ড্রাই ফ্রুট বা শুকনো ফল হিসেবে আমরা অনেকেই কিশমিশ খেয়ে থাকি । এটি এমন একটি খাবার যেখানে বহু রোগ থেকে দূরে থাকার চাবিকাঠি রয়েছে । সকালে উঠে কিশমিশ খাবার চল রয়েছে । এছাড়া প্রতিদিন আমণ্ড , বাদাম , কিশমিশ , এক মুঠো পেস্তা খেতে পারলেও দারুন উপকার পাবেন । আবার অনেকেই কিশমিশ ভেজানো জল খেয়ে থাকে । ভেজানো কিশমিশের মতোই পুষ্টিকর কিশমিশ ভেজানো জল । এই জল আমাদের শরীরে ডিটক্স ওয়াটার হিসেবে কাজ করে । ভেজানো কিশমিশ স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী । কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় , ভেজানো কিশমিশ খেয়ে নিলেও জলটা ফেলে দেন । কিন্তু একাধিক ধরনের রোগ থেকে দূরে রাখে এই কিশমিশ ভেজানো জল ।

কিশমিশ ফাইবার , ক্যালসিয়াম , পটাশিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম , আয়রন ও অন্যান্য অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টির সমৃদ্ধ উৎস । কিশমিশে আছে নানা ধরনের ভিটামিন ও মিনারেল । কিশমিশ না খেয়ে শুধু কিশমিসের জল খেলেও ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে প্রবেশ করে । আয়ুর্বেদ অনুসারে , প্রতিদিন সকালে খালি পেটে কিশমিশের জল খেলে তা শরীরের জন্য আশ্চর্যজনক উপকারিতা প্রদান করতে পারে । তবে জানেন কি , সকালে উঠে খলি পেটে কিশমিশ ভেজানো জল খেলে তার উপকার কতটা । চলুন তা এখন জেনে নেওয়া যাক ।

রক্তাল্পতা ঃ কিশমিশে প্রচুর পরিমানে আয়রন থাকে , যা শরীরে হিমগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে । পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত কণিকা তৈরি না হলে রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয় । এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে কিশমিশ ভেজানো জল । কারণ , কিশমিশ রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে । মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায় ।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে ঃ কিশমিশে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম থাকে , যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে । উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কিশমিশের ভূমিকা রয়েছে । আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপ সমস্যায় ভোগেন তাহলে অবশ্যই কিশমিশ ভেজানো জল খান ।

হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ঃ কিশমিশে রয়েছে বোরন ক্যালসিয়াম , যা হাড়ের স্বাস্থ্য এবং শক্তির জন্য অপরিহার্য । এটি জলে ভিজিয়ে রাখলে এই খনিজগুলি আরও ভালো ভাবে শোষিত হয় ।
হজমশক্তি বাড়ায় ঃ কিশমিশে ফাইবার থাকার কারণে এই জল খেলে হজমশক্তি উন্নত হয় । যা মলত্যাগে সাহায্য করে । সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন যদি কিশমিশ ভেজানো জল খেতে পারেন তাহলে আপনার হজম ক্ষমতা বাড়বে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমসা দূর হয়ে যাবে । এছাড়া রোজ সকালে খালি পেটে কিশমিশ খেলে এটি আপনার হজমশক্তিকে শক্তিশালী করবে ।

রোগ প্রতিরোধ বাড়ায় ঃ নিয়মিত কিশমিশ ভেজানো জল খান । কারণ , কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের পাশাপাশি ফেনোলিক যৌগের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট রয়েছে । যা রোগের সাথে লড়াই করার ক্ষমতা বাড়ায় বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ঃ কিশমিশের মধ্যে বেশ কিছু ক্যান্সাররোধী উপাদান রয়েছে । এতে থাকে ক্যাটেটিনস ও পলিফেনল , যা ক্যান্সার ঠেকাতে সাহায্য করে ।

লিভার ও কিডনি ভালো রাখে ঃ লিভারের সমস্যা দূর করতে কিশমিশ জলের বেশ গুরুত্ব রয়েছে । কিশমিশের জল বিশেষ করে লিভারকে ডিটক্সফাই করতে খুবই কার্যকারী । এটি আপনার লিভারকে সুস্থ ও কর্মক্ষমতা রাখতে সাহায্য করে । এছাড়া কিডনির সমস্যা দূর করতে কিশমিশের ভেজানো জল সক্ষম । লিভার ও কিডনির সমসা হলে ক্ষতিকারক পদার্থ শরীরে জমতে শুরু করে এবং তা আমাদের অসুস্থ করে তোলে । সেক্ষেত্রে কিশমিশ ভেজানো জল সেই কাজটা ভালোভাবে করে ।
মুখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ঃ কিশমিশে ফাইটোক্যামিকেল থাকে । যা মুখের গহ্বর এবং মাড়ির রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধিকে বাধা দেয় ।

স্ট্রেস কমায় ঃ কিশমিশে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেণ্ট থাকে , যা শরীরকে ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে , অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায় ।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে ঃ কিশমিশে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকার জন্য অনেকক্ষণ পেট ভর্তি থাকে । ফলে অনেকক্ষণ খিদে পায় না ফলস্বরূপ আপনার ওজন থাকে নিয়ন্ত্রণে ।
শক্তি বৃদ্ধি করে ঃ কিশমিশের জল ফ্রুক্তোজ এবং গ্লুকোজের একটি প্রাকৃতিক উৎস , যা তাৎক্ষনিক শক্তি বৃদ্ধি করে এবং সামগ্রিক জীবনীশক্তি উন্নত করে ।

গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধান করে ঃ যাদের গ্যাস্ট্রিক এবং বদহজমের সমস্যায় রয়েছে তারা প্রতিদিন খালি পেটে কিশমিশ ভেজানো জল খাওয়া উচিত । এতে সুবিধা পাবেন । কিশমিশের জলে শীতল করার গুন রয়েছে , যা পেটে অ্যাসিড কমিয়ে অ্যাসিডিটি থেকে মুক্তি দেয় । অন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী কিশমিশের জল । এটিতে অ্যান্টি – ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে , যা অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে । ফলে পেতের সমস্যা কমতে শুরু করে । কয়েক দিন খেলেই সুফল পাবেন ।