া উচিত । হাই কোলেস্টেরল হৃদরোগ , হিট স্ট্রোক , স্ট্রোক , ডায়াবেটিসের মতো রোগ স্বাস্থ্যের সমস্যা তৈরি করে ।

কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের চর্বি , এটি একটি দ্বি – ধারী তরবারি । শারীরিক কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য কিছু ধরনের কোলেস্টেরল প্রয়োজন , তবে অন্যান্য ধরনের যেমন LDL ( নিম্ন – ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন ) কোলেস্টেরল উচ্চ ঘনত্বে ক্ষতিকারক । কোলেস্টেরল আমাদের শরীরে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হয় । এটি কোষ মেরামত এবং হরমোন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য , কিন্তু এর মাত্রা অতিরিক্ত পরিমানে হলে হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে । HDL (উচ্চ ঘনত্বের লাইপোপ্রোটিন ) কোলেস্টেরল ভালো কিন্তু LDL ক্ষতিকারক কারণ এটি আপনার রক্তনালীর দেওয়ালে জমাট বাঁধে এবং বিভিন্ন হৃদরোগের কারণ হয় ।
কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের জন্য অপরিহার্য । কিন্তু এর মাত্রা অতিরিক্ত পরিমানে হলে হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে । তবে শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে টা ধমনীতে জমা হয় এবং হৃদরগের ঝুঁকি বেরে যায় । তাই চেষ্টা করুন যে ভাবেই হোক কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার । সবজি সমৃদ্ধ খাদ্যাভাস্য বজায় রাখলে কোলেস্টেরল স্তর কমতে থাকে । তবে কয়েকটি সবজি আছে যেগুলো পাতে রাখলে কোলেস্টেরল স্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করতে পারে ।
আসুন জেনে নিই কোন কোন সবজি খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা ঠিক থাকবে —–

টমেটো ঃ টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন নামক একটি উপাদান । আর এই উপাদান LDL কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডসকে বশে রাখার কাজে একাই একশো । টমেটোতে মজুত ফাইবার কোলেস্টেরল গ্রহনে বাধা দেয় । যার ফলে শরীর সুস্থ থাকে এবং হার্টের অসুখ এড়িয়ে চলা যায় ।
ফুলকপি ঃ ফুলকপি হলো অ্যান্থোসায়ানিনে সমৃদ্ধ উৎস । এই অ্যান্থোসায়ানিন খারাপ কোলেস্টেরল LDL – এর মাত্রা কমিয়ে দেয় । এছাড়া ফুলকপি ভিটামিনের ভাণ্ডার , যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় । ফলে কোলেস্টেরল যদি সহজে পিছু না ছাড়ে , তাহলে অবশ্যই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ফুলকপি রাখতে পারেন । নিয়মিত ফুলকপি খেলে দেহে ফাইবারের ঘাটতি মিটে যায় । যার জন্য অন্ত্র থেকে কোলেস্টেরল গৃহীত হতে পারে না ।

গাজর ঃ গাজরে রয়েছে সলিউবল ফাইবারের ভাণ্ডার , আর এই উপাদান খাবারে উপস্থিত কোলেস্টেরলকে অন্ত্রে গৃহীত হতে বাধা দেয় । যার ফলে LDL কোলেস্টেরল বাড়ার সুযোগ পায় না । এছাড়া এই সবজিতে উপস্থিত রয়েছে একাধিক জরুরি অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট । আর সেই উপাদান হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে । কোলেস্টেরলের সমস্যা নিয়ে যারা দীর্ঘদিন ভুগছেন , গাজর তাদের সাহায্য করতে পারে ।

ব্রকলি ঃ ব্রকলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার , ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট । যা কোলেস্টেরল মাত্রা কমাতে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে । যে কারণে ব্রকলি খেলে শরীর সুস্থ থাকে এবং দেহে প্রদাহ কমে । হার্টের অসুখ দূরে থাকে । ব্রকলি খারাপ কোলেস্টেরল বশে আনতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়ানোর কাজে সিদ্ধহস্ত ।

লাউ ঃ লাউয়ে প্রচুর পরিমানে জল রয়েছে । ফলে এই সবজি খেলে শরীর ডিটক্স হয় । এতে মজুত রয়েছে ফাইবার , যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । ফলে হার্ট সুস্থ থাকে । এছাড়া নিয়মিত লাউ খেলে দ্রুত গতিতে ওজন কমে ।

পালং শাক ঃ পালং শাক একটি পাতাযুক্ত সবুজ সবজি যা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্টে সমৃদ্ধ । এতে উচ্চ পরিমাণে ফাইবার থাকে , যা কোলেস্টেরল স্তর কমাতে সাহায্য করে । এছাড়া , পালং শাকে রয়েছে ভিটামিন কে এবং ফোলেট , যা রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয় এবং ধমনীকে সুস্থ রাখে । .

রসুন ঃ ভারতীয় রান্নাঘরে রসুন খুবই প্রচলিত , যেটি সুগন্ধি যোগ করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে । রসুনের মধ্যে এলিসিন রয়েছে, যেটি একটি যৌগ যা , LDL কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করে এবং ধমনীর কঠিনতা প্রতিরোধ করে । সবচেয়ে বেশি উপকার পেতে গেলে কাঁচা বা হালকা রান্না করে খাওয়াই শ্রেয় ।
এই সমস্ত সবজিগুলি নিয়মিত খান , কিছুদিনের মধ্যেই আপনার শরীর তার প্রভাব বুঝতে পারবে । গাদা গাদা ওষুধ ন খেয়ে এই সবজির উপর আপনি ভরসা করতে পারেন ।