Date Seed Benefits :

ড্রাই ফ্রুট আমরা প্রায় সকলেই খেয়ে থাকি । এটি শরীরকে নানা ধরনের রোগ থেকে রক্ষা করে । তবে খেজুরের মতো এর বীজেও লুকিয়ে রয়েছে জাদুকরী নানা গুন । বেশিরভাগ মানুষই খেজুর খেয়ে তার বীজ ফেলে দেয় । কারণ এগুলোর কোনো কাজে লাগে না বলে । কিন্তু খেজুরের বীজও আমাদের নানা ভাবে কাজে লাগতে পারে । খেজুর খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে নিশ্চয়ই জানা আছে , কিন্তু এর বীজও স্বাস্থ্যের জন্যই খুব উপকারী । খেজুরের বীজে অনেক পুষ্টি উপাদান থাকে যা অনেক স্বাস্থ্যগত সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে । খেজুরের বীজ গুঁড়ো করে তা স্মুদি , দই বা অন্যান্য জিনিসে যোগ করা যেতে পারে । খেজুর ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো না হলেও , খেজুরের বীজ এদের জন্য খুবই উপকারী ।

খেজুরের বীজ গুঁড়ো হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে । এই বীজের গুঁড়ো গরম জল দিয়ে কফি বা চায়ের মতো খাওয়া যেতে পারে । এটি ক্যাফেইন মুক্ত কফি কার্যকর ভাবে কাজ করতে পারে । খেজুরের আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় গ্লুকোজের ঘাটতি জোগান দিতে সাহায্য করে । এই ফলটিতে রয়েছে ভিটামিন এ , ভিটামিন বি , ম্যাগনেসিয়াম , সালফার , প্রোটিন , আয়রন এবং ফাইবার । তেমনই খেজুরের বীজেও রয়েছে নানা রকম পুষ্টি উপাদান । এতে রয়েছে প্রোটিন , ফাইবার , অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , পটাসিয়াম , , ম্যাগনেসিয়াম এবং জিঙ্কের মতো ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থও রয়েছে ।

আসুন জেনে নিই খেজুরের বীজ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপকারী —

হজম শক্তি উন্নত করে ঃ খেজুরের বীজে রয়েছে ফাইবার , যা হজম শক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় । পাচনতন্ত্রকে কার্যক্ষমতা বাড়াতে চাইলে নিয়মিত খেজুরের বীজের গুঁড়ো খেতে পারেন । এই বীজের গুঁড়ো অন্ত্রের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে । বিপাকহার ভালো রাখতে এই বীজের জুড়ি মেলা ভার । এছাড়া খেজুরের বীজ পাকস্থলীর জন্যও খুবই উপকারী ।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ঃ খেজুরের বীজের গুঁড়োতে প্রচুর পরিমানে ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে । এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে । এছাড়া খেজুরের বীজ হৃদরোগের জন্য উপকারী । খেজুরের গুঁড়ো কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । এটি খাওয়া হৃদরোগের জন্য খুবই উপকারী ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ঃ এই বীজে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকে । অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খেজুররে বীজ খুবই উপকারী । খেজুররে বীজের গুঁড়ো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে ।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ঃ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খেজুরের বীজ কার্যকর ভাবে ব্যবহার করা হয় । খেজুরের বীজ খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে ।

ত্বকের ও চুলের জন্য উপকারী ঃ ত্বকের জন্যও খুব উপকারী খেজুররে বীজ । এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয় । এই বীজের গুঁড়ো বানিয়ে স্ক্রাব হিসেবে ব্যবহার করা যায় । এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বক উজ্জল করে । খেজুররে বীজ ফেস প্যাক হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে । এছাড়া , খেজুরের বীজ থেকে তৈরি করা যায় তেলও । এই তেল চুলের যত্নে ভালো কাজ করে । এই তেল চুলের বৃদ্ধি বাড়ায় এবং চুলকে শক্তিশালী করে ।

ওজন কমাতে সাহায্য করে ঃ খেজুরের বীজে উপস্থিত রয়েছে ফাইবার যা দীর্ঘ সময় ধরে পেট ভরা রাখে , যা আপনাকে কম খেতে বাধ্য করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে । তাই ওজন কমাতে চাইলে এই বীজের ওপর ভরসা রাখতে পারেন ।

ক্যান্সার থেকে সুরক্ষা ঃ খেজুরের বীজে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট , যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে সাহায্য করে ।

শরীরকে দূষণমুক্ত করে ঃ শরীরকে প্রাকৃতিক ভাবে দূষণমুক্ত করতে পারে খেজুরের বীজের গুঁড়ো । খেজুরের বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট গুলি কোষগুলিকে জারণ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহাজ্য করে । পাশাপাশি শরীরের প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে এটি । আমাদের অনেক দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমতে পারে এটি ব্যবহার করে । এছাড়া খেজুরের বীজ খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে পারে ।

খেজুররে বীজ কি ভাবে খাবেন —খেজুর খাওয়ার পর তার বীজটিকে আগে ভালো করে ধুয়ে নিন । দেখবেন বীজের গায়ে জাতে খেজুররে কোনো আশ লেগে না থাকে । তারপর কয়েকদিন তানা রোদে বীজগুলি শুকিয়ে নিতে হবে । বীজগুলি ভালো করে শুকোনো হয়ে গেলে । সেই শুকোনো বীজ নিয়ে কড়াইতে শুকোনো খোলায় ভালো করে কিছুক্ষণ নেড়ে নিন । তারপর ঠাণ্ডা হতে রেখে দিন । ঠাণ্ডা হয়ে গেলে খেজুরের বীজগুলি মিক্সিতে মিহি করে গুঁড়ো করে নিন । এরপর কৌটে রেখে দিন । প্রতিদিন হালকা গরম জলে ১ থেকে ২ চামচ গুলে সেই জল খালি পেটে খেয়ে নিন । এতে উপকার পাবেন হাতেনাতে ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top